পাহাড়ি শহর গোরুবাথানকে মাতাল ‘দি হালা ভাউজু হাট’

95

মালবাজার: শীতের রোদ ঝলমলে গরুবাথান। এখানকার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র সোমবাড়ে বাজারে সকাল থেকেই জমজমাট সাপ্তাহিক হাট। কিছুটা সময় পেরোতেই ঠাকুর বাড়ি থেকে উচ্চারিত হলো মন্ত্রধ্বনি। তারপর ডমরু, মাদল বাজিয়ে ‘দি হালা ভাউ জু’ আবেদন জানিয়ে চলল নৃত্যগীত। যে গান অনুরণিত হল পাহাড় জুড়ে। ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে এবারও অগ্রণী ভূমিকা নিল তরুণ প্রজন্ম।

গরুবাথানে সোমবারে বাজারের সাথে জড়িয়ে রয়েছে ‘দি হালা ভাউজু হাট’-এর ঐতিহ্য। দীপাবলীর পরের দ্বিতীয় সোমবারের হাটের নামই ‘দি হালা ভাউজু হাট’। জনশ্রুতি বলছে, বহু পূর্বে সাধারণত এখানকার পুরুষদের আয়ুষ্কাল সেরকম বেশি হতো না। ফলে হাটে দোকান সামলাতেন মহিলারাই। দীপাবলির পর পাহাড়জুড়ে উৎসব হত। সেই দলগুলি দীপাবলির পর দ্বিতীয় সোমবার হাটে একত্রিত হত। মারুনী নাচ-গান করে বাজার ঘুরত। ‘দি হালা ভাউজু’ (দিয়ে দিয়ে দিন বৌদি) বলে বিক্রেতাদের সম্বোধন করতেন। মাঝ পর্বে নানা সমস্যা এসেছে। তবুও এই বিশেষ ঐতিহ্য রক্ষার ক্ষেত্রে চেষ্টার ত্রুটি রাখা হচ্ছে না।এবারও স্থানীয়দের উদ্যোগেই ‘দি হালা ভাউজু হাট’ হল। আয়োজক কমিটিতে অগ্রণী ভূমিকায় এগিয়ে এসেছেন তরুণ প্রজন্ম। কমিটির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় প্রধান এলাকার তরুণ মুখ। সঞ্জয় বাবু বললেন, ‘একসময় বিশ্বায়নের প্রভাব আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উপরে পড়েছে। আমরা যেকোনোওভাবেই হোক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা করতে চাই। এর জন্যই আমরা দি হালা ভাউজু হাটের আয়োজন করেছি। এবারও ঠাকুরবাড়ি মন্দিরের পুজো হয়। নাচ-গান করে সকলেই হাট-বাজার ঘুরেছেন। সোমবারে বাজারের পাশে মঞ্চ গড়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। এখানে মারুনি নাচ,  ঢেউসি, মাদল গীত,  নেওয়ারি নৃত্য, নাটক ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হয়েছে। রুদ্র কারকি দি হালা ভাউজু হাটের বিশেষত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। এলাকার বিশিষ্ট সাহিত্যিক এবং হাস্য কবি উইলিয়াম ফিফন, স্থানীয় যুদ্ধবীর বেসিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক গোবিন্দ পারিয়ার প্রমূখ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আয়োজক কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা কাশীরাম প্রধান বলেন, ‘হাট এবং উৎসবে ভালো সাড়া মিলেছে।’ গরুবাথান হাটে এদিন দোকান দিয়েছিলেন মালবাজারের বিপুল হালদার। বিপুল বাবু বলেন, ‘আমরাও দিহালা ভাউজু হাটের জন্য অপেক্ষা করে থাকি। দারুন অনুভূতি হয়।’ পর্যটনে সঙ্গে যুক্তরাও উৎসাহিত। গরুবাথান ট্যুরিজম ডেভলপমেন্ট সোসাইটির অঙ্গদেন মোলামো, তব্রেজ হায়দার আলিরা বলেন, ‘এ ধরনের হাট এবং উৎসবের মাধ্যমে পর্যটনের ক্ষেত্রেও ভালো প্রভাব পড়ে।’

- Advertisement -