কৌশিক শীল, বানারহাট : মাঝে সুদৃশ্য বাগান, তার তিনদিকে ঝাঁ চকচকে পরিচ্ছন্ন বারান্দা। বাগানে নানাধরনের আকর্ষণীয় গাছপালা। একঝলক দেখে কোনো অভিজাত বাংলো বা বাগানবাড়ি বলেই মনে হবে। বিশ্বাস করাই শক্ত যে, এটি আসলে একটি হাসপাতাল। তাও চা শ্রমিকদের জন্য। নজরকাড়া এমন হাসপাতালটি চোখে পড়বে বানারহাটের গেন্দ্রাপাড়া চা বাগানে।

ডুয়ার্সের চা বলয়ে বাগানগুলিতে সাধারণ যে সমস্যাগুলির কথা বা যে অভিযোগগুলির কথা উঠে আসে, তার মধ্যে অন্যতম হল অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্য পরিসেবা। বেশিরভাগ বাগানের হাসপাতালগুলির অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। সামান্য জ্বর বা পেটের অসুখ ছাড়া তেমন কোনো চিকিৎসাই পাওয়া যায় না সেখানে। ওষুধ ও চিকিৎসকও বেশিরভাগ সময় হাসপাতালে মেলে না। কিন্তু গেন্দ্রাপাড়া চা বাগানের হাসপাতাল সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করছে। হাসপাতালের পরিকাঠামো দেখলে কোনো নার্সিংহোম বলে ভুল হতেই পারে। হাসপাতালে রয়েছে পর্যাপ্ত ওষুধ, অপারেশন থিয়েটার, আইসোলেশন ওয়ার্ড, মেটারনিটি ওয়ার্ড, স্টাফদের জন্য আলাদা কেবিন, নার্সদের আলাদা ঘর, দেয়ালে টিভি লাগানো সুসজ্জিত বিরাট ডাইনিং হল সহ আরও অনেক কিছু। একজন চিকিৎসক ও চারজন নার্স দিনরাত পরিসেবা দেন। ছোটোখাটো অপারেশনও এই হাসপাতালে হয়। ৩০টি শয্যা রয়েছে এই হাসপাতালে। দিনে দু’বার নিয়মিত রোগীদের দেখাশোনা করেন চিকিত্সক সুব্রত মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, হাসপাতালে বাগান কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধের জোগান দেয়। তাই পরিসেবা দিতে তেমন অসুবিধে হয় না।

গেন্দ্রাপাড়া চা বাগানের শ্রমিক কল্যাণ আধিকারিক বিশু দাস বলেন, আমাদের বাগানের হাসপাতালটি আমাদের গর্ব। হাসপাতালের পেছন দিকে খানিকটা জমিতে কিচেন গার্ডেন তৈরি করা হয়েছে। সেখানে উৎপাদিত শাকসবজি রোগীদের খাবার হিসেবে কাজে লাগে। হাসপাতালের পরিসেবা ও পরিকাঠামোর বিষয়ে সকলেই সন্তুষ্ট। এই ধরনের হাসপাতাল চা বলয়ে খুব কমই দেখা যায়।