স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে বিক্ষোভে শামিল গজলডোবার কৃষকরা

158

গজলডোবা: কৃষিজমি রক্ষার্থে তিস্তার পূর্বপারে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে বিক্ষোভে শামিল হলেন গজলডোবার কৃষকরা। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ তিস্তা ব্যারেজের ক্যানেল রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে অবরোধ। যার জেরে ক্য়ানেল রোডের দু’ধারে প্রচুর যানবাহন আটকে পড়ে। ঘটনাস্থলে পৌঁছোন ক্রান্তি ফাঁড়ির ওসি সৈকত ভদ্র সহ অন্য পুলিশকর্মীরা। অবরোধস্থল থেকেই ওসি ফোন মারফত মালের বিডিও’র সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বিক্ষোভরত কৃষকদের সঙ্গে বিডিও’র কথা বলিয়ে দেন। জানা গিয়েছে, প্রশাসনিক স্তরে আগামী সাতদিনের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে জেলা শাসক আন্দোলনকারী কৃষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসে পরবর্তী পদক্ষেপ করবেন, এই আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা।

এলাকার কৃষিজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, বর্ষা এলেই গত কয়েক বছর ধরে তিস্তা নদীর পূর্বপারের অসংরক্ষিত ওই এলাকায় বিঘার পর বিঘা উর্বর কৃষিজমি একটু একটু করে নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। গতবছর অগাস্টে এই ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করতেই নড়েচড়ে বসেন এলাকার কৃষকরা। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দুই স্তরেই সেই সময় কৃষকদের স্বার্থে তিস্তার পূর্বপারের অসংরক্ষিত এলাকায় বাঁধ তৈরির দাবির যৌক্তিকতা মেনে নেওয়া হয়। কিন্তু তারপর প্রায় পাঁচমাস পেরিয়ে গেলেও বিষয়টি নিয়ে না প্রশাসনিক স্তরে, না রাজনৈতিক স্তরে, কোনও উদ্যোগ চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ কৃষকদের।

- Advertisement -

দলমত নির্বিশেষে এলাকার কৃষক সঞ্জীব বাড়ৈ, নারায়ণ রায়, মুকুল বাওয়ালি, শ্রীহরি বৈদ্য, জগবন্ধু মণ্ডল প্রমুখ এদিন জানান, জেলার অন্যতম কৃষিভাণ্ডার বলে পরিচিত তিস্তাচরের গজলডোবা, আপালচাঁদ, সিধাবাড়ি প্রভৃতি গ্রামগুলোর উর্বর কৃষিজমি দীর্ঘ বর্ষায় কয়েক বছর ধরেই তলিয়ে যেতে শুরু করেছে ভরা তিস্তার গর্ভে। গজলডোবা ছাড়াও চ্যাংমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের আপালচাঁদ গ্রামও নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। গত বর্ষায় প্রায় দু’শো বিঘা কৃষিজমি নদীতে বিলীন হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের। কৃষিজমি বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে বর্ষার আগে এখনই কোনও পদক্ষেপ না করা হলে আগামীদিনে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে বলে আশঙ্কা এলাকার কৃষিজীবী পরিবারগুলোর।

কৃষক সুধীর বিশ্বাস, এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য ও কৃষক রাধেশ্যাম মণ্ডল জানান, করোনা আবহে কৃষিপণ্যের সঠিক বাজার না পেয়ে এমনিতেই তাঁরা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তারপরও ফি বছর বর্ষায় তিস্তা জমি গিলতে শুরু করেছে। গত বর্ষায় ব্যারেজের নিম্ন অববাহিকায় জলের তীব্র স্রোতে মটরশুঁটি, আলু, বেগুন সহ প্রায় ২০০ বিঘা কৃষিজমি নদীতে তলিয়ে গিয়েছে। নদী যে গতিতে পূর্ব দিকে সরে আসছে তাতে কপালে ভাঁজ পড়তে শুরু করেছে সকলের। কৃষিজমি রক্ষার জন্য জরুরি ভিত্তিতে অবিলম্বে প্রশাসনিক পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছেন সকলে।

প্রসঙ্গত, গজলডোবার ব্যারেজের পর থেকে শুরু করে তিস্তা যতো বাংলাদেশের দিকে এগিয়েছে ততই নদীর দুই পাড়ের হাজার হাজার বিঘা উর্বর কৃষিজমিতে চাষাবাস বেড়ে উঠেছে। জেলায় উৎপাদিত কৃষিপণ্যের একটা বড় অংশ তিস্তার পাড়ের এই গ্রামগুলোতেই উৎপন্ন হয়। নদীভাঙন যদি এভাবেই চলতে থাকে তবে এলাকার গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলেই আশঙ্কা তথ্যাভিজ্ঞ মহলের।

চ্যাঙমারি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান অনুকূল বিশ্বাস জানিয়েছেন, ১০০ দিনের কাজের মাধ্যমে প্রায় ৯ বছর আগে ওই এলাকায় মাটির বাঁধ তৈরি করেছিল চ্যাংমারি গ্রাম পঞ্চায়েত। গত বর্ষায় তা ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গিয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে আগামী বর্ষার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অনুকূলবাবু।

বিষয়টি নিয়ে জেলা শাসক ও সংশ্লিষ্ট সেচ দপ্তরের কর্তাদের সঙ্গে কথা বলে যত দ্রত সম্ভব সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন মালের বিডিও বিমানচন্দ্র দাস।