খালে ফেলা হচ্ছে আবর্জনা, কাস্টডিয়ানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

123

কার্তিক দাস, খড়িবাড়ি : খড়িবাড়ি বাজার ও সংলগ্ন গ্রামগুলির জলনিকাশির একমাত্র মাধ্যম খেঁচগাঁজা খাল। তবে সেখানে বাজারের আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। ফলে দিনের পর দিন খালের গভীরতা কমছে, দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। খালে ফেলে দেওয়া মাছ বাজারের থার্মোকলের বাক্সে মশার বংশবৃদ্ধি হচ্ছে। বর্ষার সময় খাল উপচে জল ঢুকে যায় সংলগ্ন লোকালয়ের তবে সেটি সংস্কার করতে বা দূষণ রুখতে বাজারে ভ্যাটের ব্যবস্থা, প্রশাসনের তরফে কোনওটাই করা হয়নি বলে অভিযোগ।

খড়িবাড়ি খেঁচগাঁজা খালটি খড়িবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের পাহাড়িভিটা, ফুলবরজোত, প্রেতাজোত, খালটাবাজার, হাওদাভিটা ও খড়িবাড়ি বাজার হয়ে বিহারে প্রবেশ করেছে। বর্ষার সময় এলাকার জল এই খাল দিয়ে বিহারে চলে যায়। তবে খড়িবাড়ি বাজারের ব্যবসায়ীরা সমস্ত আবর্জনা খালের মধ্যে ফেলছেন বলে অভিযোগ। শিলিগুড়ি-খড়িবাড়ি মূল সড়কে থাকা সেতুর ওপর থেকে তাঁরা খালে আবর্জনা, মাছের থার্মোকলের বাক্স ইত্যাদি ফেলছেন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। বর্ষায় খালের প্লাস্টিক, থার্মোকল ও আবর্জনা পার্শ্ববর্তী চাষের জমিতে ভেসে যাওয়ায় খেতের ক্ষতি হচ্ছে। আগে খড়িবাড়ি হাটের দক্ষিণ দিকে মাছ-মাংসের বাজার ছিল। গত বছর খড়িবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে হাটের উত্তর দিকে খালের পাশে নতুন মাছ-মাংসের বাজার তৈরি করা হয়। সেই থেকে মাছ ব্যবসায়ীরা থার্মোকলের বাক্স খালের জলে ফেলে বাড়ি চলে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ। মাংস ব্যবসায়ীরাও খালে আবর্জনা ফেলছেন বলে জানা গিয়েছে। খড়িবাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রামচন্দ্র জয়সোয়াল বলেন, মাছ ব্যবসায়ীদের বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে দূষণ হচ্ছে। বহুবার প্রশাসনকে বাজারের আবর্জনা ফেলার ভ্যাট  তৈরি করে দেওয়ার জন্য স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন আশ্বাসই দিয়েছে। আজ পর্যন্ত খড়িবাড়িতে ভ্যাট তৈরি করা হয়নি।

- Advertisement -

খড়িবাড়ি পানিশালী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান হিমাদ্রি সিনহা বলেন, প্রধান থাকাকালীন গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যদের সহযোগিতায় নিয়মিত নজরদারির জন্য খেঁচগাঁজা খালের দূষণ নিয়ন্ত্রণে ছিল। পঞ্চায়েতের তরফে নিয়মিত খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হত। কিন্তু গত দুই মাসে কাস্টডিয়ান বসার পর খালের জলে দূষণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি দ্রুত খাল পরিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন।

খড়িবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি বাদল সরকার বলেন, নতুন মাছ বাজার তৈরির সময় মাছ-মাংস ব্যবসায়ীদের খালের জলে থার্মোকল, আবর্জনা যাতে না ফেলেন, সেই ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছিল। হাটবাবুকে বিষয়টি তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের উদ্যোগে খড়িবাড়ি ডুমুরিয়া এলাকায় সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প চালু করা হয়েছে। কিন্তু নজরদারি ও পরিচালনার অভাবে গত দুমাসে সব মুখ থুবড়ে পড়েছে। তিনি বলেন, দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে গ্রাম পঞ্চায়েতে জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। খড়িবাড়ি বিডিও তথা কাস্টডিয়ান সঞ্জয় পণ্ডিত বলেন, নতুন জয়েন করেছি। বিষয়টি জানা ছিল না। দ্রুত খেঁচগাঁজা খাল পরিষ্কারের জন্য হাটবাবুকে নির্দেশ দেওয়া হবে। কেউ খালের জল দূষিত করলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।  খড়িবাড়ি হাটের ভারপ্রাপ্ত হাটবাবু মনোজ রায় বলেন, ব্যবসায়ীদের বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও রাতের অন্ধকারে আবর্জনা খালের জলে ফেলে বাড়ি চলে যান। দ্রুত আবর্জনা পরিষ্কার করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।