নেই শব্দবাজির তাণ্ডব, স্বাস্থ্যবিধি মেনে আলোর উৎসবে মাতল গাজোল

237

গাজোল: শব্দবাজি কিংবা আতসবাজি নয়, এবারের দীপাবলি সত্যিকারের আলোর উৎসব হয়ে উঠল গাজোলে। সৌজন্যে কলকাতা হাইকোর্টের রায় এবং তার সঙ্গে ছিল পুলিশের টহলদারি। সেইসঙ্গে যোগ হয়েছিল সাধারণ মানুষের সচেতনতা। আর তার জেরেই শব্দবাজির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে গাজোলের আমজনতা। তবে এদিক-ওদিক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বেশকিছু বাজি ফেটেছে। তবে তা নগণ্য। সব মিলিয়ে এবারের কালীপুজো বাস্তবিকভাবেই আলোর উৎসব হয়ে উঠেছে।

করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও সম্পূর্ণ আচার-অনুষ্ঠান মেনে এবারেও পূজিতা হয়েছিলেন বর্ধমানের জমিদার দুর্লভরাম নন্দী চৌধুরী এস্টেটের শ্যামাকালী। প্রতিবছরের মতো এবারেও জমিদারের কাছারি বাড়ি থেকে ভক্তদের কাঁধে চেপে নির্দিষ্ট পথ ধরে মন্দিরে এসেছিলেন শ্যামা মা। নিয়ম মেনে গতকাল রাতেই আবার ভক্তদের কাঁধে চেপে নির্দিষ্ট এলাকায় ঘুরিয়ে কালী দিঘিতে বিসর্জন দেওয়া হয় মাকে। এছাড়াও ভালো ভিড় হয়েছিল তালতলার পঞ্চমুখী কালী মন্দিরে। প্রচুর দর্শনার্থী এবং পুণ্যার্থীর সমাগম হয়েছিল এই মন্দিরেও। সব মিলিয়ে দুই জায়গাতেই কয়েক হাজার পাঁঠা বলি হয়েছিল। সম্পূর্ণ আচার-অনুষ্ঠান মেনে গাজোল থানা আবাসন মহিলা সমিতি আয়োজিত কালীপুজোও হয়েছে জাঁকজমকভাবে।

- Advertisement -

এছাড়াও গাজোল শহর এলাকার মধ্যে একতা, থানা মোড় এএস, অভিযাত্রী ক্লাব, ঝংকার ক্লাব, বিদ্রোহী ক্লাব, কদুবাড়ি মোড় শক্তি সংঘ, লিসা ক্লাব, মহাকাল প্রভৃতি পুজোগুলোতে ভালো ভিড় হয়েছিল। ভালো ভিড় হয়েছিল তুলসীডাঙা নেতাজি স্মৃতি চক্র আয়োজিত ২৪ হাতের কালী এবং ২৫ হাতের শিব প্রতিমা দেখতে। পুজোর খরচ বাঁচিয়ে বেশকিছু পুজো কমিটি দুস্থদের বস্ত্র এবং কম্বল দান করেছে। অন্যদিকে গাজোল শহর থেকে একটু দূরে ময়না ইয়ুথ ক্লাব এবারও বিশেষ নজর কেড়েছে। তাঁদের এবারের থিম ছিল “মা নিস্তারিণীর দর্শন নীলকন্ঠ বনে”। অপরূপ চিত্রকলা এবং আলোর মাধ্যমে সাজিয়ে তোলা হয়েছে এই থিম, যা দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন প্রচুর মানুষ।

সব মিলিয়ে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবেই এবার গাজোলে শেষ হয়েছে শ্যামা আরাধনা। গতকাল নিয়ম মেনে বেশকিছু প্রতিমা বিসর্জন হয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন ক্লাবের প্রতিমাগুলি আজ থেকে বিসর্জন শুরু হবে। মঙ্গলবার বিসর্জন বন্ধ থাকলেও আশা করা যাচ্ছে বুধবারের মধ্যে সমস্ত প্রতিমা বিসর্জন হয়ে যাবে। বিসর্জনের শোভাযাত্রাতেও যাতে কোনওরকম আতসবাজি শব্দবাজি ব্যবহার না করা হয় তার উপর বিশেষ দৃষ্টি রাখছে গাজোল থানার পুলিশ।