বায়ার্ন ছাড়ার জল্পনায় সিলমোহর ফ্লিকের

মিউনিখ : মরশুম শেষে বায়ার্ন মিউনিখের কোচের পদ ছাড়ছেন হ্যান্স-ডিয়েটর ফ্লিক। কোচ-বিতর্কে জল ঢেলে একথা জানিয়েছেন তিনি। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ফ্লিক মুখ না খুললেও মনে করা হচ্ছে, জার্মানির হেড স্যার হতে চলেছেন তিনি। তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদে জুলিয়ান নাইজেলসম্যানকে দেখতে চাইছেন বায়ার্ন কর্তাদের একাংশ।

চলতি বছর ইউরোর পর জোয়াকিম লো জাতীয় দলের দায়িত্ব ছাড়বেন। তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে প্রথম থেকেই ফ্লিকের নাম উঠে আসছে। বায়ার্নের সঙ্গে ২০২৩ পর্যন্ত চুক্তি থাকলেও তিনি মরশুমের শেষে ক্লাবে থাকবেন কি না তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। এমনকি বায়ার্নের শীর্ষকর্তা ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার ফ্লিককে বিষয়টি স্পষ্ট করতে বলেন। এরপরই মুখ খোলেন ফ্লিক। শনিবার রাতে উলভসবার্গ ম্যাচের শেষে তিনি বলেন, আমি এই মরশুম শেষে বায়ার্ন ছাড়ছি। প্যারিস (সাঁ জাঁ) ম্যাচের পরই বিষয়টি ক্লাব কর্তাদের জানিয়েছি। আমি চুক্তি থেকে বেরোতে চাইছি।

- Advertisement -

২০১৯-২০ মরশুমের শুরুতে নিকো কোভাচের সহকারী হিসেবে বায়ার্নে যোগ দিয়েছিলেন ফ্লিক। খারাপ পারফরমেন্সের জন্য মাস চারেক পর নিকোকে ছাঁটাই করে ফ্লিকের হাতে দল তুলে দেয় ক্লাব কর্তৃপক্ষ। একই দল নিয়ে অপরাজেয় ফুটবল উপহার দেন তিনি। গত মরশুমের সম্ভাব্য ৬টি ট্রফিই জিতেছে বায়ার্ন। এমনকি এবারও বুন্দেশলিগার শীর্ষে রয়েছে বাভারিয়ান জায়ান্টরা। এ প্রসঙ্গে ফ্লিকের বক্তব্য, এই সিদ্ধান্ত নেওয়াটা সহজ ছিল না। এই দুই মরশুমে আমরা অনেক খেতাব জিতেছি। তবে আমি এই সংবাদ নিজে ফুটবলারদের জানাতে চেয়েছিলাম।

বায়ার্নের দাযিত্বে আসার শুরুটা অসাধারণ হলেও কাঁটা জুটেছে ফ্লিকের কপালে। দলের স্পোর্টিং ডিরেক্টর হাসান সালিহামিজিচের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয়। একদিকে ফ্লিকের পছন্দের তালিকায় না থাকা ডগলাস কোস্তা, বৌনা সারের মতো ফুটবলারদের সই করিয়েছে বায়ার্ন। পাশাপাশি ইভান পেরিসিচকে ছেড়ে দেওয়া বা ডেভিড আলাবার সঙ্গে চুক্তি না বাড়ানো নিয়ে ক্লাবের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে ফ্লিকের। ফলে তাঁর ক্লাব ছাড়ার সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছিল। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হার সেই সম্ভাবনা আরও জোরালো করে।

তবে জার্মানির কোচ হওয়া নিয়ে মুখ খোলেননি ফ্লিক। তাঁর কথায়, ভবিষ্যতে কী করব তা এখনও জানি না। এমনকি আমার সঙ্গে অলিভার বিয়েরহফের (জার্মানির জাতীয় দলের ডিরেক্টর) এই নিয়ে এখনও কোনও কথা হয়নি। জাতীয় দলের কোচ হওয়া সম্মানের। তবে আমি এখনই এই বিষয়ে ভাবতে চাই না। ২০০৬ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর‌্যন্ত জোয়াকিম লোর সহকারী হিসেবে জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ফ্লিক।