পরিযায়ীদের রক্তে রাঙা রাজপথ নিয়ে গান বাঁধলেন গাজোলের অজিত

442

গাজোল: করোনা পরিস্থিতির জেরে দেশে লাগু হয়েছিল লকডাউন। বন্ধ হয়ে গিয়েছিল গণপরিবহন ব্যবস্থা। যার ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে পড়েছিল পরিযায়ী শ্রমিকেরা। এরফলে, হাজার হাজার মাইল পথ হেঁটে চলেছেন পরিযায়ী শ্রমিককেরা। পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশার চিত্র ফুটে উঠেছিল মুদ্রণ মাধ্যম এবং বৈদ্যুতিন মাধ্যমে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে ছিল পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশার কাহিনী। সরকারি এবং বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা এ সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের দিকে বাড়িয়ে দিয়েছিল সহযোগিতার হাত। এবার পরিযায়ী শ্রমিকদের এই দুর্দশার কথা গানের মাধ্যমে প্রকাশ করলেন গাজোলের বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী অজিত সরকার।

তাঁর এই গান এতটাই মনোগ্রাহী হয়েছে যে দেশের বিশিষ্ট মিউজিক কোম্পানি “জি মিউজিক” গানটি প্রকাশ করেছে। বলতে গেলে পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশা নিয়ে গান গেয়ে নজির তৈরি করেছেন কলেজ পড়ুয়া অজিত। এছাড়াও তাঁর গাওয়া কিছু মৌলিক গান অন্যান্য চ্যানেলও প্রকাশ করতে চলেছে। অজিতের গান এখন গাজোলবাসীর মুখে মুখে। এলাকার ছেলেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তাঁরা। সাধারণ পরিবারের ছেলের গান গোটা দেশ শুনছে এখন।

- Advertisement -

অজিতের বাড়ি গাজোল ব্লকের মাঝরা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। পড়াশোনার পাঠ তাঁর এখনও শেষ হয়নি। মালদার গৌড় কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র অজিত। একেবারে নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবা আনন্দ সরকার একজন সাইকেল মেরামতির কাজ করেন সংসার চালান। ছোট থেকেই গানের প্রতি তীব্র আকর্ষণ ছিল তাঁর। তাই অজিতের বাবা এতকষ্ট করেও ছেলেকে গান শিখিয়ে চলেছেন। নজরুল গীতি ও আধুনিক গান বেশি টানতো অজিতকে। চলতি বছরের শুরুতে সারা দেশে নজরুল গীতিতে সেরা হন তিনি। সর্বভারতীয় সঙ্গীত সমিতি আয়োজিত সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় তিনি সোনা পান। এছাড়াও চারজন মিলে তৈরি করত নানা ধরনের ভিডিও এ্যালবাম। এরইমধ্যে অভিজিৎ মামোন লাহিড়ী লিখে ফেলেন পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে একটি গান। সুরারোপও করেন তিনি। কয়েকদিন চর্চা করে গানটিকে তুলে ফেলে অজিত। প্রস্তুতি শুরু হয় গানটি রেকর্ড করার। দিন চারেকের মধ্যেই নিজের বাড়ির ছোট্ট স্টুডিওতে শুরু হয় রেকর্ডিংয়ের কাজ। মিউজিক অ্যারেঞ্জমেন্ট করেন প্রলয় রায় এবং অজিত সরকার। রেকর্ডের পর শুরু হয় চিত্রায়নের কাজ। আইটিআই এর কৃতি ছাত্র সমীর সিংহের পরিচালনায় শুরু হয় চিত্রগ্রহণের কাজ। গাজোল এর বিভিন্ন জাতীয় সড়ক এবং ফ্লাইওভারের উপরে গানটি চিত্রায়িত হয়।

সুরকার অভিজিৎ লাহিড়ী যোগাযোগ করেন জি মিউজিকের সাঙ্গে। গানটি পছন্দ হয় তাঁদের। এরপরই জি মিউজিক সারাদেশে প্রকাশ করে এই গানটি। অজিতের গাওয়া ‘শহরে শহরে কান্না’ গানটি ইতিমধ্যে হিট। লকডাউনের জেরে পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশার কথা গানের মাধ্যেমে তুলে এনেছেন তিনি।

অজিত বলেন, ‘পরিযায়ী শ্রমিকদের দেখে খুব কষ্ট হত আমাদের। কিন্তু, তাঁদের সাহায্য করার মত কিছুই ছিল না আমাদের। গানের মাধ্যমেই আমরা তাঁদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেছি। সারাদেশের মানুষ গানটিকে পছন্দ করেছেন এটি আমাদের সব থেকে বড় পাওনা। গানটির চিত্রপরিচালক সমীর সিংহ জানালেন, খুব তাড়াতাড়ি গানটি তৈরি করা হয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই গানটির চিত্রায়ন হয়েছে। মালদা জেলার মধ্যে এটি একটি বড় কাজ। এছাড়াও আগামী দিনে আরও একটি বড় কাজ “অন্তরালে” মুক্তি পেতে চলেছে। জি মিউজিক সহ বিভিন্ন মিউজিক কোম্পানির সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে।

অজিত সরকার যেমন আগামী দিনে একজন বড় সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তেমনি চিত্র পরিচালক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চান সমীর সিংহ। এক্ষেত্রে গোটা গাজোলবাসীর শুভকামনা রয়েছে তাঁদের প্রতি। মালদা জেলার সংস্কৃতির পীঠস্থান গাজোল থেকে উঠে আসুক আগামী দিনের সংগীত শিল্পী এবং চিত্রপরিচালক এমনটাই চাইছেন সকলেই।