চা বাগান সম্প্রসারণে লাগবে না টি বোর্ডের অনুমতি

144

শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা : ১৯৫৩ সালের চা আইনের কয়েকটি ধারা আপাতত স্থগিত রাখার গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রক। এর ফলে চা বাগান সম্প্রসারণের জন্য টি বোর্ডের কাছ থেকে আর আগাম অনুমতির প্রয়োজন হবে না। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে ঘিরে ধন্দ ছড়িয়েছে উত্তরের চা শিল্প মহলে।

একাংশ মনে করছে, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে চা চাষের পরিধি বল্গাহীনভাবে বাড়তে থাকবে। চাহিদার তুলনায় জোগান বেশি হবে। দাম না পাওয়ার সমস্যা আরও তীব্র আকার ধারণ করবে। অনেকে আবার বলছেন, যে ধারাগুলি স্থগিত রাখা হয়েছে সেগুলির প্রাসঙ্গিকতা এমনিতেই প্রায় ক্ষীণ হয়ে গিয়েছিল। ফলে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। পাশাপাশি যে জমিতে চা বাগান গড়ে উঠেছে সেই সমস্ত জমির বিষয় রাজ্যের আওতাধীন। ফলে কেন্দ্রীয় আইনের প্রভাব সেখানে কতটা পড়বে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ধারাগুলি স্থগিত রাখার পর পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় সরকার ঠিক কী করতে চায় এখন সেদিকেই পাখির চোখ সংশ্লিষ্ট মহলের। টি বোর্ডের শিলিগুড়ি জোনের উপনির্দেশক রমেশ কুজুর বলেন, উৎপাদিত চায়ে গুণগতমানই শেষ কথা। ফলে  কোথাও কোনও সমস্যা দেখছি না।

- Advertisement -

বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রক গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ১৯৫৩ সালের চা আইনের ১২ থেকে ১৬ নম্বর এবং ৩৯ ও ৪০ নম্বর ধারাগুলি পরবর্তী নির্দেশিকা জারি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখা হচ্ছে। চা আইনের ওই সমস্ত ধারা বলেই বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রকের আওতাধীন টি বোর্ড চা চাষের পরিধির সম্প্রসারণ, নিয়ন্ত্রণ, নতুন চা গাছ রোপণের মতো বিষয়গুলির অনুমতি দিত। এখন ওইসব ধারা স্থগিত হয়ে যাওয়ায় এজন্য আলাদা করে আর কোনও অনুমতির প্রয়োজন নেই।

চা মহলের দাবি, এমনিতেই এখন অতিরিক্ত উৎপাদন হচ্ছে। বিশেষ করে ভরা মরশুমে চাহিদার তুলনায় জোগান বেশি হয়ে পড়ায় ন্যায্য দাম মেলে না। চা চাষের পরিমাণ ধারাগুলি বলবৎ থাকাকালীন অবস্থাতেই অনুমতি সাপেক্ষে বাড়ছিল। ওই বৃদ্ধির বেশিরভাগই ক্ষুদ্র চা চাষের। এখন তা আরও ত্বরান্বিত হবে।

সংগঠিত ক্ষেত্রের বড় চা বাগানের তুলনায় ক্ষুদ্র চা চাষের বৃদ্ধির হার অনেকটাই বেশি। অন্যদিকে, উৎপাদনেও ক্ষুদ্র চা চাষিদেরই জয়জয়কার। উত্তরবঙ্গের মোট উৎপাদনের ৫৬ শতাংশই তাঁদের দখলে। ফলে উত্তর দিনাজপুর, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার- এই ৫ জেলায় ওই চাষের আরও সম্প্রসারণ হলে আখেরে গিয়ে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চা মালিকদের শীর্ষ সংগঠন কনসালটেটিভ কমিটি অফ প্ল্যান্টেশন অ্যাসোসিয়েশন (সিসিপিএ)-এর সেক্রেটারি জেনারেল অরিজিৎ রাহা বলেন, উত্তরবঙ্গ সহ গোটা দেশের চা শিল্পই উদ্বৃত্ত জোগানের সমস্যায় ভুগছে। ধারাগুলি স্থগিত হয়ে যাওয়ায় চা বাগান সম্প্রসারণে টি বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ বলতে আর কিছু থাকবে না। দাম না পাওয়ার সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

ক্ষুদ্র চা চাষিদের সর্বভারতীয় সংগঠন কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (সিস্টা)-এর সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, অতিরিক্ত উৎপাদন ও চায়ের দাম প্রাপ্তির বিষয় দুটি নিয়ে কেন্দ্রকে চা শিল্পবান্ধব একটি সুস্পষ্ট নীতি গ্রহণ করতে হবে। তরাই-ইন্ডিয়ান টি প্ল্যান্টেশন অ্যাসোসিয়েশন (টিপা)-এর চেয়ারম্যান মহেন্দ্র বনশাল বলেন, আমরা উদ্বিগ্ন। দ্রুত নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একটি চিঠি পাঠাব। উত্তরবঙ্গের বিশিষ্ট চা বাগান বিশেষজ্ঞ রামঅবতার শর্মার কথায়, তাৎক্ষণিক সমস্যা তো দেখাই যাচ্ছে। এখন বিকল্প হিসেবে সরকার কিছু ভেবে রেখেছে কিনা সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছি।