টানা বৃষ্টিতে ক্ষতির মুখে গজলডোবার কৃষকরা

101

ওদলাবাড়ি: টানা বৃষ্টি ও তিস্তা নদীর অস্বাভাবিক জলস্ফীতিতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে গজলডোবার কৃষকরা। তিস্তা ব্যারেজের ভাটিতে প্রায় হাজার একর কৃষিজমিতে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চাষাবাদ করছেন গজলডোবা, রংধামালি, টাকিমারি এলাকার কয়েকশো কৃষক। এলাকাটি জেলার কৃষিভাণ্ডার নামে পরিচিত। মূলত আলু, লাউ, শসা, ধান সহ অন্যান্য মরশুমি সবজি চাষের জন্য এই এলাকার সুখ্যাতি রয়েছে। শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, ওদলাবাড়ি, মালবাজারতো বটেই সেখানকার উৎপাদিত ফসল দীর্ঘদিন ধরেই পাড়ি দেয় ভিনরাজ্যেও। এবারও বিঘার পর বিঘা জমিতে আলু, লাউ, শসা, ধান-এসবের চাষ করেছিলেন এলাকার রূপচাঁদ বৈদ্য, দিলীপ সরকার, বৃন্দাবন সরকার সহ অন্য কৃষকরা।

গত দু’দিনের প্রবল বৃষ্টিতে পাহাড় থেকে নেমে আসা ডুয়ার্সের নদীগুলির পাশাপাশি তিস্তাতেও জলস্তর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। একসময় ব্যারেজের লকগেটগুলি তুলে দিয়ে পরিস্থিতি সামলাতে হয় ব্যারেজ কর্তৃপক্ষকে। যার ফলে তিস্তার জলরাশি বাঁধ উপচে কৃষি জমিতে ঢুকে পড়ে। বিঘার পর বিঘা জমি জলে ডুবে যায়। কৃষক রূপচাঁদ বৈদ্য জানান, যেভাবে ফসল নষ্ট হয়েছে তাতে ক্ষতি সামলে কিভাবে ঘুরে দাঁড়াবেন জানেন না। বৃন্দাবন সরকার নামে আরও এক কৃষক জানান, একেকজনের গড়ে প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের মুখাপেক্ষী স্থানীয় কৃষকরা। কৃষকদের দাবি, বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে অবিলম্বে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হোক। বিষয়টি নিয়ে মাল ব্লকের কৃষি বিভাগের সহ কৃষি অধিকর্তা তনুরুচি বর্মন জানান, গজলডোবার কৃষকদের অনেকেরই শষ্য বিমা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখে রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে। তিনি জানান, আমন ধানের খুব একটা ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। কিন্তু লাউ, শসা, বিভিন্ন শাকসবজি চাষের কোনও বিমা এখনও চালু হয়নি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

- Advertisement -