রাজ আমলের কবিরাজি বাগান এখন ডাস্টবিন

435

দেবদর্শন চন্দ, কোচবিহার : রাজ আমলের কবিরাজি বাগান পরিণত হয়েছে ডাস্টবিনে। বর্তমানে সেই বাগানটি এলাকাবাসীদের আবর্জনা ফেলার জায়গায় পরিণত হয়েছে। যদিও শহর নোংরা করলে জরিমানার আইন রয়েছে। তবে প্রচার ও নজরদারির অভাবে শহরের মাঝে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ এই বাগানে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। অনেকেই জানিয়েছেন, শহর নোংরা করলে যে পুরসভার জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে, সেকথাও অনেকেরই অজানা। এ বিষয়ে পুরসভার তরফে কোনওরকম প্রচার করতেও দেখা যায় না। তাই এ নিয়ে প্রচারের পাশাপাশি বাগানটি সংস্কারে পুরসভার উদ্যোগী হওয়া উচিত বলে শহরের অনেক বাসিন্দা জানান।

কোচবিহারের এই কবিরাজি বাগান বাদুড় বাগান নামেও পরিচিত। এদিন সেখানে গিয়ে দেখা গেল, বাগানে আখের ছিবড়ে, প্লাস্টিক থেকে শুরু করে গৃহস্থালি, এমনকি সংলগ্ন এলাকার দোকানের বিভিন্ন আবর্জনাও ফেলা হচ্ছে। বাগানটির হতশ্রী দশায় শহরবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। ভেষজ গাছগাছালিতে ভরা এই বাগানটির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবই এর জন্য দায়ী বলে অনেকেই জানিয়েছেন। কিছু মানুষ সন্ধ্যা হলেই এলাকায় আবর্জনা ফেলে যাচ্ছেন। এলাকার কিছু দোকানদারও বাগানে বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা ফেলছেন। ওই এলাকার কাছেই রয়েছে ভবানীগঞ্জ বাজার। বাগানে আবর্জনা ফেলায় বাজারে যাতায়াতকারী মানুষকেও অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। দিনের পর দিন এরকম চলতে থাকায় ধীরে ধীরে পুরো বাদুড়বাগানই ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। এই অবস্থায় বাগানটির রক্ষণাবেক্ষণের দাবি তুলেছেন শহরবাসীদের একাংশ। কোচবিহারের মহারাজা প্রজাদের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার সুবিধার্থে কবিরাজি বাগানটি তৈরি করেছিলেন। শহরের বিশ্বসিংহ রোড সংলগ্ন এলাকায় এই বাগানটি অবস্থিত।

- Advertisement -

সেই সময় ভেষজ ওষুধের উপকরণ সহজেই কবিরাজি বাগান থেকে পাওয়া যেত। আয়ুর্বেদ চিকিৎসা সংক্রান্ত গবেষণায় বাগানটি গুরুত্বপূর্ণ ভমিকা পালন করতে পারে। প্রায় শতাধিক বছরের পুরোনো এই বাগানটি বেশ কয়েক বিঘা জমি নিয়ে তৈরি হয়েছিল। নিম, অর্জুন, আমলকি, আম সহ বিভিন্ন ধরনের কবিরাজি গাছ সেই বাগানে লাগানো হয়েছিল। সেই সব ঔষধি গাছের ছাল, শিকড়, বাকল দিয়ে চিকিত্সা হত। একারণে বাগানটির নাম দেওয়া হয়েছিল কবিরাজি বাগান। তবে ওই বাগানে বহু বাদুড় বাসা বেঁধে থাকায় শহরবাসীদের কাছে বাগানটি বর্তমানে বাদুড় বাগান নামে পরিচিত। তবে শহরের মাঝে বাগানটির অবস্থান হলেও এবিষয়ে প্রশাসন, পুরসভা, বন দপ্তর কারও কোনও হেলদোল নেই। গাছগুলি রক্ষা করতে এবং বাগানটির সৌন্দর্যায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগী হওয়া উচিত বলে শহরবাসীর অনেকেই জানিয়েছেন।

কোচবিহারের বাসিন্দা তথা প্রবীণ শিক্ষক নির্মল দে বলেন, বাগানটির এই অবস্থায় শহরের ঐতিহ্য নষ্ট হচ্ছে। বহু আয়ুর্বেদিক গাছ রয়েছে সেই বাগানে। কিছু মানুষের গাফিলতিতে বাগানটি ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। ইতিহাসবিদ ডঃ নৃপেন্দ্রনাথ পাল বলেন, বাগানটি সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেহাল অবস্থায় রয়েছে যা কোচবিহারবাসীর কাছে দুঃখজনক। বাগানটি সংস্কার করে সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। এ বিষয়ে পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান ভূষণ সিং বলেন, বাগানটি বন দপ্তরের অধীন। তা সত্ত্বেও পুরসভার তরফে মাঝেমধ্যে বাগানটি পরিষ্কার করা হয়। কিন্তু কিছু অসচেতন মানুষ মাঝেমধ্যে বাগানটি নোংরা করছেন। বন দপ্তর আমাদের দায়িত্ব দিলে আমরা বাগানের আধুনিকীকরণের ব্যবস্থা করব।