হাওড়ায় স্বর্ণ ঋণদানকারী সংস্থা থেকে লুট হওয়া সোনা উদ্ধার বর্ধমানে

0
142
- Advertisement -

বর্ধমান: হাওড়ার জগাছার পঞ্চাননতলায় স্বর্ণ ঋণদানকারী সংস্থা থেকে লুট হওয়া সোনা সহ পরিত্যক্ত গাড়ির হদিশ মিলল বর্ধমানের নবাবহাটে। শনিবার বিকালে দুষ্কৃতী দল হাওড়ার জগাছার একটি স্বর্ণ ঋণদানকারী সংস্থায় ঢুকে সংস্থার কর্মীদের একটি ঘরে আটকে রেখে প্রচুর সোনা লুঠ করে পালায় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পরেই ডাকাতদলটির বিষয়ে হাওড়া জেলা পুলিশ পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশকেও সতর্ক করে। তারপরেই পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ ২ নম্বর জাতীয় সড়কে বর্ধমানের নবাবহাট মোড় সহ বিভিন্ন জায়গায় নাকা চেকিং চালানো শুরু করে। তাতেই মেলে সাফল্য। চেকিং চালানোর সময়েই পুলিশের নজরে আসে নবাবহাট মোড়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি সাদা গাড়ি। ওই গাড়িতে কোনও আরোহী ছিল না। সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ ওই গাড়িতে তল্লাশি চালায়। গাড়ির পিছনের সিটে দুটি প্লাস্টিকের ও একটি সাধারণ ব্যাগ মেলে। গাড়ির মধ্যে থাকা সেই সব ব্যাগ থেকেই মেলে সোনার হদিশ।

ব্যাগ সহ গাড়ি বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ বর্ধমান থানায় নিয়ে যায়। বর্ধমান থানার পুলিশ একপ্রকার নিশ্চিত হয় হাওড়ার জগাছায় স্বর্ণ ঋণদানকারী সংস্থায় ডাকাতির ঘটনায় জড়িতরা এই গাড়িতে চড়েই সোনা নিয়ে পালাচ্ছিল। গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করেই পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ খবর দেয় হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটে। রাতে হাওড়া কমিশনারেটের পুলিশ বর্ধমান থানায় পৌঁছে ওই গাড়িতে থাকা ব্যাগগুলি খোলে। পুলিশের অনুমান, স্বর্ণ ঋণদানকারী সংস্থায় ডাকাতির পুরো সোনাটাই ওই ব্যাগগুলিতে রয়েছে। জগাছার স্বর্ণ ঋণদানকারী সংস্থা থেকে হিসাব মেলার পরেই পুরো সোনা উদ্ধার হয়েছে কিনা সেই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে পুলিশের দাবি। গাড়ির আরোহীদের খোঁজে জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে খানা তল্লাশি। হোটেল, ধাবা, দূরপাল্লার বাস সবেতেই নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। মোবাইল টাওয়ার লোকেট করেও ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের গতিবিধি জানার চেষ্টা চলছে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্যাণকুমার সিংরায় বলেন, শনিবার বিকাল ৩টে নাগাদ হাওড়া কমিশনারেট থেকে খবর আসে। তারপরেই জেলার বিভিন্ন জায়গায় নাকা চেকিং করা হয়। মনে হয় নাকা চেকিং চলাকালীন পুলিশ দেখে দুষ্কৃতীরা গাড়ি ফেলে পালা। গাড়ি থেকে তিনটে ব্যাগ মিলেছে। তাতেই রয়েছে সোনা। দুষ্কৃতীদের ধরতে জেলাজুড়ে খানা তল্লাশি চালানো হচ্ছে। হাওড়ার জগাছার স্বর্ণ ঋণদানকারী সংস্থায় ডাকাতির ঘটনার আগে একই কায়দায় গত ১৭ জুলাই বর্ধমান শহরের বিসি রোড এলাকার একটি স্বর্ণ ঋণদানকারী সংস্থায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। দুষ্কৃতীরা সংস্থার অফিসে ঢুকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে নিরাপত্তারক্ষী ও কর্মীদের ভয় দেখিয়ে একটি ঘরে আটকে রেখে স্ট্রংরুম থেকে ৩০ কেজি ২০৫ গ্রাম ২০ মিলিগ্রাম সোনার গয়না নিয়ে চম্পট দেয়। এই ডাকাতির ঘটনার তদন্তে নেমে সিআইডি কর্তারা জানতে পারে বর্ধমানে স্বর্ণ ঋণদানকারী সংস্থায় ডাকাতির ঘটনায় জড়িত গ্যাংটি বিহারের।

গ্যাংটিকে ধরতে সিআইডির টিম এখনও বিহার ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে। ডাকাতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে সিআইডি ইতিমধ্যেই বিহারের বৈশালি জেলা থেকে সঞ্জয় কুমার রায়কে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃত বর্তমানে সিআইডি হেপাজতে রয়েছে। বর্ধমানে ডাকাতির সঙ্গে হাওড়ার গ্যাংটির সম্পর্ক রয়েছে কিনা তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। এদিনের ঘটনায় উদ্ধার হওয়া গাড়িটির নম্বর প্লেট ধরে পুলিশ মালিকের খোঁজ নিচ্ছে। গাড়ির নম্বর প্লেটটি আদৌ আসল কিনা তা নিয়েও পুলিশের সন্দেহ রয়েছে। গাড়িটি থেকে আরও কয়েকটি নম্বর প্লেট পাওয়া গিয়েছে। পুলিশ মনে করছে, নজরদারি এড়ানোর জন্য বিভিন্ন এলাকায় পৃথক নম্বর প্লেট ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল দুষ্কৃতীদের।

- Advertisement -