অশোকের দাবি মেনে তৃণমূল নেতাদের সরিয়ে নিল রাজ্য

435

শিলিগুড়ি: অশোক ভট্টাচার্যের দাবি মেনে শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসকমণ্ডলী থেকে তৃণমূল নেতাদের সরিয়ে নিল রাজ্য সরকার। প্রশাসকমণ্ডলীতে মেয়র ও আরও ৬ জন মেয়র পারিষদ স্থান পেয়েছেন। অশোক ভট্টাচার্য, রামভজন মাহাতো, কমল আগরওয়াল, শঙ্কর ঘোষ, শরদিন্দু চক্রবর্তী, মুন্সি নুরুল ইসলাম ও মুকুল সেনগুপ্ত প্রশাসকমণ্ডলীতে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, আগামী ১৭ মে অর্থাৎ রবিবার শিলিগুড়ি পুরনিগমের বর্তমান বোর্ডের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। চলতি বছরের মার্চে সারা দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হয়। ফলে পুরনিগমের মেয়াদ শেষের আগে নির্বাচন করা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে পুরসভায় প্রশাসক বসাতে উদ্যোগী হয় রাজ্য সরকার।

- Advertisement -

শুক্রবার রাজ্য সরকারের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে পুরনিগমে বোর্ড অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস বসানোর কথা বলা হয়। অশোকবাবুকে চেয়ারম্যান করে প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য হিসাবে রামভজন মাহাতো, মুন্সি নুরুল ইসলাম, মুকুল সেনগুপ্ত, শংকর ঘোষ, কমল আগরওয়াল, শরদিন্দু চক্রবর্তী, রঞ্জন সরকার, নান্টু পাল, রঞ্জন শীলশর্মা, দুলাল দত্ত, নিখিল সাহানির নাম ঘোষণা করা হয়। অর্থাৎ বর্তমান পুরবোর্ডের মেয়র, ডেপুটি মেয়র ও মেয়র পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে বিরোধী দলনেতা রঞ্জন সরকার সহ তণমূল কংগ্রেসের সব সিনিয়ার কাউন্সিলারকে প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য করা হয়।

রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান সিপিএম-এর দার্জিলিং জেলা সম্পাদক জীবেশ সরকার ও মেয়র অশোক ভট্টাচার্য। শুক্রবারই তাঁরা সিদ্ধান্ত মানছেন না বলে জানিয়েছিলেন। পুরনিগমের প্রশাসকমণ্ডলীতে তাঁদের পাশাপাশি  তৃণমূলের পাঁচ কাউন্সিলারকে নেওয়ায় রাজ্য সরকারের প্রস্তাব ফিরিয়ে  দেন অশোকবাবু। এদিকে, অশোকবাবুর রাজ্য সরকারের প্রস্তাব ফেরানোর সিদ্ধান্তকে দুর্ভাগ্যজনক বলে অ্যাখ্য়া দিয়েছিলেন পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব।

শনিবার ফের একবার সাংবাদিক বৈঠক করেন মেয়র। ৫ বছরে কিভাবে পুরনিগমে কাজ হয়েছে, সেসব তিনি তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি রাজ্যের কাছে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান। অবশেষে তাঁর দাবি মেনে নিল রাজ্য সরকার। এদিন রাজ্যের তরফে ফের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। যেখানে প্রশাসকমণ্ডলীতে মেয়র ও আরও ৬ জন মেয়র পারিষদ স্থান পেয়েছেন। প্রশাসকমণ্ডলী থেকে তৃণমূল নেতাদের সরিয়ে নিয়েছে রাজ্য।

এ বিষয়ে অশোক ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমি কিছুক্ষণ আগেই একটি রিভাইসড অর্ডার পেলাম। সেখানে প্রশাসকমণ্ডলীতে শুধুমাত্র আমাদের দলের ৭জনকে রাখা হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পাঁচজন কাউন্সিলারকে প্রশাসকমণ্ডলী থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আমরা এই দাবিই জানিয়েছিলাম। রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেছে। এজন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। এই মুহুর্তে আমাদের সকলেরই দায়িত্ব ঐক্যবদ্ধ ভাবে করোনা পরিস্থিতির মোকাবিলা করা। আমরা প্রশাসকমন্ডলীর দায়িত্বভার দ্রুত গ্রহণ করব। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের সহযোগিতা পাব-এই আশা রাখছি। প্রশাসকমন্ডলী পরিচালনার জন্য বিরোধীদেরও সহযোগিতা এবং পরামর্শ চাই।’

অন্যদিকে, এবিষয়ে পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, বর্তমানে করোনা মোকাবিলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। অশোকবাবুদের সমস্য়া থাকায় আমাদের ৫জন কাউন্সিলারকে সরিয়ে নিয়েছি। ওঁনাদের প্রতি শুভেচ্ছা রইল।