দুর্গাপুজো আয়োজনের গাইডলাইন প্রকাশ রাজ্যের

968

উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: সোমবার আসন্ন দুর্গাপুজোর গাইডলাইন প্রকাশ করল নবান্ন। এবছর করোনা মহামারীর মধ্যেই দুর্গাপুজো আয়োজিত হচ্ছে। তাই সংক্রমণ রুখতে পুজো কমিটিগুলিকে বেশকিছু পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে পুজো করতে হবে। মণ্ডপে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। খোলামেলা মণ্ডপ তৈরি করতে হবে। ২৪ সেপ্টেম্বর নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বিভিন্ন পুজো কমিটির সঙ্গে বৈঠকে পুজো আয়োজনের ব্যাপারে রাজ্য সরকার বেশকিছু সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল।

এদিন ফের নবান্নের তরফে দুর্গাপুজো আয়োজনের বিষয়ে একগুচ্ছ গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়েছে। গাইডলাইন অনুযায়ী:

- Advertisement -

১) মণ্ডপে পর্যাপ্ত স্পেস থাকতে হবে এবং সবদিক খোলা রাখতে হবে। যদি কোনও কারণে সিলিং আটকানো থাকে, তবে মণ্ডপের চারদিক খোলা রাখতে হবে। আর যদি মণ্ডপের সবদিক বন্ধ থাকে, তবে সিলিং উন্মুক্ত রাখতে হবে। মণ্ডপে যাতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, সেদিকে পুজো কমিটিগুলিকে নজর দিতে হবে। মণ্ডপের ভেতরে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য আলাদা গেট থাকতে হবে।

২) দর্শনার্থীদের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। তবে কোনও দর্শনার্থীর মাস্ক না থাকলে সংশ্লিষ্ট দর্শনার্থীর জন্য পুজো কমিটিকে মাস্কের ব্যবস্থা করতে হবে। মণ্ডপে স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। তা ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।

৩) পুজো কমিটিগুলিকে পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করতে হবে। মণ্ডপে যাতে শারীরিক দূরত্ব বজায় থাকে, তাঁরা সেটা দেখবেন। এছাড়া দর্শনার্থীরা যাতে ঠিকমতো মাস্ক পরেন ও স্যানিটাইজার ব্যবহার করেন, সেটাও দেখভাল করবেন স্বেচ্ছাসেবকরা। ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে দর্শনার্থীরা অঞ্জলি ও সিঁদুর খেলায় অংশ নিতে পারবেন। অঞ্জলির সময় ভক্তদের নির্দিষ্ট দূরত্বে দাঁড়াতে হবে। অঞ্জলির জন্য সকলকে বাড়ি থেকে ফুল নিয়ে আসতে হবে।

৪) মণ্ডপে কোনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না।

৫) প্রতিবছরই বিভিন্ন সংস্থার তরফে মণ্ডপ, প্রতিমা, আলোকসজ্জার জন্য বিভিন্ন পুজো কমিটিকে শারদসম্মান দেওয়া হয়। কিন্তু এবছর সেসব পুরস্কারের জন্য বিচারকদের মণ্ডপে প্রবেশে কিছু বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। একসঙ্গে বিচারকদের দুটি গাড়িকে মণ্ডপ চত্বরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হবে। বেশি সংখ্যক বিচারক একসঙ্গে মণ্ডপে প্রবেশ করতে পারবেন না। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিচারকদের মণ্ডপে ঢোকার অনুমতি থাকবে। তবে বিচারকরা ভার্চুয়ালিও মণ্ডপ পরিদর্শন করতে পারবেন।

৬) মণ্ডপের কাছে ও রাস্তায় ভিড় এড়াতে পুজো কমিটিগুলিকে বৈদ্যুতিন ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার চালাতে হবে।

৭) পুজোর উদ্বোধন ও বিসর্জনে বেশি সংখ্যক মানুষ উপস্থিত থাকতে পারবেন না। সব ক্ষেত্রেই মাস্ক পরা, স্যানিটাইজার ব্যবহার করা ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। উদ্বোধন ভার্চুয়ালিও করা যেতে পারে। বিসর্জনের আগে ও পরে ঘাট স্যানিটাইজ করতে হবে।

৮) পুজোর অনুমতির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলি অনলাইনে আবেদনের ব্যবস্থা করবে। ভিড় এড়ানোর জন্যই এই ব্যবস্থা করা হবে।

৯) তৃতীয়া থেকে মণ্ডপে প্রবেশে সাধারণ মানুষের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেবিষয়ে কমিটিগুলিকে যাবতীয় ব্যবস্থা করে রাখতে হবে।

১০) করোনা সংক্রমণের কথা মাথায় রেখে এবছর রাজ্য সরকারের কার্নিভাল হচ্ছে না। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে এবছর পুজো মণ্ডপের কাছে কোনও মেলার অনুমতি দেওয়া হবে না।

১১) এবছর পুজো কমিটিগুলিকে পরিষেবা প্রদানের জন্য দমকলকে কোনও ফি দিতে হবে না। পুরসভা ও গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিও পুজো উদ্যোক্তাদের সাহায্য করবে। পরিষেবা প্রদানের জন্য কোনও ফি নেবে না। পুজো আয়োজনের জন্য ক্লাবগুলিকে রাজ্য সরকারের তরফে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। পুলিশ ও প্রশাসন পুজো আয়োজনে উদ্যোক্তাদের সাহায্য করবে।