১৩ কিলোমিটার পথ হেঁটে মিলল পুলিশের সাহায্য

373

গাজোল: লকডাউনে কাজ হারিয়ে বেঙ্গালুরুতে আটকে পড়েছেন স্বামী। পাঠাতে পারছেন না টাকাপয়সা। চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন আদিবাসী গৃহবধূ মার্গারেট হাঁসদা। ঘরে রয়েছে এক ছ’মাসের একটি দুধের শিশু তিন সন্তান। হাতে সামান্য যে কয়টা টাকা ছিল তা দিয়ে কোনওরকমে সংসার টেনেছেন। কিন্তু বর্তমানে আর কিছুই নেই। কার্ড না থাকায় পাচ্ছেন না খাদ্যসামগ্রীও। তাই বাধ্য হয়ে ৬ মাসের শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে সাহায্যের আশায় ১৩ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে আসলেন গাজোলে। তার কথা শুনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন গাজোল থানার ওসি। আর্থিক সাহায্য দেওয়া হলো সাংবাদিকদের পক্ষ থেকেও।

গাজোলের দেওতলা অঞ্চলের বানিয়াপুকুর গ্রাম। এই গ্রামে বাস করেন আদিবাসী মহিলা মার্গারেট হাঁসদা (২৬)। স্বামী চন্দন টুডু ভিন রাজ্যে শ্রমিকের কাজ করেন। কাজ করতে গিয়ে তিনি আটকে পড়েছেন বেঙ্গালুরুতে। লকডাউন এর জেরে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে তাঁর রোজগার। চরম কষ্টের মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। টাকা পয়সা পাঠাতে পারছেন না। এদিকে সংসার এ রয়েছে আট বছর বয়সের এক ছেলে, সাড়ে তিন বছর বয়সের এক মেয়ে এবং মাস ছয়েক বয়সের এক ছেলে। স্বামী টাকা পয়সা পাঠানো বন্ধ করে দেওয়ায় এই কদিন হাতে যে কয়েকটি টাকা পয়সা ছিল তা দিয়ে কোন রকমে দিন গুজরান হয়েছে। এর পর বেঁচে থাকার তাগিদে বেশ কিছুটা দূরে একটি রাইস মিলে গিয়ে ফেলে দেওয়া ধানের পাতান বাড়িতে নিয়ে এসে তা থেকে ধান সংগ্রহ করতেন। তারপর সেই ধান বিক্রি করে কোন রকমে খাওয়া জুটতো। কিন্তু তাও বন্ধ হয়ে গেছে। এরপর লোকজনের বাড়িতে চেয়েচিন্তে যা পেতেন তা তুলে দিতেন ছেলে মেয়েদের মুখে। কিন্তু গ্রামের লোকেদের অবস্থাও এখন খারাপ। জায়ফলের সাহায্য করতে পারছেন না তারাও।তাই সাহায্যের আশায় ৬ মাসের শিশু সন্তানকে বুকে আঁকড়ে ধরে বানিয়া পুকুর থেকে গাজোল হেঁটে এসেছেন তিনি।

- Advertisement -

মার্গারেট হাঁসদা জানালেন তাঁর এবং তাঁর স্বামীর কোন রেশন কার্ড নেই। যার ফলে রেশন থেকে যে বিনামূল্যে চাল-আটা দেওয়া হচ্ছে তাও পাচ্ছেন না তিনি। তিনি শুনেছেন গাজোলে অনেক বড় বড় অফিসার থাকে। তাই সাহায্যের আশায় গাজোলে ছুটে এসেছেন। বেশিরভাগ রাস্তায় হেঁটেই এসেছেন।তবে মাঝে একটি অটো কিছু দূর পর্যন্ত নিয়ে আসে।তাঁর কথা শুনে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে তাঁকে আর্থিক সাহায্য করা হয়। যোগাযোগ করা হয় গাজোল থানার ওসি হারাধন দেব এবং এএসআই শুভেন্দু বিকাশপতি র সাথে। ওই আদিবাসী মহিলার অসহায়তার কথা শুনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তাঁরা। সংসার চালানোর প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে আসেন ওসি হারাধন দেব। সাথে অন্যান্য খরচ খরচার জন্য তুলে দেন বেশ কিছু টাকা। সাথে ব্যবস্থা করে দেওয়া হয় বাড়ি ফেরার। সাহায্য পেয়ে আপ্লুত মার্গারেট হাঁসদা কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন ভগবানকে তিনি দেখেননি। কিন্তু এদিন দারোগাবাবু ছাড়া অন্যরা যেভাবে সাহায্য করলেন তাতে তাদের মধ্যেই ভগবান কে দেখতে পেয়েছেন তিনি। মার্গারেট হাঁসদার বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয়েছেন গাজোল ব্লকের খাদ্য নিয়ামক তারক দেবনাথও।নিজে বাড়তি উদ্যোগ নিয়ে ওই মহিলার দিকে বাড়িয়ে দিয়েছেন সাহায্যের হাত। খুব দ্রুত ওই মহিলা এবং তাঁর পরিবার যাতে রেশন ব্যবস্থার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন তিনি।