শালকুমারহাট : আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের পশ্চিম সিরুবাড়ি লক্ষ্মীমেলায় মদ-জুয়ার রমরমা কারবার। মেলার মাঠেই প্যান্ডেলের ভিতরে প্রকাশ্যে প্রতি রাতে জুয়ার আসর বসছে। মেলার আশপাশে বেশকিছু অবৈধ মদের ঘাঁটি রয়েছে। এলাকার বাসিন্দারাই বলছেন, মেলা কমিটির সঙ্গে কয়েক লক্ষ টাকায় চুক্তি করে নিয়েছে জুয়াড়িরা। মাতব্বরদের রোষের মুখে পড়ার ভয়ে  বাইরের দর্শকদের অনেকেই মদ,জুয়া বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। জুয়ার আসর যে বসেছে তা মেনেও নিয়েছে মেলা কমিটি। তবে কমিটির দাবি,শনিবার রাতেই জুয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনও জুয়ার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

আলিপুরদুয়ার জেলায় সব থেকে বড়ো লক্ষ্মীপুজো ও আটদিন ব্যাপী লক্ষ্মীমেলা হয় পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম সিরুবাড়ি গ্রামে। শালকুমারহাট-শিলবাড়িহাট রাজ্য সড়কের পাশে প্রাইমারি স্কুলের মাঠে লক্ষ্মীপুজোর ক’দিন পর মেলা শুরু হয়। এই মেলায় হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়। আর্থিক ঘাটতি মেটাতে কয়েক বছর থেকে মেলায় ঢোকার জন্য প্রবেশ মূল্য চালু হয়। এজন্য গোটা মেলার মাঠ টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। এবার মেলায় প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি ৫ টাকা।

গত বৃহস্পতিবার এই লক্ষ্মীমেলার উদবোধন করেন পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ প্রধান সৌরভ পাল। ওইদিন থেকে জমে ওঠে মেলা। কিন্তু শনিবার হঠাৎ করেই মেলার প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি ৩০ টাকায় করায় মেলায় আসা বাইরের বহু মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এজন্য শনিবার রাতে অনেকেই মেলায় ঢোকেননি। তবে যারা মেলায় ঢোকেন তারা মেলা চত্বর ঘুরে অবাক হয়ে যান। কারণ মেলা চত্বরের মাঝে ও দক্ষিণ দিকে প্রকাশ্যেই প্যান্ডেলের ভিতরে থ্রো বল, চরকি সহ জুয়ার নানা আসর চলছে। ওইসব জুয়ার বোর্ডে যুবকরাই ভিড় করছে।

অভিযোগ, মেলার আশপাশে বেশ কিছু অবৈধ মদের ঘাটিও চলছে। এনিয়ে বাইরে থেকে আসা অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পশ্চিম কাঁঠালবাড়ি থেকে আসা বীরেন বর্মন বলেন,’এত টাকা দিয়ে মেলায় ঢুকে দেখি প্রকাশ্যে জুয়া চলছে। আশপাশে চলছে মদের ঘাঁটিও। এসব মেনে নেওয়া যায় না।’

মেজবিলের গৃহবধূ সন্ধ্যা বর্মন বলেন, ‘এত টাকা টিকিট হবে তা ভাবতেই পারিনি। এখন বাচ্চাদের নিয়ে এসে তো ফিরে যেতে পারি না। কিন্তু মেলার ভেতরে দেখা যাচ্ছে প্রকাশ্যেই জুয়া চলছে।’ স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,এক সময় এই মেলার সাথে যুক্ত থাকা প্রবীণ ব্যক্তিদের অনেকেই এখন ব্রাত্য। বিজেপির জেলা কমিটির সহ সভাপতি স্থানীয় জগদীশ অধিকারী এক সময় এই মেলায় ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন,’মদ,জুয়া অবশ্যই বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। অনেকেই জুয়ার ব্যাপারে প্রতিবাদ জানাচ্ছে।’

তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ প্রধান সৌরভ পাল বলেন,’ওই মেলার উদবোধন আমি করেছি ঠিকই। কিন্তু মদ,জুয়ার বিষয়টি ঠিক জানি না। খোঁজ নিচ্ছি।’ প্রধান সরোদিনী বর্মন বলেন,’গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে মেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জুয়ার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। জুয়ার অভিযোগের বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি।’ তবে মেলা কমিটির সম্পাদক পবিত্র অধিকারির দাবি,শনিবার রাতেই জুয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন,’আগামী যে ক’দিন মেলা চলবে আর জুয়া বসবে না।’ শনিবার রাতে প্রবেশ মূল্য বাড়ানোর বিষয়ে সম্পাদক বলেন,’এদিন রাতে অর্কেষ্ট্রা ছিল। এজন্য এলাকায় মাইকিংও করা হয়।’ স্থানীয় বয়স্কদের ব্রাত্য রাখার বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন। আলিপুরদুয়ার থানার আইসি রবিন থাপা বলেন,’ওই মেলার জায়গাটি নোট করে রাখছি। ওখানে জুয়া চলে থাকলে পদক্ষেপ করা হবে।’

ছবি : সিরুবাড়ি লক্ষ্মীমেলায় এভাবেই প্রকাশ্যে চলছে জুয়ার আসর।

তথ্য ও ছবি : সুভাষ বর্মন