তৃণমূলে যোগ দিয়েও পদহীন গঙ্গাপ্রসাদ

295

ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : দিন দশেক আগে বিজেপির আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। এখনও তিনি নতুন দলে কোনও পদ পাননি। আবার এই মুহূর্তে আলিপুরদুয়ার জেলায় একাধিক সরকারি পদ ফাঁকা আছে। ওই পদগুলি কারা পাবেন তা নিয়ে শাসকদলের মধ্যে জোর চর্চা চলছে। প্রায় নয় থেকে দশটি সরকারি পদে শাসকদলের নেতাদের বসানোর কথা। তবে কে কোন পদ পাবেন তা নিয়ে কোন্দলের শঙ্কা করছেন খোদ শাসকদলের কর্মীরাই। যদিও গঙ্গাপ্রসাদ এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। তবে ফাঁকা থাকা একাধিক পদের বিষয়ে তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামী বলেন, সরকারি পদে কাকে বসানো হবে তা আমাদের দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক করেন। এই বিষয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। আমরা এই দলকে শক্তিশালী করতে কাজ করে চলেছি।

তৃণমূল কংগ্রেসের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূলে যোগ দেবার পরেই অনেকে মনে করছেন, গঙ্গাপ্রসাদকে শাসকদলে বড় কোনও পদে বসানো হতে পারে। পাশাপাশি দেওয়া হতে পারে সরকারি কোনও পদও। কিন্তু এখনও দলীয় বা সরকারি কোনও পদই দেয়নি তৃণমূল। এই অবস্থায় শাসকদলে গঙ্গাবাবুর ঘনিষ্ঠরা মনে করছেন, তাঁকে নিয়ে জল মাপতে চাইছেন শাসকদলের রাজ্য নেতৃত্ব। তাই তাঁকে আগে কোনও পদ না দিয়ে জেলায় তাঁর সাংগঠনিক ক্ষমতা কেমন আছে তা যাচাই করে নিতে চাইছেন শাসকদলের রাজ্য নেতারা। বিজেপির একাধিক পদাধিকারীও তৃণমূলে এসেছেন গঙ্গাবাবুর হাত ধরে। গঙ্গাপ্রসাদ শাসকদলে নাম লেখানোর পরেই বিজেপিতে ভাঙন ধরিয়ে দিতে পেরেছেন। একথা তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব রাজ্যে নেতৃত্বকে জানিয়েছেন বলে খবর। জেলা থেকে এখন রিপোর্ট পাওয়ার পরেই কলকাতায় ডেকে নিয়ে গঙ্গাপ্রসাদকে দলের কোনও বড় পদ দেওয়া হতে পারে। তাঁকে সরকারি কোনও সংস্থা বা দপ্তরের চেয়ারম্যানের মতো পদও দেওয়া হতে পারে বলে চর্চা শুরু হয়েছে।

- Advertisement -

তৃণমূলের জেলা সভাপতি মোহন শর্মা যখন দলে ছিলেন তখন তিনি একাধিক সরকারি পদেও ছিলেন। তিনি জেলা পরিষদের মেন্টর ছিলেন। জয়গাঁ উন্নয়ন পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান, জেলা আইসিডিএস নিয়োগ কমিটির চেয়ারম্যান, জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের নিযোগ কমিটির চেয়ারম্যান, বীরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান, তরাই-ডুয়ার্স কালচারাল ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (গোর্খা)-এর চেয়ারম্যান, নিজের তৈরি করা চা বাগান শ্রমিক সংগঠনের মূল দাযিত্ব তাঁর কাঁধেই ছিল। স্বাভাবিকভাবেই এতগুলি পদে থাকার সুবাদে রাজ্য সরকার তাঁর জন্য ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করেছিল। কিন্তু সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা ভোটের আগে মোহনবাবু সব সরকারি ও দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিজেপিতে নাম লেখান। এখন অবশ্য তিনি বিজেপির নেতা। মোহনবাবু জেলার সরকারি পদগুলি ছাড়ার পর এখনও ওই পদগুলিতে কাউকে বসানো হয়নি। এই অবস্থায় সম্প্রতি খোদ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দলে এখন  থেকে এক ব্যক্তি এক পদ। স্বাভাবিকভাবেই দলনেত্রীর ওই ঘোষণার পর থেকেই আলিপুরদুয়ার মোহনবাবুর ছাড়া পদগুলি কারা কারা পাবেন তা নিয়ে খোদ শাসকদলের নেতাদের মধ্যে জোর চর্চা শুরু হয়।

জানা গিয়েছে, এর মধ্যে জেলার বেশ কয়েকজন প্রথম সারির নেতা সরকারি পদ পাবার জন্য রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগও শুরু করেছেন। তবে বেশিরভাগ নেতাই জয়গাঁ উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান হবার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন বলেই জানা গিয়েছে। এই দৌড়ে গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা ছাড়াও তৃণমূলের জেলার কোঅর্ডিনেটর পাশাং লামা, আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী, জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি মনোরঞ্জন দের নামও উঠে এসেছে। তবে জেডিএর চেয়ারম্যান নিয়ে দলের নেতাদের মধ্যে কোন্দলের শঙ্কাও করছেন অনেকে।

এ বিষয়ে তৃণমূলের জেলার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাধারণ সম্পাদক বলেন, জেলায় একটি মাত্র উন্নয়ন পর্ষদ। তার চেয়ারম্যান দলের নেতারা হতে চাইবেন এটাই স্বাভাবিক। তবে জেডিএর চেয়ারম্যান নিয়ে যেভাবে নেতারা কলকাতায় দৌড়াদৌড়ি করছেন তাতে স্পষ্ট, কোন্দল একটা বাধবে। প্রথম সারির নেতাদের আগে অন্য সরকারি পদে বসিয়ে কোন্দল এড়ানো সম্ভব হতে পারে। যদিও গোটা বিষয়টি নিয়ে আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, দলনেত্রী যখন বলেছেন এক ব্যক্তি এক পদ, তখন এটা নিশ্চিত, জেলার যোগ্য নেতারা সরকারি পদ পাবেন। এরজন্য কাউকে কলকাতায় দৌড়োনোর দরকার নেই। দলনেত্রী যাঁকে যোগ্য মনে করবেন তাঁকেই সরকারি পদে বসাবেন।