ইসলামপুরে দখল হচ্ছে সরকারি জমি, চুপ প্রশাসন

অরুণ ঝা, ইসলামপুর : ইসলামপুর শহরে একরের পর একর সরকারি জমি লোপাট হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য দপ্তর, তিস্তা প্রকল্পের জমি ও পূর্র্ত দপ্তরের জমিই বেশি জবরদখল হয়ে যাচ্ছে। শহরে সরকারি জমি জবরদখল দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলছে। শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ড, ১৬ নম্বর ওয়ার্ড, ১০ নম্বর ওয়ার্ড, ৯ নম্বর ওয়ার্ড সহ বেশ কিছু এলাকায় সরকারি জমির জবরদখল হচ্ছে।

অন্যদিকে, শহরের মাঝখান দিয়ে যাওয়া ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের দুপাশে সরকারি জমি দখল করেই ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করছেন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, পুরসভা এইসব ব্যবসায়ীদের বিনা বাক্যব্যয়ে ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে দিচ্ছে। শুধু এটুকুই নয়, দোকানের সামনের ফুটপাথ ও দোকানের পিছন দিয়ে যাওয়া নিকাশিনালা দখল করে পাকা নির্মাণও হয়েছে। এইসব কাজে বাধা দেওয়া তো দূরের কথা, পুরসভা উলটে ঢালাও লাইসেন্স দিয়ে গিয়েছে। গত এক দশকে সরকারি জমি থেকে জবরদখল উচ্ছেদের নজির ইসলামপুর পুরসভায় নেই। জাতীয় সড়কের দুপাশ বাদ দিলেও শহরের সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল সংলগ্ন সরকারি জমি একের পর এক দখল হয়ে যাচ্ছে। একই কায়দায় নিউটাউন রোড এলাকাতেও সরকারি জমি দখল হচ্ছে। সবাই দেখেও না দেখার ভান করে রয়েছেন।

- Advertisement -

এর আগে পূর্ত দপ্তর সরকারি জমি থেকে জবরদখল উচ্ছেদ করতে প্রশাসনিক স্তরে একাধিক চিঠি চালাচালি করেছিল। একইভাবে স্বাস্থ্য দপ্তরের জমির জবরদখল রুখতে বছরকয়েক আগে জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের কর্তারা পুলিশ পর্যন্ত ডেকেছেন। কিন্তু আচমকাই আবার সমস্ত সক্রিয়তা থমকে গিয়েছে। ফলে শহরে সরকারি জমি লোপাটের ঘটনাও দিনের পর দিন বেড়ে চলেছে। ১১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার তৃণমূলের প্রাণগোপাল সাহারায় বলেন, আমার ওয়ার্ডেই কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ একর সরকারি জমি জবরদখল হয়ে রয়েছে। পূর্ত দপ্তরকে একাধিকবার লেখালেখি করেও কোনও সুরাহা হয়নি। সরকারি জমি দখলের ঘটনায় আমরাও অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি। ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালের সুপার ডাঃ নারায়ণ মিদ্যা বলেন, স্বাস্থ্য দপ্তরের জমির জবরদখল রুখতে রোগীকল্যাণ সমিতির সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল সীমানাপ্রাচীর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাকিটা তিনিই ভালো বলতে পারবেন।

পুরসভার প্রশাসক তথা রোগীকল্যাণ সমিতির সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, শহরের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি জমি দখলের ঘটনা অস্বীকার করা যাবে না। স্বাস্থ্য দপ্তরের জমি সংক্রান্ত বিষয়টি আমরা দেখছি। পূর্ত দপ্তরের তাদের আওতায় থাকা জমির দখল রুখতে সক্রিয়তা গ্রহণ করা উচিত। পূর্ত দপ্তরের ইসলামপুরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার প্রসেনজিৎ কুণ্ডুকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। রাজনৈতিক দাদাদের মদত ও কর্তৃপক্ষের ঢিলেমি ছাড়া শহরে বছরের পর সরকারি জমি জবরদখল ও কেনাবেচা আদৌ কি সম্ভব, এই প্রশ্নই শহরের মানুষের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে।