লকডাউনের জেরে ঝাঁপ বন্ধ, অর্ধাহারে দিন কাটছে তাঁত শিল্পীদের

139

গঙ্গারামপুর: আধুনিকতার সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে এমনিতেই ধুঁকছিল গঙ্গারামপুরের তাঁতশিল্প। তার ওপর এখন আবার লকডাউনের সমস্যা। এই অবস্থায ধ্বংসের মুখে পেঁছে গিয়েছে এক সমযের বিখ্যাত এই শিল্পটি। প্রথমে ২১ দিন এবং তারপর সেই সমযসীমা আরও বেড়ে যাওযায দীর্ঘ হচ্ছে লকডাউন পর্ব। গঙ্গারামপুরের তাঁতের শাড়ির উৎপাদন যেমন একদিকে সম্পূর্ণ বন্ধ হযে গিযেছে, তেমনই হঠাৎ করে উপার্জনহীন হযে পড়ায একপ্রকার অর্ধাহারেই দিন কাটছে গঙ্গারামপুরের তাঁতি পরিবারগুলির। সত্তরের দশকে গঙ্গারামপুরে সূচনা হয় তাঁতশিল্পের। ক্রমশ জনপ্রিয়তা লাভের পর নব্বইযে দশকের শেষ থেকেই কমতে থাকে এর চাহিদা। আর তার অন্যতম একটি কারণ হল কলের কাপড়ের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি। পরবর্তীতে নব্বইযে দশকের শেষ দিক থেকে গঙ্গারামপুরের তাঁতশিল্প ক্রমশ মুখ থুবড়ে পড়তে শুরু করে। শিল্পীদের অভিযোগ, সরকারের সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনার অভাবে এবং উদাসীনতায ক্রমশ গঙ্গারামপুর শহর এবং সংলগ্ন এলাকায ঝাঁপ পড়তে থাকে অধিকাংশ তাঁতের কারখানার। তবে রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তৃণমূল সরকার গঙ্গারামপুরের তাঁতশিল্পকে চাঙা করতে বেশ কিছু সক্রিয় পদক্ষেপ করেছে। তাতে আবার অনেকটাই ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে এই শিল্প।

কিন্তু তার মাঝেই সংক্রমণের থাবা বসাল করোনা ভাইরাস। ফলে আবার ধ্বংসের মুখে যেতে বসেছে তাঁতশিল্প। আর রুজি-রুটি হারিযে এখন অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন শিল্পীরা। এ প্রসঙ্গে কেশবপুর এলাকায তাঁতি নরেশ সন্ন্যাসী জানান, সত্তরের দশকের শেষদিকে ওপার বাংলা থেকে আসার পর, আমরা জীবিকানির্বাহ করার জন্যই তাঁতশিল্পের সঙ্গে যুক্ত হযেিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে যত সময গড়িযেে, ততই প্রসার ঘটেছে তাঁতশিল্পের। কিন্তু বাজারে কলের কাপড় আসার পরই কমতে থাকে তাঁতের কাপড়ের চাহিদা। তার ওপর আবার একমাস ধরে লকডাউন চলায সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রযেে আমাদের কাজ। আমাদের উপার্জনও বন্ধ হযে গিযেে। বর্তমানে খুব কষ্টের মধ্যে দিযে আমাদের দিন কাটছে। এ প্রসঙ্গে ঠ্যাঙ্গাপাড়া এলাকার এক তাঁতি নিবারণ সরকার জানান, ‘লকডাউনের জেরে বাইরে বাজারে কাপড় রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ রযেে। অন্যদিকে লকডাউনের ফলে পযলা বৈশাখের কাপড়ের বাজারও আমরা ধরতে পারিনি। ফলে আমাদের আর্থিকভাবে প্রচুর ক্ষতি হচ্ছে। এমন অসহায় পরিস্থিতিতে আমরা সরকারি সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছি।’

- Advertisement -