রায়গঞ্জ ২ জুলাইঃ  বান্ধবীর বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে গণধর্ষনের শিকার হল এক দশম শ্রেণীর এক ছাত্রী। ঘটনাটি ঘটেছে রায়গঞ্জের নারায়নপুরে। শুধু তাই নয় ধর্ষনের ঘটনা জানাজানি হলে বিয়ে পণ্ড হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ধর্ষিতাকে দীর্ঘক্ষণ ঘরে বন্দী করে রাখলেন বান্ধবীর মা। এই ঘটনায় নির্যাতিতার মা সামিনা বিবি ও জামাইবাবু মর্তুজ আলমকে শুক্রবার দুপুরে গ্রেপ্তার করেছে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ।
নির্যাতিতার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অনুষ্ঠান চলাকালীন বাড়ির একটি ঘরে নতুন পোশাক পরার জন্য গিয়েছিল ওই কিশোরী। সেই সময় পাঁচজন যুবক জোর করে দরজা ধাক্কা দিয়ে ঘরে ঢুকে কিশোরীকে ধর্ষণ করে।বাইরে থেকে পাহাড়া দিচ্ছিলেন বান্ধবীর জামাইবাবু সহ আরেকজন যুবক। বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য পরিবার সদস্যরা নানা কাজে ব্যস্ত থাকায় ওই কিশোরীর চিৎকার চেঁচামেচি কেউ শুনতে পায়নি। ধর্ষণের শেষে ওই ছাত্রীকে ঘরের মধ্যে রেখেই বিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় ধর্ষকরা। এই ঘটনা ধর্ষিতার বান্ধবীর মা জানতেই ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। তাঁকে একটি ছোট ঘরে তালা মেরে রেখে দেন। বিয়ের শেষে বরযাত্রীরা চলে যাওয়ার পর সেই মেয়েকে ঘর থেকে বের করে খবর দেন বাড়িতে।
কিশোরীর পরিবার সেখান থেকে তাঁকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মহিলা থানায় নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর পুলিশের পরামর্শে নির্যাতিতাকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করানো হয়।সেখানে তাঁর মেডিকেল পরীক্ষা হয়। নির্যাতিতার মায়ের বক্তব্য, ‘আমার মেয়ে স্থানীয় হাই স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। বিয়ে বাড়িতে এ ঘটনা হওয়ার পর থেকে কথা বলাই ছেড়ে দিয়েছে। হাঁটার ক্ষমতাটুকুও নেই। অভিযুক্তরা আমার মেয়ের বান্ধবীর আত্মীয়। প্রত্যেকের আমি শাস্তির দাবি জানাচ্ছি’। পুলিশ সুপার সুমিত কুমার বলেন,”রায়গঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পুলিশকে গোটা ঘটনার তদন্ত করতে বলা হয়েছে।”
নির্যাতিতার পরিবারের বক্তব্য, তাদের মেয়ের মোবাইল ফোনটা ওই কিশোরীর কাছে ছিল। সেই ফোন নিয়ে বাড়ির অদূরে পীরস্থান এলাকায় একদল যুবকের সঙ্গে দেখা করতে যায়। বিয়ের দিন গভীর রাতে সেই জঙ্গল থেকেই তারা বিবস্ত্র অবস্থায় ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। এরপর পরিবারকে জানানো হয়।