বিধায়কদের টাকা খরচের হিসাবে চার নম্বরে গৌতম দেব 

457

পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি : চলতি আর্থিক বছরে বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের টাকা খরচের নিরিখে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক তথা পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব এখনও পর্যন্ত চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। জলপাইগুড়ি জেলার মধ্যে ধূপগুড়ির দলীয় বিধায়ক মিতালি রায় প্রথম স্থানে রয়েছেন। মালের দলীয় বিধায়ক বুলু চিকবড়াইকের পারফরম্যান্স-গ্রাফ সবচেয়ে খারাপ। জেলার সমস্ত বিধায়কের মধ্যে তিনি একদম শেষে রয়েছেন। শুক্রবার জেলাশাসকের দপ্তরে বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন ও জলপাইগুড়ি লোকসভার প্রাক্তন সাংসদের এলাকা উন্নয়ন তহবিলের টাকায় বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানেই এসমস্ত তথ্য উঠে আসে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জেতার লক্ষ্যে সংগঠন ও নিজের আসনকে সুরক্ষিত রাখতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার কলকাতার বৈঠকে বিধায়কদের নির্দেশ দেন। এই পরিস্থিতিতে জলপাইগুড়ির বিধায়কদের এলাকা উন্নয়ন তহবিলের টাকায় চলতি আর্থিক বছরে এখনও পর্যন্ত সেভাবে আশানুরূপ কাজ না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে।

গৌতমবাবু অবশ্য বলেন, এবারে লোকসভা নির্বাচনের পাশাপাশি পুজোর ছুটির সময় প্রকল্পের কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত এজেন্সি সেভাবে কাজ না করতে পারায় সমস্যা হয়েছে। মার্চ মাসের মধ্যেই আমি আমার এলাকা উন্নয়ন তহবিলের ১০০ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ করব। গতবারও আমি আমার বরাদ্দের পুরো টাকাটাই উন্নয়নমূলক কাজে শেষ করেছিলাম। পরিকল্পনা বিভাগের জলপাইগুড়ির জেলা আধিকারিক প্রভাত চট্টোপাধ্যায় বলেন, জেলার সাতটি বিধানসভায় বরাদ্দ করা ১৫ কোটি টাকার মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১১ কোটি টাকা খরচ হয়েছে । প্রাক্তন সাংসদের উন্নয়ন তহবিলের খরচ না হওয়া টাকা নিয়ে এদিনের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। নতুন সাংসদ জয়ন্ত রায় সবেমাত্র আড়াই কোটি টাকা পেয়েছেন। তিনি এখনও পর্যন্ত কোনো কাজ শুরু করেননি। বিভিন্ন প্রকল্পের বকেযা কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে নির্দেশ দেওযা হয়েছে বলে জেলাশাসক অভিষেক তিওয়ারি জানান।

- Advertisement -

সূত্রের খবর, বিধায়ক থাকাকালীন বিধায়করা তাঁদের পাঁচ বছরের সময়কালে সরকারের তরফে প্রতি বছরে ৬০ লক্ষ টাকা করে সবমিলিয়ে তিন কোটি টাকা পান। চার বছরের হিসাবে বিধায়করা ইতিমধ্যেই প্রায় ২ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা করে পেয়েছেন। বৈঠক সূত্রের খবর, উন্নয়নমূলক কাজে জলপাইগুড়ির বিধায়কদের কেউই এই টাকার পুরোটা এখনও পর্যন্ত খরচ করেননি। এই তহবিলের টাকায় এখনও পর্যন্ত ধূপগুড়িতে ৭৫.৪৪ শতাংশ, নাগরাকাটায় ৭১.৫ শতাংশ, ময়নাগুড়িতে ৬৯.৬৬ শতাংশ, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে ৬৯.২৯ শতাংশ, জলপাইগুড়িতে ৬৫.৪০ শতাংশ, রাজগঞ্জে ৬৩.০১ শতাংশ এবং মালে মাত্র ৫০ শতাংশ কাজ হয়েছে। পারফরম্যান্সের হিসাবে তালিকায় সবার আগে থাকা ধূপগুড়ির বিধায়ক মিতালিদেবী তাঁর বরাদ্দের ২ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকার মধ্যে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৮১ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন। নাগরাকাটার বিধায়ক শুক্রা মুন্ডা তাঁর বরাদ্দের ১ কোটি ৮৩ লক্ষ টাকার মধ্যে ১ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা, ময়নাগুড়ির বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারীর তাঁর বরাদ্দের ১ কোটি ৯৮ লক্ষ টাকার মধ্যে ১ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকা, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিধায়ক গৌতম দেব তাঁর বরাদ্দের ২ কোটি ৪০  লক্ষ টাকার মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন। অন্যদিকে, জলপাইগুড়ির কংগ্রেস বিধায়ক সুখবিলাস বর্মা তাঁর জন্য বরাদ্দ করা ২ কোটি ২৩ লক্ষ টাকার মধ্যে ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা এবং রাজগঞ্জের বিধায়ক খগেশ্বর রায় তাঁর বরাদ্দের ১ কোটি ৯১ লক্ষ টাকার মধ্যে ১ কোটি ৫২ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন। মালের বিধায়ক বুলু চিকবড়াইক এখনও পর্যন্ত তাঁর বরাদ্দের ২ কোটি ১৯ লক্ষ টাকার মধ্যে মাত্র ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন। প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ বিজয়চন্দ্র বর্মনের তহবিলে জমে থাকা ২ কোটি টাকার মধ্যে ১ কোটি টাকার কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

বুলুবাবু বলেন, প্রকল্পের তালিকা জমা দিতে দেরি হওযাতেই কাজ গতি পায়নি। পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে ব্যস্ত থাকার জেরে তাঁরা সেভাবে নিজেদের এলাকার উন্নয়নমূলক কাজে নজর দিতে পারেননি বলে রাজগঞ্জের বিধায়ক খগেশ্বর রায় ও ময়নাগুড়ির বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারী জানিয়েছেন। এদিনের বৈঠকে বিধায়ক ও প্রাক্তন সাংসদের প্রতিনিধিরা ছাড়াও অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) মলয় হালদার সহ সরকারি আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।