কামাখ্যাগুড়িতে নদীতেই ফেলা হচ্ছে আবর্জনা

240

গৌতম সরকার, কামাখ্যাগুড়ি : কামাখ্যাগুড়ির মরা রায়ডাক নদীতে ভেসে উঠছে জঞ্জাল, থার্মোকল ও আবর্জনা। এই নদী যেন এখন একরকম ডাম্পিং গ্রাউন্ডে পরিণত হয়েছে। নদীগর্ভে রোজ জঞ্জাল ফেলা হচ্ছে। জঞ্জালে ভরে যাচ্ছে মরা রায়ডাক। নদীতে জমে থাকা আবর্জনা থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে আশপাশের এলাকায়। ছড়াচ্ছে দূষণ। কামাখ্যাগুড়ি বাজার লাগোয়া মরা রায়ডাক নদীর দুপাশে থাকা বিপিননগর এলাকায় পুলপার ও বিসর্জনঘাটে দুটি সেতু রয়েছে। দুটি সেতুর দুপাশেই আবর্জনা জমে যাচ্ছে। এই দুটি জায়গাকেই জঞ্জাল ফেলতে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীগর্ভেই যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে আবর্জনা। গোটা নদীগর্ভই আজ আবর্জনায় ভরে গিয়েছে। ডাম্পিং গ্রাউন্ড হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে মরা রায়ডাক নদীগর্ভ বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মরা রায়ডাক নদীর পুলপার ও বিসর্জনঘাট এলাকায় একটি করে সেতু রয়েছে। ওই দুটি সেতু চত্বর এলাকায় জমা জঞ্জালের পরিমাণ দিনদিন বাড়ছে। রাতের অন্ধকারে সেতু থেকে আবর্জনা ফেলা হয় নদীতে। এই মুহূর্তে নদীতে জল সেভাবে না থাকায় আবর্জনা স্তূপ হয়ে থাকছে। তা থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে এলাকায়। মরা রায়ডাক নদীর জমা নোংরা জলই মশার আঁতুড় হয়েছে। এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ মরা রায়ডাক নদীর নাব্যতা ফেরাতে একশো দিনের প্রকল্পের মাধ্যমে নদীগর্ভ খননের কাজ করছে। অন্যদিকে নদীর গর্ভে ফেলা হচ্ছে জঞ্জাল। এটা কাম্য নয়। নদীটি বাঁচাতে সকলকে এগিয়ে আসার দাবি জানান তাঁরা। মরা রায়ডাক নদীতে সারাবছর জল থাকে না। বর্ষার তিন মাস জল প্রবাহিত হয়। বর্ষায় জলের স্রোতে আবর্জনা ভেসে চলে যায়। কিন্তু এখন জল না থাকায় আবর্জনা জমে থাকছে। এছাড়াও বাজার এলাকার বড় বড় নিকাশিনালাগুলিও এসে মিশেছে মরা নদীতে।  ফলে সারাবছর আবর্জনা  ও নিকাশিনালার জল জমে থাকছে নদীগর্ভে। স্থানীয় বাসিন্দা সুদীপ সেনগুপ্ত বলেন, আবর্জনা ফেলার জন্য নদীকেই বেছে নিচ্ছেন মানুষজন। আবর্জনায় ঢেকে যাচ্ছে নদীগর্ভ। আর নিকাশিনালার পচা জল জম থাকছে নদীগর্ভে। তা থেকে পচা দুর্গন্ধ গ্রাস করছে গোটা এলাকা। প্রশাসনের কাছে এই বিষয়ে জানানো হলেও আজ পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।

- Advertisement -

পুলপার এলাকার বাসিন্দা জয়দেব পাল বলেন, মরা রায়ডাক নদীর নাব্যতা ফেরানো দরকার। এই নদীটি প্রায় ২০ কিমি কৃষি এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে, নাব্যতা ফেরালে কৃষির সেচ ব্যবস্থায় কয়েক লক্ষ মানুষ উপকৃত হবেন। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিদের মাস্টার প্ল্যান করে নদীটির নাব্যতা ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া দাবি তোলেন তিনি। কামাখ্যাগুড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নিয়তি বর্মন বলেন, নদীগর্ভ কোনওভাবেই আবর্জনা ফেলার জন্য ব্যবহার করা ঠিক নয়। নদীতে যাতে আবর্জনা না ফেলা হয় সেটা অবশ্যই দেখব।