‘খেলা’র আগে বিমল শরণে তৃণমূল

110

রাঙ্গালিবাজনা: চূড়ান্ত পর্যায়ের ‘খেলা’র আগে বিমল গুরুংয়ের শরণাপন্ন হল তৃণমূল। ভোট প্রচারের শেষদিন বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট বিধানসভার অন্তর্গত চা বলয়ে তৃণমূলের হয়ে প্রচার চালান গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুং। মাকরাপাড়ার কালীমন্দিরে পুজো দিয়ে বিভিন্ন চা বাগানে প্রচার চালান তিনি। এদিন মাদারিহাটের লঙ্কাপাড়া, হান্টাপাড়া, ধূমচীপাড়া, গ্যারগান্ডা, তুলসিপাড়া, দলমোর চা বাগানের বিভিন্ন জায়গায় প্রচারাভিযান চালান বিমল। গুরুংয়ের অভিযোগ, কথা দিয়ে কথা রাখেনি বিজেপি। তাই এবার তৃণমূল প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তবে এদিন বীরপাড়ার নিউ লাইনে আয়োজিত সভায় আসেননি বিমল গুরুং। এদিন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা একের পর এক চা বাগান খুলে যাওয়া, চা বাগানের শ্রমিক কর্মচারিদের মজুরি বৃদ্ধি, জয় জোহার পেনশন, চা সুন্দরী প্রকল্পের মতো জনকল্যাণমুখী সরকারি প্রকল্পগুলির কথা তুলে ধরেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শা, কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপিকে তুলোধোনা করেন তাঁরা।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে সমর্থন করেছিল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। সেবার মাদারিহাটে তৃণমূলের প্রার্থী ২২,০৩৮ ভোটে পরাজিত হন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মোর্চার অনীত গোষ্ঠী তৃণমূলকে সমর্থন করলেও অন্তরালে থেকেই বিজেপিকে সমর্থন করার কথা ঘোষণা করেছিলেন মোর্চা সুপ্রিমো বিমল গুরুং। সেবার মাদারিহাটে ৪৩,৮৩৮ ভোটে এগিয়ে যান বিজেপি প্রার্থী। স্বাভাবিকভাবেই, মোর্চার সমর্থনে এবার মাদারিহাট বিধানসভা কেন্দ্রটি দখলে আশায় বুক বেঁধেছে তৃণমূল। মাদারিহাট বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ২৪টি চা বাগান রয়েছে। এগুলির মধ্যে ১৯টি মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকে ও ৫টি চা বাগান রয়েছে জলপাইগুড়ি জেলার বানারহাট ব্লকে। চা বাগানে এখনও গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার অনেক কর্মী-সমর্থক রয়েছেন। বিশেষ করে হান্টাপাড়া, ধূমচীপাড়া, গ্যারগান্ডা, তুলসিপাড়া দলমোর, রামঝোরা, লঙ্কাপাড়া, মাকরাপাড়া চা বাগানগুলিতে একসময় মোর্চার একচেটিয়া সংগঠন ছিল। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ওই এলাকাগুলিতে বিরাট ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিল বিজেপি। তাই শেষদিন মোর্চা নেতা বিমল গুরুংকে এনে ওই এলাকাগুলিতে ঝড় তোলার আপ্রাণ চেষ্টা চালাল তৃণমূল। তবে, অখিল ভারতীয় আদিবাসী বিকাশ পরিষদ ও পরে মূলনিবাসী আদিবাসী বিকাশ পরিষদের নেতা রাজেশ লাকড়া এবার মাাদারিহাটে তৃণমূলের প্রার্থী হওয়ায় বেঁকে বসেছে মোর্চার একাংশ। কারণ, একসময় গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা ও আদিবাসী বিকাশ পরিষদের মধ্যে আদায় কাঁচকলায় সম্পর্ক ছিল। ভোটের ৩৬ ঘন্টা আগে বিমলের আহ্বানে সেই বরফ কতটা গলল তা নিয়ে ভোটের প্রচারের শেষদিনও প্রশ্ন কিন্তু থেকেই গেল।

- Advertisement -