সমীর দাস, কালচিনি : জয়গাঁয় ডেঙ্গু প্রায় মহামারির আকার ধারণ করলেও সেখান থেকে কোনো শিক্ষাই নেয়নি প্রশাসন। কালচিনি ব্লকের লতাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের হামিল্টনগঞ্জে জঞ্জাল সরাতে ও নিকাশিনালা সাফাইয়ে কোনো উদ্যোগই নেওয়া হচ্ছে না। হ্যামিল্টনগঞ্জের শ্যামাপ্রসাদ কলোনির শ্যামাপ্রসাদ ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আবজর্নার স্তূপ জমেছে। এলাকায় নিকাশি ব্যবস্থারও বেহাল দশা। কালচিনি ব্লকের জয়গাঁতে অন্তত ৩৫০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। সেখানে যুদ্ধকালীন তত্পরতায় কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও প্রশাসন এলাকা সাফাইয়ের কাজ করছে। অথচ এই ব্লকেরই হ্যামিল্টনগঞ্জে এলাকা সাফাইয়ে ব্যাপারে প্রশাসন একপ্রকার হাত গুটিয়ে বসে রয়েছে বলেই অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে হ্যামিল্টনগঞ্জে ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে মারাত্মকভাবে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, আবর্জনা ও নিকাশিনালা সাফাই না হলে এখানেও জয়গাঁর মতো ডেঙ্গু ছড়াতে পারে।

বিডিও অফিস থেকে শুরু করে ব্লক প্রশাসনের বেশিরভাগ দপ্তর হ্যামিল্টনগঞ্জ এলাকায় রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হলেও এখানকার নিকাশি ব্যবস্থা বেহাল। বেশিরভাগ নালাই দীর্ঘদিন ধরে সাফাই হয় না। জঞ্জাল ফেলার জন্য নেই কোনো ডাম্পিং গ্রাউন্ড। আবর্জনা ও নিকাশিনালায় জমে থাকা বজর্য থেকে দূষণ ছড়াচ্ছে। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ব্লক প্রশাসন, জেলাপরিষদ ও গ্রাম পঞ্চায়েত এ নিয়ে অভিযোগ জানানোর পরেও জঞ্জাল সাফাইয়ে জন্য কোনো পদক্ষেপ করা হচ্ছে না। দ্রুত জঞ্জাল সাফাই না হলে তাঁরা আন্দোলন শুরু করবেন বলেও হুমকি দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগে শ্যামাপ্রসাদ ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় কেউ বা কারা রাতের অন্ধকারে প্রচুর আবর্জনা ফেলে চলে যায়। বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকার বাসিন্দারা বিডিও অফিস, গ্রাম পঞ্চায়েতের অফিস ও জেলাপরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ পদ্মা রায়কে আবর্জনা পরিষ্কারের ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে বলেন। স্থানীয়রা জানান, দিনদশেক আগে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে এক ট্র‌্যাক্টর বোঝাই আবর্জনা সরানো হয়। কিন্তু তারপরে কাজ বন্ধ। হঠাত্ করে আবর্জনা সাফাইয়ে কাজ কেন বন্ধ হল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা তথা জেলাপরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ পদ্মা রায় বলেন, এলাকার আবর্জনা সাফাইয়ে বিষয়ে আমি ব্লক প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েকে জানিয়েছি। গ্রাম পঞ্চায়েত যদি ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরির জন্য জায়গা নির্দিষ্ট করে দেয় তাহলে আমি সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প চালু ও ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরির ব্যাপারে নিশ্চয়ই উদ্যোগ নেব। কালচিনির বিডিও ভূষণ শেরপা বলেন, এলাকার বাসিন্দাদের এ ব্যাপারে আগে সচেতন হতে হবে। তবেই নিজের নিজের এলাকা পরিষ্কার থাকবে। তিনি বলেন, ১০০ দিনের প্রকল্পে এখন আবর্জনা সাফাইয়ে কাজ করানো যায় না। ওই এলাকায় সাফাইয়ে কাজের জন্য গ্রাম পঞ্চায়েতের সঙ্গে আলোচনা চলছে। লতাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সোনালি দাস চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ওই এলাকার আবর্জনা সাফাইয়ে কাজ শুরু হয়েছে। তবে ডাম্পিং গ্রাউন্ড না থাকায় আবর্জনা সরাতে সমস্যা হচ্ছে। তিনি বলেন, দক্ষিণ লতাবাড়ির একটি এলাকায় ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরির জন্য জমি ঠিক করা হয়েছে। এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা করে সেটা ব্লক প্রশাসনকে জানানো হবে।