লাঠি হাতে ঘুম উড়েছে গোকুল গ্রামের, নেপথ্যে পবণপুত্র

160

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: গ্রামে সমাজবিরোধী কিংবা দুষ্কৃতীদের কোনও দৌরাত্ম্য নেই। তবুও লাঠি হাতে না নিয়ে ঘর থেকে বাইরে বের হওয়ার সাহস দেখাতে পারছেন না পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার গোকুল গ্রামের কোনো বাসিন্দা। কার ভয়ে গ্রামবাসী ও স্কুল পড়ুয়ারা এখন লাঠিকে সঙ্গি করেছেন তা জানলে সবারই চোখ কপালে উঠবে। তিনি অবশ্য কোনও কুখ্যাত ব্যক্তি নন, আদতে তিনি হলেন মুখপোড়া হনুমান। যিনি গত এক মাসে কামড় দিয়ে গ্রামের ২৫জন বাসিন্দাকে জখম করেছেন। দাপুটে এই হামলাকারীকে না গ্রামবাসী, না বনদপ্তর কেউই বাগে আনতে পারছে না। তাই মুখপোড়া পবনপুত্রের আতঙ্কে দিশেহারা গোকুল গ্রামের বাসিন্দা, প্রশাসন ও বনদপ্তর এখন পবনপুত্রকে বাগে আনার কৌশল হাঁতড়ে বেড়াচ্ছে।

গোকুল গ্রামের দক্ষিন মুসলিম পাড়ার বাসিন্দা সাহাবুদ্দিন মল্লিক জানান, মাসখানেক হল একটি হনুমান গ্রামে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। গ্রামের আট থেকে আশি কেউ হুনুমানের হামলার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। বাচ্চা ছেলেমেয়ে ও মহিলাদের বেশি টার্গেট করছে ওই হনুমানটি। ঘরের বাইরে বের কেউ হলেই গাছ থেকে নেমে তাকে আঁচড়ে, কামড়ে জখম করেদিচ্ছে হনুমান। এমনকি ধাক্কা মেরে ফেলেও দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে হনুমানের অত্যাচারে গ্রামের বাসিন্দারা কার্যতই দিশেহারা। তাই হনুমানে হাতথেকে বাঁচতে গ্রামের বাসিন্দারা এখন বাধ্য হয়ে তাই লাঠি হাতে নিয়েই ঘর থেকে বাইরে বের হতে বাধ্য হচ্ছেন। আতঙ্কে খুদে পড়ুয়ারা ঘর থেকে বাইরে বের হতে চাইছে না। তাদের প্রাইভেট পড়তে যাওয়াও শিকেয় উঠেছে।

- Advertisement -

খাদিজা বিবি মল্লিক ও হাফিজা মল্লিক জানান, হনুমানটি গাছের ডালে লুকিয়ে থাকছে। কেউ ঘরথেকে বাইরে বের হলেই অতর্কিতে আক্রমণ করছে। কামড়ে, আঁচড়ে দিচ্ছে। একমাসে গ্রামের ২৫জন হনুমানের আক্রমণে জখম হয়েছে। এই অবস্থায় কি করবেন বা কিভাবে রাস্তায় বের হবেন তার কুলকিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না। গ্রামের আনোয়ারা বিবি জানিয়েছেন, একবার নয়, দু’বার তিনি হনুমানের আক্রমনের শিকার হয়েছেন। তাই ইঞ্জেকশনও নিয়েছেন, ওষুধ খাচ্ছেন।

গোকুল গ্রামের বাসিন্দাদের অনেকেই বলেন, ‘খ্যাপা হনুমানকে ধরতে বনদপ্তরের লোকজন দু’বার গ্রামে এসেও ধরতে পারেনি।’ হনুমানের আতঙ্কে গ্রামের মানুষজনের স্বাভাবিক কাজকর্ম শিকেয়  উঠেছে। গ্রামবাসীরা চাইছেন বনদপ্তর বিশেষ কোন ব্যবস্থা নিয়ে হনুমানটিকে খাঁচা বন্দি করুক। কারণ হনুমাণের আতঙ্কে ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছে গ্রামবাসীদের জনজীবন। এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া পাবার জন্য জেলা বনাধিকারিক দেবাশীষ শর্মাকে একাধিকবার ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন না ধরায় তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।