পুরোনো শত্রুর বিরুদ্ধে বদলার ম্যাচ গ্যারেথের

লন্ডন : ইংল্যান্ড বনাম জার্মানি মানেই গোল নিয়ে বিতর্ক। ৬৬-র বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল হওয়া নিয়ে অভিযোগ ছিল জার্মানদের। ২০১০ সালে গোল বাতিল নিয়ে সরব হয়েছিল ইংল্যান্ড।

এর সঙ্গেই উঠে আসে ১৯৯৬ ইউরোর সেমিফাইনাল। সেদিন শেষবেলায় টাইব্রেকারে শট মিস করে দলকে ডুবিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের ৬ নম্বর জার্সির মালিক। ঘটনাচক্রে সেই ৬ নম্বর জার্সির মালিক গ্যারেথ সাউথগেট মঙ্গলবার ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে হ্যারি কেনদের হেডস্যর হিসেবে ডাগআউটে থাকবেন। সিকি শতক আগের হারের বদলা এবার নিতে মরিয়া তিনি।

- Advertisement -

মহা-ম্যাচের আগে অবশ্য সংয়ত প্রতিক্রিয়া গ্যারেথের। বললেন, গত ৩-৪ বছর ধরে আমরা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করছি। অতীতে কী হয়েছে তা নিয়ে আমরা মাথা ঘামাই না। ফুটবলাররাও এই চ্যালেঞ্জ নিতে আগ্রহী। ওরা বিষয়টি উপভোগ করে। জার্মানির বিরুদ্ধে খেলার মধ্যে ভয়ের কিছু নেই। এটাও একটা চ্যালেঞ্জ। আর ফুটবলাররাও এই ম্যাচকে সুযোগ হিসেবেই দেখছেন।

ইউরোয় একমাত্র দল হিসেবে এখনও গোল খায়নি ইংল্যান্ড। ফলে ডিফেন্স নিয়ে খুব একটা চিন্তা করতে হচ্ছে না গ্যারেথকে। কিন্তু ৩ ম্যাচ পরও ফরোয়ার্ড লাইনের কম্বিনেশন তৈরি করতে পারেননি। হ্যারি কেন ও রাহিম স্টার্লিংয়ের সঙ্গে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ফিল ফোডেন, জ্যাক গ্রেলিশ, ম্যাসন মাউন্ট, বুকায়ো সাকাদের খেলাচ্ছেন। এদের মধ্যে মাউন্ট ও সাইডব্যাক বেন চিলওয়েল এখনও কোয়ারান্টিনে। সোমবার অনুশীলনেও নামেননি। ফলে মঙ্গলবার জার্মানি ম্যাচে তাঁদের খেলার সম্ভবনা নেই বললেই চলে।

একদিন আগেই কম্বিনেশন বদলে তিন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের স্ট্র‌্যাটেজি নেওয়ার পাশাপাশি মার্কাস র‌্যাশফোর্ডকে শুরু থেকে খেলানোর পরামর্শ দিয়েছেন ওয়েন রুনি। এক্ষেত্রে গ্রেলিশ ও ফোডেনকে বাদ দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। সেই ফোডেন জার্মানি ম্যাচ প্রসঙ্গে বললেন, যখন এই দুই দেশের রাইভ্যালরির সূত্রপাত, তখন আমি জন্মাইনি ঠিকই। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই আমরা এই বিষয়ে নানা কথা জেনেছি। আমরা জার্মানিকে হারাতে পারব না, এমন নয়। দলের আক্রমণ যদি সঠিক সময়ে দানা বাধে, তবে শেষ হাসি আমরাই হাসব।

জার্মান বস জোয়াকিম লোর কাছে অবশ্য এবারের ইউরোর সব ম্যাচই সম্মানরক্ষার। ইউরোর পরই দায়িত্ব ছাড়বেন। তাই অধরা ট্রফি জিতে সমালোচকদের জবাব দিতে মুখিয়ে আছেন। নকআউটে উঠলেও চ্যাম্পিয়নসুলভ ফর্মে এখনও জার্মানদের দেখা যায়নি। বিশেষত শেষ ম্যাচে হাঙ্গেরির অনামী ফুটবলাররা প্রায় ছিটকে দিয়েছিলেন। তবে প্রি-কোয়ার্টারে নতুন লড়াই, মত জোয়াকিমের। বলছেন, জয় ছাড়া কোনও উপায় নেই। তাই কিছু বিষয়কে নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসতে হবে। নয়তো কাজটা কঠিন হয়ে যাবে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে লড়াইটা অন্যরকম হবে। এটা থেকে আমরা লাভবান হতে পারি।

চোটের জন্য হাঙ্গেরি ম্যাচে ছিলেন না দলের পুরোনো মুখ টমাস মুলার। ১১ বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় লোর দলের হয়ে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করেছিলেন। এই ম্যাচ প্রসঙ্গে বললেন, ম্যাচটা ৫০-৫০। এর জন্যই ম্যাচের আকর্ষণ আরও বেশি। তবে আমরা যদি একটি ইউনিট হিসেবে লড়তে পারি, জিততে অসুবিধা হবে না। এই কাজের জন্য উপযুক্ত ফুটবলার আমাদের আছে।

সরাসরি নকআউটে আসা ৮ দলের মধ্যে সবচেয়ে কম গোল করেছে ইংল্যান্ড আর সবচেয়ে বেশি গোল খেয়েছে জার্মানি। মঙ্গলবার ওয়েম্বলিতে প্রতিপক্ষের সমস্যার লাভ সুদে-আসলে নিতে তৈরি দুপক্ষই।