কালিয়াগঞ্জ বাজারের মাছের আড়তে আবর্জনার স্তূপ

অনির্বাণ চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ : কালিয়াগঞ্জ শহরে করোনা সংক্রামিতের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। কালিয়াগঞ্জ পুরসভার পক্ষে প্রতিদিন স্টেশন রোড সংলগ্ন তারা বাজার পরিষ্কার হলেও ওই বাজারের মাছের আড়তের চিত্রটা একদম উলটো। আড়তের পাশে পুরসভার নবনির্মিত মিশন নির্মল বাংলার পাবলিক টয়লেটের সামনে দীর্ঘদিন ধরে নোংরা জমে রয়েছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রতিদিন চলছে কেনাবেচা। মাছের আড়তের মালিকদের অভিযোগ, প্রতিদিন পরিষ্কার হয় না এই এলাকা। পুর সাফাইকর্মীদের আড়তের ভিতরের অংশ পরিষ্কারের কথা বলা হলেও শোনে না। নালায় নোংরা জমে নিকাশি ব্যবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা পকেট থেকে টাকা দিলে তবেই পুর সাফাইকর্মীরা আড়তের ভেতরে পরিষ্কার করেন।

এই বিষয়ে মাছের আড়তের মালিক সুরোজ প্রসাদ বলেন, এক, দুই মাস ধরে মাছের আড়তের নোংরা এভাবেই পড়ে থাকে। আড়তের ভিতরের নোংরা পরিষ্কার করে না পুর সাফাইকর্মীরা। হাতে টাকা দিলে তবেই নোংরা পরিষ্কার করতে রাজি হয়। নোংরা জমে গেলে আমরা কয়েকজন মিলে টাকা দিয়ে আড়ত পরিষ্কার করাই। এই মাছের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বিনোদ মাহাতো বলেন, দিনের পর দিন নোংরা এভাবেই পড়ে থাকে। পুর সাফাইকর্মীরা নোংরা পরিষ্কারে রাজি হয় না। জীবাণুমুক্ত করতে ব্লিচিং ছিটানো হয় না। ড্রেনে নোংরা জমে নিকাশি ব্যবস্থা বেহাল। মাঝে মাঝে আড়তদারেরা টাকা দিলে তবেই ড্রেন পরিষ্কার হয়।

- Advertisement -

এদিকে, মাছের আড়তের সম্পাদক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, মাঝেমধ্যে নোংরা পরিষ্কার করে, আবার মাঝেমধ্যে করে না। যদিও এই বিষয়ে আমি পুরসভায় কোনও অভিযোগ করিনি। কালিয়াগঞ্জ পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সুপারভাইজার প্রণব ঘোষ বলেন, প্রতিদিন বিকেলে নোংরা পরিষ্কারের গাড়ি আসে। আড়তদারেরা দেখিয়ে দিলেই পুর সাফাই কর্মীরা নোংরা পরিষ্কার করে দেবে। নোংরা পরিষ্কার করার পর সাফাইকর্মীরা আড়তদারদের কাছে কিছু আবদার করলে সব আড়তদার মিলে আনন্দের সাথে ৫০ টাকা চা খাওয়ার জন্য পুর সাফাইকর্মীদের হাতে দেয়।

কালিয়াগঞ্জ শহরের কংগ্রেস নেতা সুজিত দত্ত বলেন, এর আগেও বলেছি, কালিয়াগঞ্জের নিকাশি ব্যবস্থা বেহাল। কালিয়াগঞ্জ পুরসভার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে একদম নজর নেই। যদি সাফাইকর্মীরা কাজ করে টাকা চায় তাহলে অন্যায়। সে ক্ষেত্রে সাফাইকর্মীদের কাজে যদি কেউ খুশি হয়ে টাকা দেয় তাহলে বিষয়টি নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। তবে সামগ্রিক বিষয়টি প্রশাসকের দেখা উচিত। তিনি আরও বলেন, এর আগে কংগ্রেস পরিচালিত পুর বোর্ডের আমলে অরুণ দে সরকার সকালে কালিয়াগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করতেন। এখন পরিদর্শনের কোনও বালাই নেই। শুধু উন্নয়ন চলছে। ওয়ার্ডের সুপারভাইজারের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যে। সুপারভাইজার হিসাবে কোনও নিয়োগপত্র আদৌও পেয়েছে কি না আমার জানা নেই। বিদায়ি কাউন্সিলারদের বাদ দিয়ে ডেইলি ওয়ার্কারদের এই কাজে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নিয়োগ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

এই বিষয়ে বিজেপির জেলা সম্পাদক গৌতম বিশ্বাস বলেন, তোলাবাজের সরকার চলছে কালিয়াগঞ্জে। সাফাইকর্মীরা সরকার থেকে বেতন পান। সেখানে আবদারের কোনও বিষয় থাকতে পারে না। পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য তথা বসন্ত রায়ের কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি কিছু জানি না। এই বিষয়ে সরাসরি পুর প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। পুর প্রশাসক কার্তিকচন্দ্র পালের সঙ্গে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।