ময়নাগুড়ি : অভাবের সংসার। সংসারের হাল ধরতে বাবার সঙ্গে হাটে সবজির দোকান সামলাতে হয়। তারই মাঝে পড়াশুনা ও আর খেলা। শুধু অদম্য ইচ্ছার জোরে একের পর এক অ্যাথলেটিক মিটে সোনা জয় করছে ময়নাগুড়ি ব্লকের বৌলবাড়ি নীলকান্ত পাল হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র জয়দেব রায়। কলকাতায় সদ্য শেষ হওয়া রাজ্য অ্যাথলেটিক মিটের দুই ইভেন্টে সোনা জয় করে ফেরায় খুশির হওয়া জয়দেবের বিদ্যালয় ও তার গ্রাম বৌলবাড়ি জুড়ে।

জয়দেবের বাবা ফুলচান রায় সবজি ব্যবসায়ী। মা অলকা রায় ও এক দাদা ও দুই ভাই মিলে জয়দেবের পরিবারের সদস্য সংখ্যা মোট পাঁচ। এক দাদা বিশ্বদেব রায় গাড়ির চালক, সঞ্জয় দশম শ্রেণির ছাত্র। অভাবের সংসারের হাল ধরতে বাবার সঙ্গে হাটে সবজি বিক্রি করে জয়দেব। তারি মাঝে পড়াশুনা ও খেলার প্রশিক্ষণ নিয়ে চলেছে সে। বৌলবাড়ি নীলকান্ত পাল হাইস্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে ভরতির পর বিদ্যালয়ের খেলার শিক্ষক রাজীব ভট্টাচার্যের কাছে প্রশিক্ষণ শুরু হয় জয়দেবের। তারপর থেকে শুধুই এগিয়ে চলা। ২০১৮ রাজ্য বিদ্যালয় অথলেটিক্স মিটে নদিয়ায় শর্টপাট ও ডিসকাস থ্রোতে সোনা জেতে জয়দেব। চলতি বছর জলপাইগুড়িতে অনুষ্ঠিত আন্তঃজেলা রাজ্য অ্যাথলেটিক মিটে লং জাম্প ও শর্টপাটে সোনা জয়ের পাশাপাশি রাজ্যের সেরা অ্যাথলেট শিরোপা পায় সে। সদ্য কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে হওয়া রাজ্য অ্যাথলেটিক মিটে জাভলিন থ্রো ও পেন্টাথলন ইভেন্টে জোড়া সোনা জয় করে বাড়ি ফিরেছে জয়দেব।

জয়দেব জানায়, সংসারে নিত্যদিনের অভাব। কোনোদিন ভালো খাবার খেতে পারেনি। বিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজীব ভট্টাচার্যের আগ্রহে তার এতদূর সাফল্য। তার প্রশিক্ষণ ও অনুপ্রেরণায় সে এতদূর এগোতে পেরেছে বলে জানায় জয়দেব। জয়দেবের বাবা ফুলচান রায় জানান, সংসারে নিত্য দিনের অভাব। সংসার চালাতে ছেলেকেও সবজি বিক্রি করতে হয়। তার মাঝেও ছেলের এই সাফল্য তাঁকে গর্বিত করে। জয়দেব জানায় আগামী দিনে আরো ভালো খেলে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে চায় সে। তবে তার চাওয়া ও বাস্তবতার মধ্যে সবথেকে বড় অন্তরায় অর্থের। তবে তাকে সবরকমের সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়ছে তার বিদ্যালয়ের তরফে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নীরদচন্দ্র রায় জানান, অর্থের অভাব ছাত্রটির জাতীয় স্তরের  প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ যাতে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেটা দেখা হবে। বিদ্যালয়ের খেলার শিক্ষক রাজীব ভট্টাচার্য জানান, জয়দেবের যা প্রতিভা তাতে সে জাতীয় স্তরেও ভালো ফল করবে এই বিষয়ে তিনি নিশ্চিত। তবে আগামীতে অর্থের অভাব তাকে কতটা এগোতে দেবে তা নিয়ে চিন্তায় তিনি।

ছবি-জয়দেব রায়

তথ্য ও ছবি- শুভদীপ শর্মা