শিকলের বাঁধনে থেকেই শৈশব কাটছে কেতুগ্রামের নাবালিকার

674

বর্ধমান ৪ ফেব্রুয়ারিঃ ‘আমি আর কাউকে কামড়াবোনা। কাউকে  খামচাবোনা। খুলে দাও  আমার পায়ে বেঁধে রাখা শিকল । আমি স্কুলে যাবো’। এই  আকুতি  শিকলের বাঁধনে শৈশব জীবন কাটানো পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের কেউগুড়ি গ্রামের  নাবালিকা মাম্পি খাতুনের । মেয়ে ফের যাদি কাউকে খামচে দেয় কিংবা কামড়ে দেয় তাহলে  গ্রামবাসীরা আর ছেড়ে কথা বলবেনা। তাই নাবালিকা মেয়ের শত আকুতি উপেক্ষা করেই গ্রামবাসীদের নিদান মেনে তাঁর পায়ে শিকল জড়িয়ে তালা চাবির বাঁধন দিয়ে রাখতে বাধ্য হয়েছেন বাবা মা। শিকলে বাঁধা শৈশব জীবন থেকে  আদৌ মুক্তি মিলবেকিনা তার উত্তর অবশ্য নাবালিকার কাছে অজানাই রয়েগেছে।
কেতুগ্রাম ২ ব্লকের শিতাহাটি পঞ্চায়েতের কেউগুড়ি গ্রামে বসবাস নাবালিকার পরিবাবের। বাবা মিরাজ শেখ দিন মজুরের কাজ করেন। মা সাবিনা বিবি সংসার সামলানোর পাশাপাশি ১০০ দিনের কাজও করেন। মঙ্গলবার  মিরাজ শেখের বাড়িতে পৌঁছে দেখা গেল বাড়ির একটি ঘরে পায়ে শিকল ও  তালাচাবি বাঁধা অবস্থায় বসে রয়েছে  মাম্পি খাতুন । কেন মাপ্পিকে  শিকলের বাঁধনে বেঁধে রাখা হয়েছে? এই প্রশ্ন শুনে মাপ্পি নিজেই  বলে উঠে ‘আমি দুষ্টমি করি বলে  রেগে গিয়ে গ্রামের সবাই বাড়িতে এসে বলে গেছে আমাকে বেঁধে রাখতে। তাই মা আমার পায়ে শিকলের বাঁধন দিয়ে রাখে। এর জন্য আমার কষ্ট হয়। সে এও জানায় তার স্কুল যেতে ইচ্ছা করে। পায়ের শিকল খুলে দিলে সেও  স্কুল যাবে।
মেয়ে মাম্পি  এমন আকুতির কথা শোনালেও  মা সাবিনা বিবি ও বাবা মিরাজ শেখ অবশ্য তাদের  অসহায়তার কথাই শোনালেন। মাম্পি তাদের একমাত্র সন্তান।  কিন্তু  সে বর্তমানে মানসিক ভাবে সুস্থ নয়। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল  এবং  কলকাতার হাসপাতালে মেয়ের চিকিৎসা করিয়ে ছিলেন। পরে  বহরমপুরেও মেয়েকে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করান। কিন্তু টাকা পয়সা আর জোগাড় করতে না পারায় পরে মাম্পির আর চিকিৎসা করাতে পারেননি । তবুও মেয়েকে  গ্রামের প্রাথমিক স্কুলে ভর্তি করিয়ে ছিলেন। সেখানে শিক্ষকরা মাপ্পিকে আগলে রাখতেন। প্রাথমিকের পাঠ সম্পূর্ণ করার পর ভয়ে মাম্পিকে আর হাই স্কুলে ভর্তি করেন নি ।  কারণ  মাম্পি কখনও  কোনো বাচ্চাকে খামচে দিয়ে কামড়ে দিয়ে আহত করত। এই সবের কারণে গ্রামের সবাই রেগে যায়। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন মাম্পির এই আচরণ আর বরদাস্ত করবেনা। গ্রামবাসীদের নিদান মেনেই প্রায় দু’বছর ধরে ঘরেতেই পায়ে শিকল তালাচাবি দিয়ে মাম্পিকে বেঁধে রাখতে হচ্ছে। তবে গ্রামের বাসিন্দারা জানালেন, তারা চাইছেন প্রশাসন অসহায় নাবালিকাকা চিকিৎসার ব্যবস্থা করুক এবং মাম্পি সুস্থ হয়ে উঠুক।
কেতুগ্রাম ২ ব্লকের বিডিও অরিজিত দাস জানিয়েছেন, ‘বুধবার আমি নাবালিকার বাড়িতে যাব। তারপর মহকুমাশাসকের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে’।