ধেয়ে আসছে গঙ্গা, আতঙ্কে কুলিদিয়ারা

385

অর্ণব চক্রবর্তী, ফরাক্কা : ফরাক্কা ব্যারেজের নিচের প্রবাহে বেনিয়াগ্রাম অঞ্চল সংলগ্ন হোসেনপুরে কুলিদিয়ারায় গঙ্গার ভাঙনে আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রামবাসীদের মতে, নদীর পাড় এমনভাবে ভাঙছে তাতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন তাঁরা। ভাঙনের ফলে নদী ক্রমশ এগিয়ে আসছে। ফলে নদী থেকে বেশ খানিকটা দূরে থাকা মানুষজনও বসতভিটা গঙ্গাগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। ফরাক্কা ব্যারেজ হোসেনপুর সংলগ্ন এলাকায় ভাঙন রোধের কাজ করেছে। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পরেই ফের আশপাশ এলাকাগুলিতে নদীর পাড় ভাঙতে দেখা যাচ্ছে।

হোসেনপুরের বাসিন্দা পারলাল গঙ্গা ভাঙন প্রতিরোধ কমিটির সম্পাদক আসিফ ইকবাল বলেন, বেনিযাগ্রাম পার লাগোয়া এলাকায় প্রায় দেড় মাস আগে ভাঙন রোধের কাজ করেছে ফরাক্কা ব্যারেজ কর্তপক্ষ। তারপরেই ফের পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভাঙন  দেখা দিতে শুরু করেছে। প্রথমে বালির বস্তা দিয়ে ১৪ মিটার, পরবর্তী ৬ মিটার পাথর দিয়ে ক্রেটিং করা হয়েছে। তারপরেই সিঙ্গল পিচিং করে বাঁধানো হয়েছে। কিন্তু জলের তোড় এখানে এতটা বেশি যে, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার না করে পাড় বাঁধানো হলে কাজের কাজ কিছুই হবে না। গঙ্গাপাড়ে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ পরিবারের বাস। গঙ্গায় ভাঙনে আতঙ্কিত সকেলই। যাঁরা নদীর পাড় থেকে বেশ খানিকটা দূরে রয়েছেন, তাঁরাও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ভাঙন হচ্ছে ফরাক্কা ব্যারেজের কারণে। ব্যারেজের কাছাকাছি থাকা বেনিয়াগ্রাম এবং তার আশপাশ এলাকায় ব্যারেজ থেকে জল বেরিয়ে এসে পাড়ে সজোরে ধাক্কা মারছে। ফলে বাড়ছে ভাঙনের তীব্রতা। এছাড়াও ঠিকমতো ড্রেজিং না করার ফলে নদীর নাব্যতা কমে গিয়েছে। ফলে আমরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। যেকোনো সময়ে ঘরবাড়ি পড়ে যেতে পারে। নদীসংলগ্ন এলাকায় প্রায় কয়েশো পরিবারের বাস। এই মুহূর্তে জলস্ফীতি ঘটলে সকলেরই মাথার ঠাঁইটুকু চলে যাবে।

- Advertisement -

এপ্রসঙ্গে ফরাক্কার বিডিও রাজর্ষি চক্রবর্তী বলেন, মহেশপুর, মহাদেবনগর, হোসেনপুর সংলগ্ন এলাকায় ভাঙনের একটা সমস্যা রয়েছে। এখনো সেভাবে ভাঙন শুরু না হলেও একটা আতঙ্ক রয়েছে। হোসেনপুরে বোল্ডার নেটিং ও পিচিং করে ফরাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ যে কাজটা করেছিল, সেখানকার মাটি খুব নরম হওয়ার কারণে বসে যাচ্ছে। ফলে সমস্যা বাড়ছে। ব্যারেজের কাজে খুব একটা সন্তুষ্ট হতে পারছি না। ফলে ব্যারেজকে আমি চিঠি দিচ্ছি। এছাড়াও মহেশপুরে নদী তীরবর্তী রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ। রাস্তাটি সংস্কার করার জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য বা প্রধানকে বলা হবে। এছাড়াও বন্যা পরিস্থিতির আগাম মোকাবিলায় ত্রিপল এবং শুকনো খাবার সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত করে রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে।