চা সুন্দরী প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন চান বাগানের শ্রমিকরা

320

নাগরাকাটা : চা শ্রমিকদের আবাসন প্রকল্প চা সুন্দরীর বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত শুরু করার দাবি উঠতে শুরু করেছে। এবারের রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র গৃহহীন চা শ্রমিকদের জন্য বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার ওই প্রকল্পটির কথা ঘোষণা করেছিলেন। এজন্য আগামী ৩ বছরে ৫০০ কোটি টাকা আর্থিক বরাদ্দের কথাও তাঁর পেশ করা বাজেট প্রস্তাবে ছিল। যদিও তারপর থেকে বিষয়টি নিয়ে সরকারি স্তর থেকে কোনও উদ্যোগের খবর নেই।

চা মালিকদের একটি সংগঠন টি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার (টাই) ডুয়ার্স শাখার তরফে চা সুন্দরী চালু হলে আর্থিক সংকটে জেরবার বাগানগুলিও উপকৃত হবে, সেকথা জানিয়ে প্রশাসনকে একটি চিঠিও দিয়েছে। আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের মেন্টর ও চা বাগান তৃণমূল কংগ্রেস মজদুর ইউনিয়নের সভাপতি মোহন শর্মা বলেন, সরকার যখন ঘোষণা করেছে তখন নিশ্চয়ই হবে। লকডাউনের কারণেই বিষয়টি খুব একটা এগোয়নি। এবারে আমরা পুরোদমে চা সুন্দরী নিয়ে আসরে নামব।

- Advertisement -

উত্তরবঙ্গে চা বাগানের সংখ্যা ৩০০টির কিছু বেশি। স্থায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন সাড়ে ৩ লক্ষ মানুষ। বাগিচা শ্রম আইন অনুসারে তাঁদের আবাসন মালিকদেরই দেওয়ার কথা। তবে বেশিরভাগ বাগানেই আবাসনের নামে বর্তমানে যা রয়েছে তা মাথাগোঁজার আস্তানা ছাড়া আর অন্য কিছু নয় বলে শ্রমিকদের এমন অভিযোগ বহু পুরোনো।  নতুন বাড়ি তৈরি করে দেওয়া তো দূরের কথা অনেক স্থানে পুরোনো জরাজীর্ণ শ্রমিক আবাসের মেরামতির কাজও হয় না বছরের পর বছর ধরে। ভাঙা বাড়িতেই শ্রমিকদের দিনের পর দিন রোদ, জল, ঝড়-বাতাসের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। বাড়িঘরের বিষয়টি চা বাগানের একটি অন্যতম বড় ইশ্যুও।

রাজ্যের তরফে এবার যখন চা সুন্দরীর ঘোষণা করা হয় তখন আশায় বুক বেঁধেছিলেন অনেকেই। যদিও এরপর এটা নিয়ে আর কোনও তৎপরতা শুরু না হওয়ায় বিষয়টি স্রেফ ঘোষণা ছিল কি না এমন প্রশ্নেও সরব হয়েছেন শ্রমিক সংগঠনগুলির একাংশ। জয়েন্ট ফোরামের অন্যতম আহ্বায়ক মণিকুমার দার্নাল বলেন, ওই প্রকল্পটিকে আমরাও স্বাগত জানিয়েছিলাম। তবে এটা নিয়ে কাজ শুরু হওয়ার কোনও নজির কিন্তু এখনও দেখতে পাইনি।

চা মালিকদের সংগঠন টাই-এর ডুয়ার্স শাখার সম্পাদক রামঅবতার শর্মা বলেন, চা শিল্পের যা পরিস্থিতি তাতে আবাসনের ওই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাগানগুলিও উপকৃত হবে। ডিবিআইটিএর সম্পাদক সঞ্জয় বাগচি বলেন, প্রকল্পটি হোক। তবে ইন্দিরা আবাস বা প্রধানমন্ত্রী আবাস বা বাংলার আবাস যোজনার মতো বাগান পরিচালকদের কাছ থেকে এনওসি নেওয়ার বন্দোবস্ত যেন এতে থাকে।