বিশবাঁও জলে চা বাগানের ভবিষ্যৎ, বীরপাড়ায় পথ অবরোধ শ্রমিকদের 

81

রাঙ্গালিবাজনা: বীরপাড়া চা বাগানের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে সোমবার বীরপাড়া চৌপথি এলাকায় ৪৮ নম্বর এশিয়ান হাইওয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভে শামিল হলেন বাগানের এনজি এবং ওজি ডিভিশনের শ্রমিক-কর্মচারিরা। তাদের অভিযোগ, বাগান খোলার দু’মাস পরও জটেশ্বর ডিভিশনের শ্রমিক-কর্মচারিরা কাজে যোগ দেননি। উলটে বেআইনিভাবে কাঁচা পাতা বিক্রি করে দিচ্ছে তারা। অথচ, পুলিশ প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে বাগান অচল হওয়ার পর ট্রেড ইউনিয়ন, ডানকান টি কোম্পানি ও মেরিকো টি কোম্পানির যৌথ বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি চা বাগানটি সচল হয়। চা বাগান বন্ধ থাকার সময় বিভিন্ন ডিভিশনে কমিটি গড়ে কাঁচা পাতা বিক্রি করতেন শ্রমিক-কর্মচারিরা। বাগান খোলার পর এনজি এবং ওজি ডিভিশনের ডিভিশনের শ্রমিক কর্মচারিরা কাজে যোগ দিলেও বাগানের মালিকানা হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে কাজে যোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকেন জটেশ্বর ডিভিশনের শ্রমিক-কর্মচারিরা। তাদের বক্তব্য, নয়া মালিকপক্ষ সন্তোষজনক কাগজপত্র দেখাতে পারছে না। তাই নয়া মালিকপক্ষের অধীনে তাঁরা কাজ করতে রাজি নন। অন্য়দিকে, চা পাতা বিক্রির প্রসঙ্গে তারা জানান, রুজির সংস্থানেই তাদের পাতা বিক্রি করতে হচ্ছে। উপযুক্ত কাগজপত্র দেখালেই তাঁরা মেরিকো টি কোম্পানিকে মেনে নেবেন তাঁরা। নচেৎ নয়।

- Advertisement -

এবিষয়ে আলিপুরদুয়ার কোচবিহার চা বাগান মজদুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রবিন রাই জানান, চা পাতা বিক্রির বিষয়ে একাধিকবার পুলিশে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। এমতবস্থায় ফের বাগান বন্ধ হয়ে পড়লে সমস্যায় পড়তে হবে সকলকে। তাই বাধ্য হয়েই আমরা পথ অবরোধে শামিল হয়েছি। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ ক্ষেতমজুর সমিতির নেত্রী অনুরাধা তলোয়ারের বক্তব্য, ডানকানের হাত থেকে মেরিকো টি কোম্পানির হাতে ওই চা বাগানটি যাওয়ার প্রক্রিয়াটাই বেআইনি ও অবৈধ।

বাগানের তরফে মেরিকো টি কোম্পানির ডিরেক্টর সুরজিৎ বক্সির বক্তব্য, এভাবে বাগান চালানো সম্ভব নয়। তেমন হলে কোম্পানি অন্যরকম চিন্তাভাবনা করতে পারে।