নদীর ভাঙনে বিধ্বস্ত ঘাগড়া গ্রাম, ভোটে উৎসাহ নেই স্থানীয়দের

124

আলিপুরদুয়ার: ‘ভোট দিয়ে কি হবে? ভাগ্য বদলাবে নেতাদের। আমরা যে তিমিরে ছিলাম, সেই তিমিরেই থেকে যাব।’ আক্ষেপের সুরে বলেন আলিপুরদুয়ার শহরতলির ঘাগড়া গ্রামের বাসিন্দারা। ভোট দোরগোড়ায় হলেও তাঁদের কোনওরকম আশা নেই কারোর কাছ থেকে। কালজানি, গরম, চাপাতলি তিনটি নদীর ভাঙ্গনে বিধ্বস্ত হয়ে ঘাগড়া গ্রামের মানচিত্রটা বদলে গিয়েছে। ফলে সর্বহারা হয়ে একচিলতে ঘরে চলে যাচ্ছে দিন। একটা সময় স্বচ্ছল অবস্থা থাকলেও এখন সবই অতীত। তবে, সাহায্য করার জন্য কেউই এগিয়ে আসেননি বলে আক্ষেপের সুর রয়েছে এলাকায়।

নদী গিলেছে চাষের জমি, বসত ভিটে। আলিপুরদুয়ার শহরতলির ঘাগড়া গ্রামের বহু স্বচ্ছল পরিবার চাষি থেকে আজ দিনমজুরে পরিণত হয়েছে অনেকেই। এক সময় যে জমি তিন ফসলি ছিল, সেই জমি এখন বালিচর আবার কোথাও দিয়ে বয়ে গিয়েছে নদীর গতিধারা। কয়েক পুরুষের ভিটেবাড়ি হারিয়ে এখন কেউ অন্যের একচিলতে জমিতে মাথা গুঁজে রয়েছেন, কেউ বা খাসজমিতে। স্বচ্ছল পরিবারের ছেলেরা এখন কেউ নদী থেকে বালি তুলে লরি ভরিয়ে দেয়, কেউ বা টোটো চালায় আবার কেউ সবজি বিক্রি করেই সংসারের হাল ধরেছে। বিধানসভা নির্বাচন সামনে, ভোটের হাওয়া লেগেছে এখানেও। কিন্তু ভোট নিয়ে উৎসাহ নেই জমি হারা বাসিন্দাদের। ভোট এলেও বা কি এমনই দৃশ্য লক্ষ্য করা গেছে ওই গ্রামে? সরকারি সাহায্য তো কল্পনাতীত।

- Advertisement -

স্থানীয় মানিক রায় বলেন, ‘বাবা ঠাকুরদার ৩১ বিঘা চাষের জমি ছিল এখন কিছুই নেই। লোকের জমিতে কাজ করে সংসার চালাতে হয়। সরকার থেকে কিছুই পাইনা।‘ আরও এক বাসিন্দা রামকৃষ্ণ রায় জানান, ‘আমাদের ১৮ বিঘা জমি নদী গিলে খেয়েছে। এখন কোনওভাবে পরিবার পরিজনদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া হয়।’