জিটিএ-তে নতুন মুখ চাইছে মোর্চা

রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে ও পাহাড়ে নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি বৃদ্ধিতে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার দুই শীর্ষ নেতা বিনয় তামাং এবং অনীত থাপা প্রয়োজনীয় কাজ করতে চান। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)-এর চেয়ারম্যান পদে নতুন মুখ চাইছেন। দার্জিলিংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক অমর সিং রাইকে চেয়ারম্যান করতে মোর্চা আগ্রহী। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের কাছে প্রস্তাব গিয়েছে। তবে, এখনও সবুজ সংকেত মেলেনি বলেই মোর্চা সূত্রের খবর। বিষয়টি নিয়ে অবশ্য বিনয় বা অনীত কেউই মুখ খুলতে চাননি।

গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে বিমল গুরুংয়ে সঙ্গে থেকে বিনয় ও অনীত সামনে থেকে আন্দোলন করেছেন। কিন্তু ২০১৭ সালে পাহাড়ে হিংসাত্মক আন্দোলনের পরপরই আচমকাই দুজনে বিমল গুরুংয়ে শিবির ছেড়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে হাত মেলান। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে রাজ্য সরকার জিটিএর প্রশাসনিক বোর্ড গঠন করে। বিনয় ও অনীত সেই বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান হন। ২০১৯ সালে দার্জিলিং বিধানসভার উপনির্বাচনে বিনয় তামাং তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে প্রার্থী হন। নিয়ম মেনে সেই সময় তিনি জিটিএর চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে দেন। অনীত থাপা নতুন চেয়ারম্যান হন। বিধানসভার উপনির্বাচনে বিজেপির কাছে প্রচুর ভোটের ব্যবধানে বিনয় হেরে যান। এরপরই পাহাড়ে বিনয়দের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্য সরকারের সঙ্গে হাত মেলানোয় পাহাড়ে গদ্দার ও গোর্খাল্যান্ড বিরোধী বলে বিনয়দের বিরুদ্ধে আওয়াজ ওঠে। অনীত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সফলভাবে জিটিএ চালাচ্ছেন। কিন্তু বিনয়রা দলীয় সংগঠনকে এখনও সেভাবে তৈরি করতে পারেননি। বরং রাজ্য সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে থাকায় পাহাড়ে তাঁদের গ্রহণযোগ্যতা সেভাবে নেই বললেই চলে।

- Advertisement -

তাই ভোটের কথা মাথায় রেখেই বিনয় কয়েকদিন আগে গোর্খাল্যান্ডের দাবি তুলে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন। তিনি যে গোর্খাল্যান্ড বিরোধী নন তা তিনি পাহাড়ের মানুষকে বোঝাতে চাইছেন। এরই পাশাপাশি বিধানসভা ভোটে পাহাড়ের তিনটি কেন্দ্রেই জয়ী হওয়ার লক্ষ্যে বিনয় দলীয় সংগঠনকে মজবুত করার কাজ করতে চান। তাই তিনি ও অনীত থাপা দুজনই যাতে সর্বক্ষণ পার্টির কাজ করতে পারেন সেই জন্যই মোর্চা জিটিএর চেয়ারম্যান পদে নতুন কাউকে বসাতে চায়। অমর সিং রাই ২০১৯ সালে তণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসাবে দার্জিলিং কেন্দ্রে লড়াই করেছেন। তিনি জিটিএর প্রশাসনিক বোর্ডের সদস্যও রয়েছেন। বিনয় তাঁকেই জিটিএর চেয়ারম্যান হিসাবে চাইছেন। জিটিএর চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে দিলে পাহাড়ের মানুষের কাছে ভোটের আগে একটা বার্তা দেওয়া যাবে বলে মোর্চা মনে করছে। কিন্তু জিটিএতে থেকে ভোটের লড়াইয়ে নামলে মানুষ দলের প্রার্থীদের গ্রহণ করবে না।