আয়ুর্বেদ চিকিৎসকদের অস্ত্রোপচারে ছাড়পত্র কেন্দ্রের

137

নয়াদিল্লি: আয়ুর্বেদ চিকিৎসকদের এবার অস্ত্রোপচারে ছাড়পত্র দিল কেন্দ্রীয় সরকার। তবে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ)। এতে রোগীদের নিরাপত্তাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলে মত চিকিৎসকদের একাংশের।

আয়ুর্বেদ চিকিৎসকদের অস্ত্রোপচারে ছাড়পত্র দিতে ২০১৬-র আয়ুর্বেদ স্নাতকোত্তর শিক্ষা আইনে সংশোধন ঘটিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ১৯ নভেম্বর সেই মর্মে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে কেন্দ্র জানায়, স্নাতকোত্তর স্তরে শল্য অর্থাৎ সাধারণ অস্ত্রোপচার এবং শালাক্য অর্থাৎ কান, নাক, গলা, চোখ, মাথা, হাড় এবং দাঁতের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে পড়ুয়াদের। কেন্দ্রের তরফে বলা হয়েছে, শল্য এবং শালাক্য চিকিৎসায় স্নাতকোত্তর স্তরের পড়ুয়াদের হাতে ধরে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে শিক্ষা সম্পূর্ণ হলে তাঁরা স্বাধীনভাবে অস্ত্রোপচার করতে পারেন।

- Advertisement -

কেন্দ্র জানিয়েছে, শল্য চিকিৎসার আওতায় অঙ্গচ্ছেদ, স্কিন গ্রাফটিং, ল্যাপারোটোমি এবং অ্যাডভান্সড গ্যাস্ট্রো-ইনটেসটিনাল অস্ত্রোপচার করতে পারবেন আয়ুর্বেদ চিকিৎসকরা। শালাক্য চিকিৎসার আওতায় চোখের ছানি কাটা, চোখের মণির জায়গা বদলের মতো অস্ত্রোপচার করতে পারবেন। ইচ্ছামতো তাঁরা বিষয় বেছে নিতে পারবেন। যাঁরা শিক্ষা সম্পূর্ণ করবেন, তাঁরা এমএস (আয়ুর্বেদ) শল্যতন্ত্র এবং এমএস (আয়ুর্বেদ) শালাক্যতন্ত্র উপাধি পাবেন। কিন্তু শুধুমাত্র স্নাতকোত্তর স্তরে প্রশিক্ষণের ভিত্তিতে এভাবে রোগীর স্বাস্থ্য নিয়ে ‘ছেলেখেলা’র তীব্র বিরোধিতা করেছেন ভারতীয় শল্য চিকিৎসক সমিতির সভাপতি পি রঘুরাম। এক সংবাদমাধ্যমে রঘুরাম বলেন, ‘অস্ত্রোপচার আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের অংশ। তাকে কোনও ভাবেই আয়ুর্বেদের সঙ্গে মেলানো যায় না। আয়ুর্বেদ শিক্ষার স্নাতকোত্তর স্তরে প্রশিক্ষণের ভিত্তিতে এমএস উপাধি তুলে দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাতে রোগীর নিরাপত্তার দায়িত্ব তুলে দেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে রোগীদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তার মান বিঘ্নিত হতে পারে।’

এ বিষয়ে একমত আইএমএ-র সভাপতি রাজন শর্মাও। তিনি বলেন, ‘এক দেশ এক চিকিৎসার মন্ত্রে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা ‘জগাখিচুড়ি’ হয়ে দাঁড়াবে। এতে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই দলে দলে ‘হাইব্রিড’ চিকিৎসক বেরিয়ে আসবেন, যা বিপর্যয় ডেকে আনবে।’

তবে এসব সমালোচনায় আমল দিতে নারাজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ান মেডিসিন (সিসিআইএম)-এর সভাপতি জয়ন্ত দেবপূজারি। তিনি বলেন, ‘গত ২০-২৫ বছর ধরেই আয়ুর্বেদে স্নাতকোত্তর স্তরে অস্ত্রোপচার, ইএনটি-র মতো বিষয় রয়েছে। বরাবর সার্জিক্যাল ওপিডি ছিল আমাদের। তবে এতদিন এর আইনি বৈধতার দিকে কেউ নজর দেয়নি। বহু যুগ ধরে যা হয়ে আসছে, তাকে এবার কাগজ কলমে বৈধতা দেওয়া হল।’