ফুটসল বিশ্বকাপার সুজাতা প্রচারের আলো থেকে দূরে

631

শুভজিত্ দত্ত, নাগরাকাটা : প্রচারের আলো থেকে বহু দূরে থাকা ফুটসল খেলার আরও সম্প্রসারণ ঘটুক এটাই চাইছেন এ রাজ্যের বিশ্বকাপার সুজাতা রাই। দার্জিলিংয়ের কন্যা সুজাতা ২০১৯ সালে লন্ডনে হোমলেস ওয়ার্ল্ডকাপে ভারতের হয়ে মহিলাদের ফুটসল টিমে প্রতিনিধিত্ব করে এসেছেন।  ৩৩টি দেশ ওই বিশ্বকাপে অংশ নেয়। ভারতের মহিলা দল সপ্তম স্থান অধিকার করে। বিশ্বকাপের সবকটি খেলাতেই তিনি দেশের জার্সি পরে মাঠে নামেন। সুজাতা বলেন, ফুটসল বলে যে একটা খেলা আছে অনেকেই জানেন না। ফুটবলের থেকেও এই খেলায় শারীরিক সক্ষমতা আরও বেশি প্রয়োজন। উপস্থিত বুদ্ধির প্রয়োগও অত্যন্ত জরুরি। এই ধরনের খেলায় পাহাড় ও ডুয়ার্সের মেয়েদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। যদিও আক্ষেপের বিষয় প্রচার-প্রসার নেই। প্রয়োজন সরকারি স্তর থেকে সুযোগসুবিধা প্রদানেরও।

ফুটসল বিশ্বকাপার সুজাতা প্রচারের আলো থেকে দূরে| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal Indiaঘুমের বাসিন্দা সুজাতার প্রশিক্ষণের শুরু নাগরাকাটায়। এখানে একটি মেয়েদের ফুটবল টুর্নামেন্টে খেলার সময় তাঁর প্রতিভা নজরে আসে কোচ গৌতম গুহরায় ও মহিলা ফুটবলের অন্যতম সংগঠক মদন ভুজেলের। ডুয়ার্সের চা বাগান ও বনবস্তি থেকে অজস্র খেলোয়াড় তুলে আনার কারিগর ওই গৌতম-মদন জুটি। যার অন্যতম উদাহরণ মেয়েদের জাতীয় দলের খেলোয়াড় মুজনাই বাগানের অঞ্জু তামাং। তাঁরা সুজাতার ফুটবলের দক্ষতা দেখে সেসময় এখানকার ইউরোপিয়ান ক্লাব মাঠে চলা তাঁদের কোচিং ক্যাম্পে শামিল হওয়ার প্রস্তাব দেন। এরপর শুরু হয় তাঁর ফুটবলের নিবিড় চর্চা। পাহাড় থেকে আসা-যাওয়ার মাধ্যমে কোচিং চলতে থাকে। সেটা ২০১৬ সালের ঘটনা। সেসময় সুজাতা থাকতেন গ্রাসমোড় চা বাগানের আরেক কৃতী খেলোয়াড় যশোদা ছেত্রীর বাড়িতে। যশোদা কলকাতা মহিলা ফুটবল লিগে খেলেন। ফুটসলের বিশ্বকাপে দেশের জার্সি পরার নেপথ্যে সুজাতার জীবনে লুকিয়ে রয়েছে ফুটবলই। কলকাতা মহিলা ফুটবল লিগে খেলার সময় তিনি রাজ্যের ফুটসল দলে সুযোগ পান। জাতীয় চ্যাম্পিয়ানশিপে মুম্বইয়ে খেলতে গিয়ে সেখানে নজর কেড়ে নেন নির্বাচকদের। নাগপুরে দুবারের ট্রায়ালের পর আটজনের চূড়ান্ত দলে ঠাঁই হয় তাঁর। এরপর সেখান থেকে সোজা স্কটল্যান্ডের প্রস্তুতি শিবিরে। তারপর লন্ডনের আসরে অংশ নেওয়া। ফুটসলে প্রতি টিমে ৫ জন করে খেলোয়াড় থাকেন।  বিশ্বকাপে খেলে আসার পর একমাত্র পাহাড় ছাড়া সুজাতা অবশ্য অন্য কোথাও থেকে সেভাবে সংবর্ধনা পাননি। মাসতিনেক আগে খেলার সুবাদে তিনি দার্জিলিং থানায় সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি পেয়েছেন। পাহাড় বা ডুয়ার্স কোথাও ফুটসলের সুযোগ না থাকায় মেতে রয়েছেন ফুটবলকে নিয়ে। দুদিন নাগরাকাটায় ইউরোপিয়ান ক্লাবের কোচিংয়ের অনুশীলন করে একটি টুর্নামেন্ট খেলতে এখন তিনি গরুবাথানে। ওই কোচিং শিবিরের কচিকাঁচাদের উদ্বুদ্ধও করতে দেখা গিয়েছে সুজাতাকে। কোচ গৌতম গুহরায় বলেন, স্কিল ও স্ট্যামিনায় ফুটবল ও ফুটসলের মধ্যে পার্থক্য কিছু নেই। বরঞ্চ ফুটসল আরও কঠিন খেলা। যেদিন প্রথম দেখি তখনই বুঝেছিলাম ওকে দিয়ে হবে। সুজাতা আমাদের গর্ব।

- Advertisement -