এখনও না থেকে কোতুয়ালিতে রয়ে গিয়েছেন বরকত

156

কল্লোল মজুমদার, মালদা : একটা সময় ছিল যখন ভোট এলেই কর্মী-সমর্থকদের ভিড় জমত কোতুয়ালি ভবনে। মূল ফটক দিয়ে ঢুকলেই দেখা যেত, সামনের বারান্দায় চেয়ারে বসে স্থিতধী আবু বরকত আতাউল গনি খান চৌধুরী। মালদার মানুষের বরকতদা। দেখা যেত তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে কেউ এলাকার ভোট নিয়ে কথা বলছেন, তুলে ধরছেন নানা সমস্যার কথা। থুতনিতে হাত দিয়ে মনযোগ সহকারে সব শুনছেন প্রাজ্ঞ এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। শুধু মালদার মানুষের কথা শোনাই নয়, কোতুয়ালি ভবনের বারান্দায় বসে জেলার সঙ্গে রাজ্য কংগ্রেসেরও হাল ধরতেন বরকতদা। তাঁর মৃত্যুর পর কিছুদিন একইভাবে ওই একই জায়গায় বসে জেলা কংগ্রেস পরিচালনা করেছেন বোন রুবি নুর। তিনিও আজ নেই। পরিবর্তন হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। পরিবর্তন হয়েছে রাজনীতি পরিচালন পদ্ধতিও। কোতুয়ালি ভবনের চিত্রটাও পালটে গিয়েছে। এখন আর সাধারণ কংগ্রেস কর্মীদের ভিড় হয় না কোতুয়ালি ভবনে। কারণ, ওই ভবনের ঐক্য এখন ভেঙে চুরমার। গনিদুর্গে থাবা বসিয়েছে জোড়াফুল।

কোতুয়ালি মানেই বরকতদা। মালদার মিথ। জেলার রাজনীতিতে কোতুয়ালি ভবনের সঙ্গে যখন হাতচিহ্ন জুড়ে যায়, তখন মালদার সংখ্যালঘু মানুষ যেন একটা আশ্রয়ের সন্ধান পান। ভোট আসলেই সেই ছবিটা উঠে আসে বার বার। তথ্যও তাই বলে। তবে একবার মাত্র হারতে হয়েছিল বরকতদাকে। সেবার তিনি লোকসভা ভোটে হেরেছিলেন সিপিএম প্রার্থী দীনেশ জোয়ারদারের কাছে। বাকি সময়টা তিনি অপরাজেয়। তবে এই তথ্য শুধু লোকসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রেই। একসময় বিধানসভা ভোটে গনিদুর্গে থাবা বসিয়েছিল বামেরা। এখন অবশ্য পুরোনো দুই শত্রুর শত্রু এক। তাই এখন ওই দুই শত্রু একে অন্যের বন্ধু। হয়েছে জোট। মালদা জেলায় এখনও বাম-কংগ্রেস জোটের দাপট অটুট। সারা রাজ্যে তৃণমূলের রমরমা অবস্থাতেও লোকসভা কিংবা বিধানসভা নির্বাচনে এই জেলায় তারা একটি আসনও পায়নি। মাত্র কয়েকদিন আগে সেই আক্ষেপ শোনা গিয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়।

- Advertisement -

যদিও গনি মিথ ভাঙতে চেষ্টার কসুর করেননি তৃণমূলনেত্রী। তিনি ওই পরিবার থেকেই বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করেছিলেন বরকত সাহেবের ভাই নাসের খান চৌধুরী, ভাগ্নি শাহনাজ কাদরিকে। কিন্তু তাঁরা হেরে যান। লোকসভা নির্বাচনে উত্তর মালদায় তৃণমূলের প্রার্থী করা হয় গনি খানের আরেক ভাগ্নি মৌসম নুরকে। তিনিও বিজেপির কাছে পরাজিত হন। তবু হাল ছাড়েননি তৃণমূল সুপ্রিমো। মৌসমকে প্রথমে দলের জেলা সভানেত্রী, পরে রাজ্যসভার সাংসদ করেন।

এই মুহূর্তে কোতুয়ালি পরিবারে রয়েছেন এক সাংসদ, এক বিধায়ক। দুজনেই কংগ্রেসের। রয়েছেন তৃণমূলের এক রাজ্যসভার সাংসদ, একজন প্রাক্তন মন্ত্রী। অথচ এখন আর আগের মতো ভিড় হয় না কোতুয়ালি ভবনে। দুএকটি অনুষ্ঠান ছাড়া সারাটা বছর শুনসানই থাকে কোতুয়ালি ভবন। ভবন এখন আড়াআড়িভাবে ভাগ হয়ে গিয়েছে। তার দুদিকে এখন ঘাসফুলের দাপট। একদিকে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী নাসের খান চৌধুরী। অন্যদিকে রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম নুরের বাসভবন। মধ্যে কংগ্রেসের সাংসদ বাবা আবু হাসেম খান চৌধুরী এবং বিধায়ক ছেলে ইশা খান চৌধুরীর বসবাস। সময় বদলের সঙ্গে ছবি ওলটপালট খান চৌধুরি ভবনে। ফ্যাক্টর একটাই, বরকতদা।