পর্যটকের অপেক্ষায় রয়েছে গোদক

শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা : এখানে দুদিকের দুই পাহাড়জুড়ে উঁকি দিচ্ছে ভুটানের টেন্ডু, বারে ও সামচির মতো তিনটি এলাকা। অন্য পাহাড়ে সিকিমের নাথু লা। অদূরে দৃশ্যমান না হলেও চিন সীমান্তের শুরু। ভারতের শেষ গ্রাম গোদকজুড়ে সবুজের পাশাপাশি রোমাঞ্চে শিহরিত হওয়ার এমন হাজারো আখ্যানের ছড়াছড়ি। এখনও পর্যটন মানচিত্রে উঠে না আসা ওই ভার্জিন স্পটকে পাদপ্রদীপের তলায় নিয়ে আসার প্রচেষ্টায় অবশ্য ত্রুটি নেই স্থানীয়দের। নিজেদের উদ্যোগেই সেখানে এলাকাবাসী ধীরে ধীরে হোমস্টে গড়ে তুলতে শুরু করেছেন।

কালিম্পং জেলার গরুবাথান ব্লকের জলঢাকা থানার অন্তর্গত গোদকে পৌঁছাতে গেলে আর পাঁচটা পাহাড়ি গ্রামের আঁকাবাঁকা রাস্তা বেয়ে উঠতে হবে। নাগরাকাটার উপকণ্ঠে ৩১সি জাতীয় সড়কের খুনিয়া মোড় থেকে চাপড়ামারির জঙ্গলচেরা যে রাস্তাটি ঝালংয়ের দিকে চলে গিয়েছে সেটাই গোদক পৌঁছানোর একমাত্র পথ। সময় লাগে ঘণ্টাদুয়েক। ঝালংয়ে পৌঁছানোর পর ওই রাস্তা আবার দুদিকে বাঁক নিয়েছে। বামদিকের রাস্তাটি দিয়ে সোজা গেলেই ডাকবাংলো, প্যারেনটার, গৈরিগাঁও, টুনসুন, সুরুকের পর চারদিকই পাহাড় দিয়ে ঘেরা গোদক। সেখানে পৌঁছানোর রাস্তাজুড়েও অপার সৌন্দর্যের হাতছানি। কোথাও পাহাড়ের ধাপ চাষ ধীরে ধীরে সমতলে নেমে এসে সবুজে চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। আবার কোথাও জানা-অজানা অর্কিড ও বাহারি ফুলের সমাহার যেন পটে আঁকা ছবি।

- Advertisement -

পুরো রাস্তায় সাত থেকে আটটি ঝরনা আগন্তুকদের পা ভিজিয়ে স্বাগত জানাবে। গোদকের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে পাহাড় থেকে নেমে আসা দাবাইখোলা নদী। সেটাই সামান্য দূরে আরেক পাহাড় থেকে নেমে আসা বিন্দুখোলার সঙ্গে মিশে পরে বিন্দুতে জলঢাকা নদীর সঙ্গে মিশে সমতলের দিকে এগিয়েছে। দাবাইখোলার ওপারে তিনদিক জুড়ে ভুটান। অন্য পাহাড়ে নাথুয়া সীমান্ত। নদী থেকে বয়ে আসা হিমেল বাতাস সারাবছরই এখানে সশব্দে বইতে থাকে। যে কারণে গোদকের আরেক নাম উইন্ড ভ্যালি। এখানে দুচোখের পাতা এক হয় অসীম নিঃস্তব্ধতায়। ঘুম ভাঙে হাজারো পাখপাখালির কিচিরমিচির শব্দে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গোদকে এখনও পর্যন্ত দুটি হোমস্টে গড়ে উঠেছে। যদিও তারপরই শুরু হয়ে যায় লকডাউন ও করোনা সংকট। ফলে স্থানটির অপার পর্যটন সম্ভাবনার প্রচার প্রসারও থমকে আছে।

প্রমোদ রাই নামে এক যুবক বলেন, নিরিবিলিতে প্রকৃতির মাঝে কাটাতে গোদকের জুড়ি মেলা ভার। পাহাড়, নদী, সীমান্তের এই স্থানে এলে যে কেউ যে গোদকের প্রেমে পড়ে যাবেন তা হলফ করে বলতে পারি। এখনও অনেকেই পাহাড়ি গ্রামটির কথা জানেন না। এটাই বড় বেদনার। এজন্য সরকারি পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। মালবাজারের পর্যটন ব্যবসায়ী রাজেন প্রধান বলেন, গোদককে পর্যটন মানচিত্রে তুলে আনা অত্যন্ত জরুরি। এতে ভ্রমণপিপাসুদের আকাঙ্ক্ষা পূরণের পাশাপাশি স্থানীয়স্তরে প্রচুর কর্মসংস্থানও হবে। রুটিরুজির জন্য বড় এলাচ, আদা ও ফুলঝাড়ুর মতো কৃষিকাজে নির্ভরশীল গোদক এখন পর্যটনকে কেন্দ্র করে মাথা তুলে দাঁড়াতে মরিয়া।