লোকসংস্কৃতির প্রসারের নামে জুয়ার আসর

নিশিগঞ্জ : শীত জাঁকিয়ে পড়ার আগেই নিশিগঞ্জ ও সংলগ্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বসছে জুয়ার আসর। অভিযোগ, কোথাও জলসা, আবার কোথাও লোকসংস্কৃতির প্রসারের নামে চলছে জুয়া খেলা। কয়েকদিন আগে এক রাতে এ ধরনের আসর বসে নিশিগঞ্জ বাজার সংলগ্ন গ্রামে। জমির পাকা ধান কেটে বাড়ি নিয়ে গিয়েছেন কৃষকরা। সেই ফাঁকা খেতেই মঞ্চ বানিয়ে রাত বাড়লেই চলছে জলসা। জলসার অদূরেই ফাঁকা মাঠে বা বাঁশবাগানে বসে জুয়ার আসর। অভিযোগ, এইসব অনুষ্ঠানে মানা হচ্ছে না করোনা স্বাস্থ্যবিধি। তবে যাদের এসব দেখার কথা, অজানা কারণে সেই স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ এ বিষয়টি না জানার কথা বলে দায়িত্ব এড়াতে চাইছে। আর অনেক ক্ষেত্রেই প্রভাবশালী মহল এসবের পিছনে থাকার কারণে নাক গলাতে চায় না স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

ইতিমধ্যেই খোলা প্যান্ডেলে বিনা টিকিটে জলসার আয়োজন শুরু হয়েছে। খোলা প্যান্ডেলে যাত্রাপালা বা জলসার কথা শুনলেই স্থানীয়রা বুঝে যান এর পিছনে জুয়াড়িরা আছে। তারপর একটু খোঁজ নিলেই জুয়া খেলায় আগ্রহীরা জানতে পেরে যায় ঠিক কোথায় জুয়ার আসর বসছে। সাধারণত এ ধরনের জলসার অদূরে কোনও বাঁশঝাড়ে বা কোনও বাড়ির উঠানে বসে জুয়ার আসর। যাত্রা বা জলসার আয়োজন থেকে বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করার দায়িত্ব নেয় জুয়ার আসরের পরিচালকরাই। স্থানীয় কোনও ক্লাবকে আর্থিক সহযোগিতা বা সমাজসেবার কথা বলে স্থানীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে চলে জুয়ার আসর। আর এক্ষেত্রে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাদেরও একাংশের পরোক্ষ হাত থাকে বলে সূত্রের খবর। গ্রামবাসীর একাংশ মুখ বন্ধ করে থাকেন বিনা পয়সায় জলসা দেখার সুযোগ হওয়ায়। কিন্তু এবার করোনা মহামারির রেশ কাটার আগেই এই ধরনের বিক্ষিপ্ত অনুষ্ঠান আযোজনের প্রতিবাদে মুখ খুলছেন গ্রামবাসীর একাংশ।

- Advertisement -

একসময় কোচবিহার জেলার দিনহাটা মহকুমার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে জলসার আড়ালে জুয়ার আসর বসত। কিন্তু এখন নিশিগঞ্জ সংলগ্ন বিভিন্ন গ্রামেও জুয়ার আসর বসছে। পালা বা জলসার আয়োজকদের একাংশের নজর এখন কোচবিহার-১ ব্লক ও মাথাভাঙ্গা-২ ব্লকের প্রত্যন্ত গ্রামগুলি বলে জানা গিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, কারা এই যাত্রাপালা, জলসা ও জুয়ার আয়োজন করছে তা সবাই জানে। কিন্তু আমরা মুখ খুলে বিপদে পড়তে চাই না। যাত্রাপালা বা জলসার আড়ালে এ ধরনের জুয়ার আসরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় যুবসমাজ। এর আগেও জুয়ায় সর্বস্ব খুইয়ে আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু বন্ধ হয়নি জুয়ার আসর। পুলিশ জানিয়েছে, দ্রুত খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসবের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান চলবে।