সরকার-রাজ্যপাল সংঘাত ছাপিয়ে গিয়েছে অতীতের সমস্ত দৃষ্টান্তকে

40
প্রতীকী ছবি

কলকাতা: অনেকদিন ধরেই রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরের সঙ্গে রাজ্য সরকার ও শাসকদলের সংঘাত বাড়ছিল। সোমবার সকালের ঘটনা নিয়ে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে জমা হওয়া ক্ষোভ শেষপর্যন্ত রাজভবনের ফটকে এসে আছড়ে পড়ল। যা রাজ্যের ইতিহাসে প্রায় নজিরবিহীন।

অতীতে এই রাজ্যের একাধিক রাজ্যপালের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সংঘাত কিছু কম হয়নি। দুই রাজ্যপাল ধর্মবীরা ও ভৈরভ দত্ত পান্ডেকে নিয়ে অস্বস্তি ও বিক্ষোভের ঘটনা যথেষ্ট তিক্ত মুহূর্তের সৃষ্টি করেছিল কিন্তু তা সোমবারের মতো রাজভবনের দোরগোড়ায় এভাবে এসে পৌঁছোয়নি। স্বাভাবিকভাবেই এদিনের ঘটনার ফল যে ভবিষ্যতে আরও হিংসাত্মক আকার নিতে পারে এমনই আশঙ্কা রাজনৈতিক মহলের। রাজ্যের অতীত ইতিহাসে একাধিক রাজ্যপালের সঙ্গে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন ইস্যুতে দ্বন্দ্ব বা সংঘাত সংঘাত-সমস্যা হয়েছে আবার মিটেও গিয়েছে। এই বাংলায় ১৯৬৭ থেকে ৬৯-এ যুক্তফ্রন্টের আমলে আওয়াজ উঠেছিল ধর্মবীর বাংলা ছোড়ো, অভি ছোড়ো, জলদি ছোড়ো। ১৯৮১ থেকে ৮৩ প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট আমলেও তদানীন্তন রাজ্যপাল ভৈরব দত্ত পান্ডের সঙ্গে রাজ্যের সংঘাত হয়েছে। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে রাজ্যপালকে কটাক্ষ করে বলা হয়েছে, উনি বিডি পান্ডে নন, উনি বাংলা দখল পান্ডে। বাংলাকে দখল করতে এসেছেন।

- Advertisement -

রাজ্যপালের সঙ্গে রাজ্য সরকারের মতান্তর থেকে সংঘাতের অতীত এ রাজ্যে বহু পুরোনো। ১৯৮৪ তে এ পি শর্মা সরকার মনোনীত প্রার্থী রমেন পোদ্দারকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইস চ্যান্সেলরের পদে অনুমোদন না দিয়ে সন্তোষ ভট্টাচার্যের নাম অনুমোদন করেছিলেন। এই ঘটনা নিয়ে বামফ্রন্টের সঙ্গে তাঁর বিরোধ বহুদূর গড়ায়। আলিমুদ্দিন দলের নেতা, মন্ত্রীদের জানিয়ে দেয় তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর নির্দেশ ছাড়া কেউ রাজ্যপালের সভায় যোগ দেবেন না। ধর্মবীরা ও বিডি পান্ডেকে নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে বাংলায়। তবু তা এবার রাজ্যপাল ধনকরের বিরুদ্ধে শাসকদল তৃণমূলের বিক্ষোভের মতো সীমা ছাড়িয়ে যায়নি।

রাজ্যের দুই মন্ত্রী ও দুই প্রাক্তন মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করতে সিবিআইকে অনুমোদন দিয়ে রাজ্যপাল ধনকর যে ভূমিকা নিয়েছেন তার বিরুদ্ধে বাংলার শাসকদল তৃণমূল এদিন খড়্গহস্ত হয়ে ওঠে। কদর্যভাষায় রাজ্যপাল ধনকরকে আক্রমণ করা হচ্ছে। তৃণমূলের সাংসদ কলাণ বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপালকে পাগলা কুকুর ও রক্তচোষা বলেও অভিহিত করেছেন। আবার রাজ্যপালও ক্রমাগত সরকারের বিশেষত মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে টুইট করে যান।