ইংরেজবাজারে সরকারি দপ্তরের সামনে জঞ্জালের পাহাড়

কল্লোল মজুমদার, মালদা : ইংরেজবাজার শহর ক্রমেই ভরছে জঞ্জালে। প্রতিদিন ২০০ মেট্রিক টনেরও বেশি জঞ্জাল সংগ্রহ করা হলেও এখনও মেটেনি ভাগাড় সমস্যার সমাধান সূত্র। ভাগাড়ের জন্য শহর থেকে দূরে জমি নেওয়া হলেও ওই জমিতে জঞ্জাল ফেলায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্ষা। তাই ফের প্রতিদিনের সংগৃহীত জঞ্জাল ফেলা হচ্ছে শহরের যত্রতত্র। অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে ফের জেলা প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং ফুডপার্ক সংলগ্ন এলাকায় ফেলা হচ্ছে জঞ্জাল। জঞ্জাল জমে পাহাড়ের আকার ধারণ করেছে। এই নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে খোদ প্রশাসনিক মহলে। ক্ষোভ তৈরি হয়েছে আমজনতার মধ্যেও।

ইংরেজবাজারের ভাগাড় সমস্যা দীর্ঘদিনের। বিদায়ী পুরবোর্ড সমস্যা সমাধানের জন্য মহদিপুরের ইন্দো-বাংলা সীমান্তবর্তী এলাকায় জমি কেনে। কিন্তু বিএসএফ এবং স্থানীয় মানুষের বাধায় তা অচিরেই বন্ধ হয়ে যায়। সেই সময় থেকেই শহর থেকে সংগৃহীত জঞ্জাল ফেলতে শুরু করা হয় যত্রতত্র। এই নিয়ে সর্বত্রই ক্ষোভ তৈরি হয়। এরপর আসরে নামেন জেলা প্রশাসনের কর্তারা। জেলা শাসকের হস্তক্ষেপে সুস্থানী মোড় সংলগ্ন এলাকায় নতুন জমি কেনা হয়। কিন্তু সেখানেও বাধ সাধেন গ্রামবাসীরা। বহুবার ওই জমিতে জঞ্জাল ফেলতে গিয়ে গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন পুরকর্মীরা। অভিযোগ ওঠে, ওই এলাকার কিছু দুষ্কৃতী পুরকর্মীদের মারধর করার পাশাপাশি হাঁসুয়া দিয়ে খুন করার হুমকি দেয়। সম্প্রতি সেই রোষের মুখে পড়েন পুরকর্মীরা। আবার ওই জমিতে যাওয়ার পথ কাঁচা থাকায় সাফাইকর্মীদের যাতায়াতে অসুবিধা তৈরি হয়। বর্ষার মুখে সেই সমস্যা চরম আকার ধারণ করেছে।

- Advertisement -

ফলে ওই জমিতে জঞ্জাল ফেলার পরিবর্তে শহরের বুকে জেলা প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং ফুডপার্কের সামনে জঞ্জাল ফেলা শুরু হয়। ওই পথেই রয়েছে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিছনের প্রবেশপথ। যে পথে রয়েছে হুসেন শাহ নামাঙ্কিত তোড়ন। জঞ্জাল সেই পথ প্রায় ঘিরে ফেলেছে। জঞ্জালের নোংরা জল প্রবেশপথে ঢুকে পড়েছে। এই নিয়ে প্রশাসনের এক কর্তা অভিযোগ করেন, ভাগাড়ের জন্য নতুন জমি যখন প্রশাসন পুরসভার হাতে তুলে দেয়, তখন বেশ কয়েটি শর্ত দেওয়া হয়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল, যত্রতত্র জঞ্জাল ফেলতে পারবে না পুরসভা। ফেললে জরিমানা করা হবে পুরসভাকে। একইভাবে সাধারণ মানুষ যত্রতত্র জঞ্জাল ফেললে জরিমানা করবে পুরসভা। কিন্তু কোনও শর্তই মানা হচ্ছে না। যত্রতত্র জঞ্জাল ফেলছেন পুরনাগরিকরা। সেই জঞ্জাল সংগ্রহ করে প্রশাসনিক দপ্তরের সামনে ফেলে দিচ্ছে পুর কর্তৃপক্ষ। এখানেই প্রশ্ন উঠেছে, কে কাকে জরিমানা করবে!

এবিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ইংরেজবাজার পুরসভার প্রশাসক কমিটির সদস্য তথা প্রাক্তন উপপ্রধান দুলাল ওরফে বাবলা সরকার বলেন, একথা সত্যি যে গত কয়েকদিন ধরে গৌড় রোড এলাকায় জেলা প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সামনে জঞ্জাল ফেলা হচ্ছে। বিষয়টি আমি আগে জানতাম না। আজই শুনলাম। আসলে সুস্থানী মোড় এলাকায় আমাদের ভাগাড়ের জমিতে যাতায়াত করতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। কারণ, রাস্তা নেই। তাই আমরা রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছি। এছাড়াও ওই ভাগাড়ে জঞ্জাল ফেলতে গেলে দুষ্কৃতীদের রোষের মুখে পড়তে হচ্ছে পুরকর্মীদের। আমরা এব্যাপারে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি। পুলিশি নিরাপত্তায় জঞ্জাল ভাগাড়ের জমিতেই ফেলা হবে। জেলা প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সামনে ফেলা হবে না। এই কয়েকদিন ফেলা জঞ্জাল তুলে নেওয়া হবে সেখান থেকে।