রায়গঞ্জের রাজপথ দখলে নিলেন দেবতারা

198

রায়গঞ্জ: রবিবার সকালে রায়গঞ্জ শহরের রাজপথ দখল নিয়েছিলেন ‘দেবতারা’। রাজপথ ধরে হেঁটে চলেছেন বাঁশি হাতে স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ। পাশে লাঙ্গল কাঁধে দাদা বলরাম। সঙ্গে গাড়ি ও গো-বৎস সমেত রাখাল বালকের দল। অষ্টসখী গোপ-গোপিনীর সঙ্গে আছেন বড়াই বুড়ি, জটিলা কুটিলারাও। সপার্ষদ রাখাল রাজা এদিন বৃন্দাবনের গোষ্ঠলীলা করতে নেমেছিলেন রায়গঞ্জের রাজপথে। এসব কোন মাটির তৈরি দেবদেবীর পুতুল বা মূর্তি নয়, শ্রীকৃষ্ণের গোষ্ঠ যাত্রা উপলক্ষে জ্যান্ত মানুষ নিজেকে সাজিয়েছ শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীরাধিকা, বলভদ্র সহ তাদের নানা সহচর রূপে। এদিন ছিল গোষ্ঠ উৎসব।

বাংলায় এই গোষ্ঠ উৎসব তেমন চালু না হলেও রায়গঞ্জ শহরে ধুমধামের সঙ্গে ৯৪ বছর হয়ে আসছে। এই অত্যাধুনিক বিনোদনের যুগেও শ্রীকৃষ্ণের বাঁশির ডাকে যেমন গোপীনীরা সব ফেলে ছুটে যেতেন শ্রীকৃষ্ণের কাছে, তেমন রবিবার সব কাজ ফেলে রায়গঞ্জের শিশু যুবক-যুবতী বৃদ্ধ-বৃদ্ধার দল যোগ দিয়েছিলেন গোষ্ঠ মিছিলে। কেউ শ্রীকৃষ্ণের সহচর সেজে কেউ বা দর্শক হিসেবে।

- Advertisement -

আজ থেকে ৯৪ বছর আগে এই উৎসবের প্রতিষ্ঠা করেন রায়গঞ্জের বন্দর এলাকার নিবাসী গোপাল চন্দ্র মন্ডল। বাংলাদেশের দিনাজপুরের মহারাজদের গোষ্ঠ উৎসবে গিয়ে তিনি পুত্র সন্তান লাভের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যদি তার মনোস্কামনা পূর্ণ হয়, তিনিও গোষ্ঠ উৎসব পালন করবেন ধুমধামের সঙ্গে। এরপরই ১৯২৭ সালে তার তৃতীয় স্ত্রীর গর্ভে পুত্র সন্তান লাভ করেন। গোপালবাবু ছেলের নাম রাখেন গোষ্ঠ বিহারী। পরে তিনি মানিকলাল মন্ডল নামে পরিচিত হন। গোপালবাবু ও মানিকবাবুর পর উৎসবের দায়িত্ব এখন মানিকবাবুর ভাই কানাইলাল মন্ডলের ওপর তবে পারিবারিক এই উৎসবটি আজ সার্বজনীন হয়েছে। বন্দর এলাকার অধিবাসীদের নিয়ে উৎসব কমিটি গঠিত হয়েছে।

উৎসব কমিটির সম্পাদক ভোলা সাহা বলেন, “আমাদের যে ছয়দিন ধরে অনুষ্ঠান চলত সেই অনুষ্ঠানটি এবার করোনার জেরে বাতিল করা হয়েছে। প্রত্যহ মন্দির প্রাঙ্গণে সকাল সন্ধ্যা আরতি ও কীর্তন অনুষ্ঠান হবে। আমাদের গোষ্ঠ উৎসবের যে নিয়ম সেই নিয়ম রক্ষার্থে আমাদের এই শোভাযাত্রা।”

এদিন সকাল আটটা নাগাদ বন্দর গোপাল বান্ধব পাঠশালা থেকে ভগবান শ্রীশ্রী কৃষ্ণ, বলরামজীর বিগ্রহ নিয়ে গোটা রায়গঞ্জ শহরজুড়ে মাস্ক পরে সামাজিক দূরত্ব মেনে মিছিল করেন উৎসব কমিটির সদস্যরা।