গৌতম সরকার, কামাখ্যাগুড়ি :  এ যেন খাজনার চেযে বাজনা বেশি! খাজনা দিতে সবাই তৈরি। তার বিনিময়ে বাজারের আবর্জনা সাফাই করতে হবে। কিন্তু নেওয়া হচ্ছে না খাজনা। সাফাইও হচ্ছে না আবর্জনা। গত নমাস ধরে এই অবস্থা চলছে জেলাপরিষদ নিয়ন্ত্রিত কামাখ্যাগুড়ি মাছবাজারে। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, নির্ধারিত হারেই খাজনা দিতে তাঁরা রাজি। তাঁদের শুধু দাবি, নিয়মিতভাবে জঞ্জাল সাফ করতে হবে। কিন্তু নমাস থেকে মাছবাজারের আবর্জনা সাফাই হয়নি, তাই একটাকা খাজনাও জমা পড়েনি। যদিও জেলা পরিষদের বক্তব্য, বাজারের আবর্জনা নিয়মিতই সাফাই করা হয়। তবু কামাখ্যাগুড়ি মাছবাজারের বিষয়টি খতিযে দেখা হবে।

কুমারগ্রাম ব্লকের অন্যতম বড়ো মাছের বাজার হল কামাখ্যাগুড়ি মাছবাজার। মাছবাজারে প্রায় ১১৫ জন ব্যবসায়ী রয়েছেন। এর মধ্যে খুচরো মাছ বিক্রেতা প্রায় ৮০ জন, পাইকারি বা আড়তদার ২৪ জন ও শুকনো মাছ বিক্রেতা ১০ জন । ব্যবসাযীরা জানান, খাজনা দেওয়া নিয়ে তাঁদের কোনো সমস্যা নেই। শুধু দাবি করা হয়েছে, মাছবাজারের প্রতিদিনের আবর্জনা ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে। সেই দায়িত্ব ইজারাদারকে নিতে হবে। কিন্তু বাজারের ইজারাদার গত বৈশাখ মাস থেকে আর খাজনা নিতে আসেননি। বাজারের আবর্জনাও সাফাই হয়নি। বাধ্য হয়ে ব্যবসায়ীরা বাজারে পরিষ্কারের দায়িত্ব নিজেরাই কাঁধে তুলে নিয়েছেন। বিষয়টি জেলাপরিষদের গোচরে আনা হয়েছে। কামাখ্যাগুড়ি মাছবাজারের খুচরো ব্যবসাযী সুধাংশু বর্মন বলেন, খাজনা দিতে আমরা ইচ্ছুক। খাজনা নেওয়ার পাশাপাশি বাজারের আবর্জনা ফেলার দায়িত্ব ইজারাদারকে নিতে হবে বলে দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু ইজারাদার খাজনা নিতেও আসেননি। বাজারের আবর্জনাও ফেলেননি। বাধ্য হযে বাজার সাফ রাখতে নিজেদের মধ্যেই টাকাপয়সা তুলে বাজারের আবর্জনা ফেলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে জানান তিনি । মাছ ব্যবসাযী মরণ বর্মন বলেন, বাজারে আবর্জনা ফেলার ব্যবস্থা নেই। ব্যবসায়ীরা এখন প্রতিদিন আবর্জনা প্যাকেটে ভরে নিজেরাই ফেলার ব্যবস্থা করছেন। তা না হলে পরদিন দোকান খোলাই সম্ভব হবে না। কামাখ্যাগুড়ি মাছবাজার আড়তদারের সম্পাদক দেবেশ বর্মন বলেন, ব্যবসা করব, অথচ খাজনা দেব না, তা তো হয় না। খাজনা সকলেই দিতে চান। জেলাপরিষদের উচিত আবর্জনা ফেলার জায়গার ব্যবস্থা করা।

জেলাপরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইজারাদার জগবন্ধু মজুমদার বলেন, মাছ ব্যবসায়ীরা সাফ জানিয়েছেন, আবর্জনা সাফাই হলেই মিলবে খাজনা। এই এলাকায় কোনো ডাম্পিং গ্রাউন্ড নেই। এমনিতেই বাজারের আবর্জনা ফেলার জন্য দারুণ সমস্যার মুখে পড়তে হয়। আর মাছবাজারের আবর্জনা ফেলার জন্য কোনো জায়গা মেলে না। কয়েকবার ফেলতে গিয়ে সাধারণ মানুষের রোষের মুখে পড়তে হয়েছে। তাই খাজনা তুলব কোন মুখে। বিষয়টি জেলাপরিষদকে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে আলিপুরদুয়ার জেলাপরিষদের সভাধিপতি শীলা দাস সরকার বলেন,বাজারের আবর্জনা ফেলার দায়িত্ব ইজারাদারের হাতে দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত বাজারের আবর্জনা সাফাই করা হয়। ব্যবসায়ীদের খাজনা না দেওয়ার বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।