সৌরভ রায়, হরিরামপুর : এলাকার  আর্থসামাজিক উন্নয়নের স্বার্থে হরিরামপুর ব্লকের বৈরাঠ্যা গ্রাম পঞ্চায়েত স্থানীয় গড়দিঘিকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটাতে উদ্যোগী হয়েছিল। গড়দিঘির পাড় সাজানোর পাশাপাশি গড়ে তোলা হয়েছিল রিসর্ট।

পর্যটন দপ্তরের সহযোগিতায় সেই রিসর্ট গড়ে তোলা হলেও এখনও পর্যন্ত সেখানে কোনো দর্শক রাত্রিবাস করার ইচ্ছা প্রকাশ করেননি। ফলে পঞ্চায়েতের পরিকল্পনা মুখ থুবড়ে পড়েছে। অনেকের অভিযোগ, অর্থ ব্যয় করে পরিকাঠামো গড়ে তোলা হলেও সেই অর্থে প্রচারের ওপরের জোর দেওয়া হয়নি। শীতের মরশুমে পিকনিক করতে মানুষজন এখানে এলেও সারাবাছর সেভাবে পর্যটকদের দেখা মেলে না। হরিরামপুরের বিডিও অবশ্য জানিয়েছেন, প্রমোদভ্রমণের জন্য আরও কিছু ব্যবস্থা করে তার প্রচার চালানো হবে। এতে পর্যটকরা এলাকার প্রতি আকৃষ্ট হবেন।

হরিরামপুর ব্লকের বৈরাঠ্যা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় রয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন গড়দিঘি। প্রতিবছরেই শীতের মরশুমে বহু মানুষ দল বেঁধে এখানে পিকনিক করতে আসেন। আরও বেশি দর্শনার্থী টানতে গড়দিঘির পাড়ের পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়েছিল স্থানীয় পর্যটন দপ্তর এবং গ্রাম পঞ্চায়েত। গড়দিঘির পাড় জুড়ে আপেল, কমলালেবু, মুসাম্বি, পেয়ারা সহ নানা ধরনের মরশুমি ফলের গাছ লাগানো হয়। লাগানো হয়েছিল নানা ধরনের মরশুমি ফুলের গাছও। এছাড়াও পর্যটন দপ্তরের বরাদ্দ প্রায় কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে দুটি রিসর্টও তৈরি করা হয়। বাইরে থেকে গড়দিঘি, হাতিডোবা কিংবা পাল আমলের খনন করা মালিয়ানদিঘি দেখতে এসে যদি কেউ রাত্রিবাস করতে চান, তাঁদের কথা মাথায় রেখেই তৈরি হয় রিসর্ট। পাটন মালিয়ানদিঘি রাস্তা থেকে গড়দিঘি রিসর্ট পর্যন্ত তৈরি করা হয় ঢালাই রাস্তা।

ওই পর্যটন কেন্দ্রটি দেখভালের জন্য স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার ওপর ভার দেওয়া হয। কিন্তু আজ পর্যন্ত ওই রিসর্টে সেই অর্থে পর্যটক না আসায় খানিক হতাশ সংস্থার কর্মকর্তারাও। তাঁরা জানান, রাত্রিবাসের মতো উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কিন্তু পর্যটকরা আসছেন না। ওই রিসর্ট দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার কর্ণধার জবেদুর রহমান বলেন, পর্যটকরা এসে স্বচ্ছন্দ্যে রাত্রিবাস করতে পারবেন সেই পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের এলাকায় হয় না এমন বহু ফলের গাছ লাগানো হয়েছে পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য। আগামী এক মাসের মধ্যে গড়দিঘির পাড় জুড়ে একটা নতুন সবুজায়নের ছবি দেখতে পাবেন সকলেই।

হরিরামপুরের বিডিও শ্রীমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পর্যটকদের জন্য নানা ফলের গাছের সঙ্গে বোট চালানোর একটা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দিঘির এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে বোটিংয়ের সুযোগ পেলে বহু পর্যটক এখানে আসবেন বলে মনে করা হচ্ছে।