মালে রক্তচাপ বাড়াচ্ছে পাগলাঝোরার আবর্জনা

বিদেশ বসু. মালবাজার : চলতি বর্ষাতেও মাল শহরের বাসিন্দাদের একাংশের রক্তচাপ বাড়াচ্ছে পাগলাঝোরা। শহরের মাঝখান দিয়ে যাওয়া এই ঝোরার পাশে কিছু এলাকায় বাঁধ তৈরি হয়নি। তার উপর, কিছু অসচেতন বাসিন্দার সৌজন্যে এলাকায় এলাকায় পাগলাঝোরা ডাম্পিং গ্রাউন্ডে পরিণত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পাগলাঝোরা সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন ঝোরা সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা। পুর কর্তৃপক্ষ অবশ্য বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে। পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান স্বপন সাহা বলেন, আমরা পাগলাঝোরার সমস্ত অংশেই পাকা বাঁধ তৈরি করব। ঝোরার আবর্জনাও সাফ করা হবে।

শহরের উত্তর দিক থেকে পাগলাঝোরা মালবাজারে প্রবেশ করেছে। শহরের ১, ৪, ৫, ৮, ৯ ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য দিয়ে গিয়ে ঝোরাটি তেশিমলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় গিয়েছে। কিছু এলাকায় ঝোরার পাশে প্রশাসনের তরফে পাকা বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। তবে ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড সহ কিছু এলাকায় এখনও বাঁধ তৈরি হয়নি। অন্যদিকে, বাসিন্দাদের যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার জেরে ঝোরার জল বহন ক্ষমতাও কমেছে। সেক্ষেত্রে বেশি বৃষ্টি হলে ঝোরার জল উপচে শহরে ঢোকার আশঙ্কা রয়েছে। শহরের নেতাজি কলোনির বাসিন্দা রানা সরকার বলেন, সাধারণ মানুষ অনেক ক্ষেত্রে অসচেতনতার পরিচয় দিচ্ছেন। অনেকেই পাগলাঝোরার মধ্যে আবর্জনা ফেলছেন। শুখা মরশুমে আবর্জনা জমে থাকছে। বৃষ্টি হলেই জলে ভেসে আবর্জনাগুলো বিভিন্ন এলাকায় চলে যাচ্ছে। যা নতুন করে দূষণ ছড়াচ্ছে। আমরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন।

- Advertisement -

বিষয়টি নিয়ে তেশিমলার বাসিন্দাদেরও অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, শহরের মানুষ ঝোরায় যে আবর্জনা ফেলেন তা ভেসে গিয়ে তাঁদের এলাকায় দূষণ ছড়ায়। ইতিমধ্যে তেশিমলায় ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের মাধ্যমে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ ঝোরাটি সাফ করেছে। এদিকে, শহরের নিকাশি ব্যবস্থার সঙ্গেও পাগলাঝোরার ওতপ্রোত যোগাযোগ আছে। চলতি বর্ষায় ইতিমধ্যেই কিছু এলাকায় নিকাশির সমস্যা দেখা গিয়েছে। মাল পুরসভা প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা তথা ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোঅর্ডিনেটর সুপ্রতিম সরকার বলেন, আমরা মাল শহরের নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বরাবর মাস্টার প্ল্যানের দাবি করে আসছি। আজ পর্যন্ত মাস্টার প্ল্যান না হওয়ায় সমস্যা দেখা দিচ্ছে। আমরা মনে করি পাগলাঝোরার পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের পাশাপাশি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করলে নিকাশি সমস্যা পুরোপুরি মেটানো যাবে।