তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে পরেশের নাম ঘোষণা হতেই উচ্ছ্বাস গেরুয়া শিবিরে

185

হলদিবাড়ি: শুক্রবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেখলিগঞ্জ বিধানসভা আসনের জন্য তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে পরেশচন্দ্র অধিকারির নাম ঘোষণা করেন। রাজ্যের এক নম্বর আসনের জন্য পরেশবাবুর নাম ঘোষণা হতেই উচ্ছ্বসিত মহকুমার বিজেপি শিবির। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে লড়াইটা অনেক সহজ হল বলেই বিজেপির নেতৃত্বরা মনে করেন। তৃণমূলের প্রার্থী চয়নের মধ্যে দিয়েই মেখলিগঞ্জ বিধানসভা আসন নিজেদের দখলে আসার বিষয়ে একশ শতাংশ নিশ্চিত বলে মনে করছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব সহ নিচু স্তরের কর্মীরা। যদিও বিজেপির এমন আত্মতুষ্টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ শাসক শিবির। মেখলিগঞ্জ আসন দখল বিজেপির দিবাস্বপ্ন বলেই মনে করছেন তাঁরা।

গত বিধানসভা নির্বাচনে শাসকদল বিরোধী ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী ছিলেন পরেশচন্দ্র অধিকারি। তাঁর সঙ্গে লড়াই করে এই আসনে জয়ী হয় তৃণমূলের অর্ঘ্য রায় প্রধান। এবছর তিনি নিজেই শাসকদলের প্রার্থী। বিগত লোকসভা নির্বাচনের কয়েকমাস আগে ফরওয়ার্ড ব্লক থেকে তৃণমূলে যোগদান করেন বাম মন্ত্রিসভার খাদ্যমন্ত্রী পরেশচন্দ্র অধিকারি। তিনি বিগত বিধানসভা নির্বাচনে অর্ঘ্য রায় প্রধানের কাছে পরাজিত হন। দলে যোগদান করেই এলাকায় মুখ্যমন্ত্রীর স্নেহভাজন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁকে কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী করা হয়। নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর চ্যাংরাবান্ধা উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যানের দ্বায়ীত্বে বসানো হয়। এরপর সম্প্রতি মেখলিগঞ্জ পুরসভার প্রশাসনিক বোর্ডের চেয়ারপার্সন পদে আসীন হন তিনি।

- Advertisement -

বিজেপির প্রাক্তন জলপাইগুড়ি জেলা কমিটির সভাপতি দেবাশিস চক্রবর্তী বলেন, ‘পরেশচন্দ্র অধিকারি তৃণমূলের প্রার্থী হওয়ায় আসনটি বিজেপির দখলে আসা প্রায় নিশ্চিত। গত বিধানসভা,লোকসভা নির্বাচনে পরাজিত হন তিনি। এবছর পরাজিত হয়ে হেট্রিক করার পথে তিনি। বিজেপির মেখলিগঞ্জ মহকুমার কোঅর্ডিনেটর স্বপন সরকার বলেন, আমাদের প্রার্থীর জয়লাভ অনেক সহজ হয়ে গেল।’

তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন বিধায়ক থাকার কারণে পরেশচন্দ্র অধিকারি সম্পর্কে হলদিবাড়ি ও মেখলিগঞ্জ মহকুমার মানুষ ভালোভাবে অবগত আছেন। শাসকদলে যোগদান করেই নিজের কন্যার হাই স্কুলে চাকুরী সংক্রান্ত বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। চ্যাংরাবান্ধা উন্নয়ন পর্ষদের নাম করে রশিদ ছাপিয়ে বাংলাদেশগামী ট্রাক থেকে টাকা তোলার মতো দুর্নীতিরও অভিযোগ রয়েছে পরেশের বিরুদ্ধে। এছাড়াও বাম আমলে বিধায়ক ও মন্ত্রী থাকাকালীন হলদিবাড়ি ব্লকের জন্য উল্লেখযোগ্য তেমন কিছুই করেননি তিনি। চ্যাংরাবান্ধা উন্নয়ন পর্ষদের দায়িত্ব পাওয়ার পরেও হলদিবাড়ি ব্লকের জন্য একটিও প্রকল্পের কাজ করেননি তিনি।’

এদিকে, বিজেপির দক্ষিণ মণ্ডলের সভাপতি প্রভাতচন্দ্র রায় বলেন, ‘বাম আমলে প্রতি বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিস্তা সেতুর শিল্যান্যাস করে হলদিবাড়ি ব্লকের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে ভোট ব্যাঙ্ক ভরেছেন তিনি। সেতুর প্রত্যাশায় প্রতি নির্বাচনে হলদিবাড়ি ব্লক থেকে লিড নেন পরেশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শুখা মরশুমে ফেয়ার ওয়েদার ব্রিজ অর্থ্যাৎ অস্থায়ী কাঠের সেতু ও বাঁশের সাঁকো বানিয়ে নিজের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। অভিযোগ দলীয় সন্মলেনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলে ‘জয়ী সেতুর’ পরিকল্পনা করেন বলেও দাবি করেন। অথচ সেতুর শিল্যান্যাসের সময় তিনি ফরওয়ার্ড ব্লকে ছিলেন। সেই ব্যক্তি সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মঞ্চে সবার আগে বসে ছিলেন। এমন ব্যক্তিকে দুই ব্লকের মানুষ ভোট দিবেন না বলেই মনে করেন তিনি।’ বিরোধীদের অনুমানই ঠিক হবে না জয়ী সেতুর ওপর ভর করেই ভোট বৈতরণী পার করবে তৃণমূল সেই দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

এই প্রসঙ্গে জয়ের বিষয়ে নিশ্চিত তৃণমূলের প্রার্থী পরেশচন্দ্র অধিকারি বলেন, ‘বিরোধীরা অনেক কিছুই বলবে। সাধারণ মানুষ ভোটের ব্যালটে এর জবাব দিবে।’