শখ যেন আজ পেশা, প্রতিমা বানিয়ে তাক লাগাচ্ছেন গীতা

48

গাজোল: একসময় শখের বশে শুরু করেছিলেন ছোটখাটো পুতুল তৈরির কাজ। কিন্তু সেই হাতের কাজই যে একদিন সংসার চালানোর কাজে সাহায্যে আসবে তা হয়তো ভাবতে পারেননি গীতা দেবী। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে প্রতিমা তৈরি করে মৃৎশিল্পী হিসাবে আজ অনেকটাই প্রতিষ্ঠিত তিনি। গাজোল শহর এলাকার কুমোরটুলিতে গীতা পাল আজ এক প্রতিষ্ঠিত নাম। গাজোল ব্লক ছাড়াও পাশের জেলাগুলিতেও প্রতিমাশিল্পী হিসেবে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছেন তিনি। বর্তমানে প্রতিমা তৈরির কাজে তাঁকে অনেকটাই সহযোগিতা করেন স্বামী এবং ছেলে। তবে প্রতিমার ফিনিশিং টাচ দিতে হয় তাঁকেই।

গাজোল থানা রোড এলাকায় রয়েছে মৃৎশিল্পীদের একাধিক কারখানা। গাজোলের পটুয়াপাড়া বলতে বোঝায় এই এলাকাকেই। এখানেই একটি মাঝারি মাপের কারখানায় প্রতিমা তৈরি করেন গীতা পাল। সারা বছর ধরেই বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা তৈরি করেন তিনি। তবে তিনি পরিমাণে খুব বেশি প্রতিমা তৈরি করেন না। কেননা আলাদা করে তিনি কোনও কারিগর রাখেননি। কাঠামো তৈরি থেকে মাটির কাজ, রং সমস্তটাই করেন পরিবারের সকলে মিলে। এদিন তাঁর কারখানায় গিয়ে দেখা গেল এক মনে কাজ করে চলেছেন তিনি। এখন চলছে প্রতিমা দ্বিতীয় দফার মাটির প্রলেপ দেওয়ার কাজ।

- Advertisement -

গীতা দেবী জানান, এবছর চারটি দুর্গা প্রতিমার অর্ডার নিয়েছেন তিনি। সঙ্গে তৈরি করছেন বেশ কিছু লক্ষ্মী-নারায়ণ এবং লক্ষ্মী মূর্তি। একসময় তাঁর স্বামী বাবুয়া পাল প্রতিমা তৈরি করতেন। সেই সময় শখের বশে তিনিও হাত লাগাতেন। সেদিনের সেই নেশা আজ বদলে গিয়েছে পেশায়। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে প্রতিমা বানিয়ে চলেছেন তিনি। প্রতিমা বানিয়েই চলে সংসার। এক মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। এক ছেলে সাগর পাল স্নাতক। যা আয় হয় তা দিয়ে মোটামুটি ভাবে চলে যায় সংসার। তবে জিনিসপত্রের দাম যে হারে বেড়েছে সেই তুলনায় দাম বাড়েনি প্রতিমার।

দিনের রোজনামচা সম্পর্কে বলতে গিয়ে গীতা দেবী শোনালেন তাঁর জীবন সংগ্রামের কাহিনী। প্রতিদিন সকাল সাতটার মধ্যে ঘুম থেকে উঠতে হয়। সকাল দশটা থেকে এগারটার মধ্যে সংসারের সমস্ত কাজ, পুজো এবং রান্নাবান্নার কাজ সেরে হাত লাগান প্রতিমা তৈরির কাজে। দুপুরবেলায় ভাত খেয়ে আবার শুরু হয় কাজ। অন্যান্য সময় রাত আটটা-ন’টা পর্যন্ত কাজ চললেও বর্তমানে রাত বারোটা পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। কারিগর রাখলে হয়তো সময় কিছুটা বাঁচত। কিন্তু লভ্যাংশ অনেকটাই কমে যেত। তাই বাড়তি কিছু রোজগারের জন্য কারিগর রাখেননি। পরিবারের সকলে মিলেই দিনরাত এক করে কাজ করে চলেছেন। এ বছর চারটি মাঝারি মাপের দুর্গা প্রতিমা তৈরি করছেন। সঙ্গে তৈরি করছেন বেশ কিছু লক্ষ্মী এবং নারায়ণ প্রতিমা। দুর্গাপুজোর পরই শুরু করবেন কালী প্রতিমা বানানোর কাজ। এভাবে সারা বছর ধরেই একনাগাড়ে প্রতিমা তৈরি করে সংসারের হাল শক্ত হাতে ধরে রেখেছেন তিনি।

গীতা দেবী বলেন, ‘হাতে টাকা-পয়সা সেভাবে না থাকার জন্য বেশিরভাগ সময় প্রতিমা তৈরির নানা উপকরণ ধার হিসেবে নিয়ে আসতে হয়। যার জন্য অনেক সময় দাম অনেকটা বেশি পড়ে যায়। এইসব জিনিস যদি এক লপ্তে পাইকারি দামে কিনে আনা যায় তাহলে দাম অনেকটা কম পড়ে। কিন্তু সেইরকম আর্থিক সংগতি নেই। সরকার যদি একটু সাহায্য করে তাহলে খুবই উপকৃত হই।’