সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স অকেজো, সমস্যা দিনহাটা-২ ব্লকে!

সাহেবগঞ্জ : দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ধরে কোচবিহার জেলার দিনহাটা-২ ব্লকে সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা বন্ধ। বিপাকে পড়ছেন ব্লকের ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মানুষ। পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলছেন তাঁরা। সাহেবগঞ্জ বিডিও দপ্তর চত্বরেই বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে অ্যাম্বুল্যান্সটি। অ্যাম্বুল্যান্সটি চালু করা যায়নি। শুধু আশ্বাস মিলেছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে এ বিষয়ে উত্তরবঙ্গ সংবাদ-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সে সময় সাহেবগঞ্জের বিডিও জয়ন্ত দত্ত জানিয়েছিলেন, যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে বন্ধ অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা। গাড়িটি মেরামত করতে প্রায় ১ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর আশ্বাসও দেন তিনি। কিন্তু তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় নয় মাস। অথচ অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা সচল করতে বিন্দুমাত্র উদ্যোগ লক্ষ করা যায়নি বলে অভিযোগ। ববং লকডাউনের জেরে ভোগান্তি বেড়েছে। অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা চালু করতে ব্লক প্রশাসনের উদাসীনতার কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বিডিও বিষয়টি এড়িয়ে যান। জেলাশাসক পবন কাদিয়ান অবশ্য এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

দিনহাটা-২ ব্লকের নয়ারহাটা, বামনহাট, চৌধুরীহাট, কিশামত দশগ্রাম, সাহেবগঞ্জ, বড়শাকদল প্রভতি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে সবচেয়ে নিকটবর্তী দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালের দূরত্ব ১৫ থেকে ২০ কিমি। এর ফলে সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে সমস্যায় পড়তেন। দিনহাটা থেকে অ্যাম্বুল্যান্স ডেকে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে অনেকটাই দেরি হত। বেহাল রাস্তা দিয়ে ভ্যান বা রিকশায় রোগীকে হাসপাতালে নিতে গেলে রোগীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হত। তাই দীর্ঘদিন সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার দাবি জানাচ্ছিলেন এলাকাবাসী। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি মান্যতা দিয়ে প্রত্যন্ত এলাকায় অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা পৌঁছে দিতে ২০১১-১২ আর্থিকবর্ষে রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের সাংসদ তহবিলের টাকায় দিনহাটা-২ ব্লকে সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা চালুও করা হয়। অ্যাম্বুল্যান্সটি দিনহাটা-২ বিডিও অফিসের নিয়ন্ত্রাণাধীন। অভিযোগ, দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ধরে বন্ধ সেই সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা। এর ফলে ফের স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ব্লকের বাসিন্দারা। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হওয়ায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।

- Advertisement -

সাহেবগঞ্জের বাসিন্দা তথা কলেজ পড়ুয়া অপু বিশ্বাস বলেন, প্রায় তিন বছর ধরে বন্ধ সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা। সাহেবগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার একটি ক্লাবের অ্যাম্বুল্যান্স আছে। সেটিই ভরসা। কোনও কারণে সেই অ্যাম্বুল্যান্স পাওয়া না গেলে টোটো, ভ্যান ও বেসরকারি গাড়ি ডাকতে হয়। লকডাউনের জেরে সেসবও সঠিকভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। এতে ভোগান্তি বেড়েছে। অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা দ্রুত চালু করা দরকার। বামনহাট-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের কালমাটি এলাকার বাসিন্দা তথা কলেজ পড়ুয়া নকুল মোদক, শুকারুরকুঠি এলাকার বাসিন্দা আমিনুর হোসেন ও সাহেবগঞ্জের গৃহবধূ জ্যোৎস্না বর্মন শীঘ্রই সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার দাবি জানিয়েছেন।