রায়গঞ্জের অস্তলের মেলা ঘিরে মদ, জুয়ার আসর

332

দীপংকর মিত্র, রায়গঞ্জ : কালীপুজোর ৭ দিন পর রায়গঞ্জে জমে উঠল অস্তলের মেলা। প্রায় তিনশো বছরেরও বেশি সময় ধরে রায়গঞ্জ ব্লকের ৫ নম্বর শেরপুর অঞ্চলের খোকসার অস্তলপাটে বসে ঐতিহ্যবাহী এই মেলা। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে তিনদিন ধরে। বিভিন্ন জিনিসের পসরা সাজিয়ে যেমন বসেছেন দোকানিরা, ঠিক তেমনই মেলার বাহার বাড়াচ্ছে নাগরদোলা, চিত্রাহার ও ব্রেক ডান্স-ও। তবে এসবের পাশাপাশি এই মেলাকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে মদ এবং জুয়ার আসরও। এলাকাবাসীদের একাংশের অভিযোগ, এই মদ-জুয়ার আসরে গত দুদিনে লক্ষ লক্ষ টাকা খুইয়েছেন রায়গঞ্জ, হেমতাবাদ ও কালিয়াগঞ্জ  ব্লকের ১৫-২০টি গ্রামের বাসিন্দা। আর তার জন্য জুয়ার বোর্ডের মালিকদেরই দুষছেন গ্রামবাসীরা। প্রশ্ন উঠেছে, একটি অনুমোদিত মেলার মধ্যে কীভাবে জুয়া চলছে? শেরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য সুকান্ত দেবশর্মা বলেন, এই মেলার এখন বিশেষ আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মদ ও জুয়া। গত দুদিন থেকে রাত-দিন ব্যাপী চলছে এই মদ ও জুয়ার আসর। এতে এলাকার পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনই নিজেদের কষ্টার্জিত টাকা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে বাড়ি ফিরছেন যুবক ও শ্রমজীবী মানুষরা। এলাকার এক বাসিন্দা তথা অধ্যাপক কালেশ্বর বর্মন বলেন, খোকসার পাশেই বসেছে অস্তলের মেলা। এই মেলাকে কেন্দ্র করে আবার রমরমিয়ে চলছে জুয়ার আসর। দীর্ঘদিন ধরে বহু প্রতিবাদ করে দু-এক বছরের জন্য আমরা ওই জুয়ার আসর বন্ধ করতে পেরেছিলাম। তবে আবার সেই আসর ফিরে এসেছে স্বমহিমায়। তবে মেলার উদ্যোক্তাদের দাবি, এই মেলায় কোনো জুয়া বা মদের আসর বসেনি। মেলার মালিক বিজয় গোঁসাই বলেন, প্রায় ২৫০-৩০০ বছর ধরে এখানে মেলা বসছে। ভদ্রাকালীর পুজোকে কেন্দ্র করেই মূলত এই মেলা বসে। বুড়া গোঁসাই, রাম, লক্ষ্মণ, সীতা, শিব, হনুমান সহ বিভিন্ন দেবদেবীর পুজো হয় এখানে। তবে আমি শুনেছি য়ে এখানে মদ-জুয়ার আসর বসে। কিন্তু তাদের বারণ করলেও তারা কথা শোনে না। আজ মেলা কর্তপক্ষের তরফে ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে যাতে মেলার মধ্যে মদ বা জুয়ার আসর কেউ না বসায়।

মেলা কমিটির সদস্য ভারতী বর্মন বলেন, এখানে বিভিন্ন দেব-দেবীর পুজো হয়। সেই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় রাস ও কীর্তন। তবে মেলায় কোনো জুয়ার আসর বসতে দেওয়া হয়নি। মদও বিক্রি করতে দেওয়া হয়নি। অন্য কোথাও যদি এ ধরনের আসর বসে তবে তার দায় মেলা কমিটির নয়।

- Advertisement -