করোনার প্রভাব আনাসদের পারফরমেন্সে, দাবি কোচের

পাতিয়ালা : করোনা সংক্রমণ এড়াতে জৈব সুরক্ষা বলয়ে কাটাতে হচ্ছে অ্যাথলিটদের। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তাঁদের পারফরমেন্সের ওপর, বাড়ছে চোট। এমনটাই মত ভারতের ৪০০ মিটার দৌড়ের কোচ গালিনা বুখারিনার।

বছর ছিয়াত্তরের গালিনা প্রায় দুদশক কোচিং করাচ্ছেন, ভারতীয় দলের দায়িত্বে চার বছর। আগে কখনও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি। তাঁর কথায়, এটা আমার কোচিং জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়। দুদিন অন্তর কোনও না কোনও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ফলে আমি অনুশীলনের রুটিন তৈরি করতে পারছি না। অ্যাথলিটরা দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে থাকায় মুষড়ে পড়েছে। করোনা সংক্রান্ত সুরক্ষাবিধির জন্য ওরা কোথাও যেতে পারছে না। এর প্রভাব ওদের পারফরমেন্সে পড়ছে। অ্যাথলিটদের সঙ্গে গালিনা নিজেও পাতিয়ালার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ স্পোর্টসে একপ্রকার বন্দি রয়েছেন।

- Advertisement -

ভারতীয়দের পরিবারপ্রীতি নিয়ে আগেও বহু বিদেশি কোচ সরব হয়েছেন। অ্যাথলিটদের পারফরমেন্স নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন গালিনাও। তাঁর কথায়, পরিবার ভারতীয় অ্যাথলিটদের জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু এখন ওরা পরিবারের কাছে যেতে পারছে না। এমনকি ইনস্টিটিউটের গেট পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি নেই ওদের। অ্যাথলিটদের গতি কমে যাওয়ার পেছনে এটা একটা বড় কারণ। আর মানসিক ক্লান্তির জন্য চোট-আঘাতও বাড়ছে। তবে কড়া সুরক্ষাবিধির পক্ষেই তিনি। বললেন, বয়স কম হওয়ার জন্য ওরা মাঝেমাঝে হতাশ হয়ে পড়ে। তবে আমি ওদের বোঝাই যে, এই সময়টা সকলের জন্যই কঠিন।

অ্যাথলিটদের মানসিক সমস্যা মেটাতেও উদ্যোগী হয়েছেন গালিনা। তাঁর কথায়, আপাতত ওদের পারফরমেন্স নজরকাড়া নয়। তবে আমি পথ খোঁজার চেষ্টা করছি। অ্যাথলিটদের মধ্যে আমোজ জেকব, অরোকিয়া রাজিব আর মহম্মদ আনাস ফর্ম ধরে রেখেছে। বাকিদের আরও পরিশ্রম করতে হবে। এর মধ্যে টম নোয়া ও অ্যালেক্স অ্যান্টনির চোট আছে। তবে অধিকাংশের মানসিক সমস্যা রয়েছে। আমি বিষয়টি নিয়ে ফেডারেশনের সঙ্গেও কথা বলেছি। সম্প্রতি অ্যাথলিটরা গালিনার জন্মদিন উদযাপন করেন, যা নিয়ে আপ্লুত তিনি।