৬ দশক ধরে বাড়িতে চলছে সরকারি স্কুল

117

জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : পড়ুয়ার সংখ্যা ৩৩। চারজন শিক্ষক-শিক্ষিকাও রয়েছেন। কিন্তু ডোডালিয়াচর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজস্ব কোনও ভবনই নেই। জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের রংধামালিতে এই প্রাথমিক স্কুলটি বহু বছর ধরে এলাকার বাসিন্দা ছায়ারানি সরকারের বাড়িতেই চলছে। গোপালকৃষ্ণ গান্ধি রাজ্যপাল থাকাকালীন তিস্তাচরের এই স্কুলে এসে মুগ্ধ হয়েছিলেন। সবার সমস্যার বিষয়টি জেনে স্কুলের ভবনের জন্য জায়গার সংস্থান করতে জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসনকে নির্দেশও দেন। কিন্তু কোথায় কী? তারপর ১৬ বছর কেটে গিয়েছে। স্কুলের ভবনের জন্য একটি ইটও গাঁথা হয়নি। আখেরে কোনওদিন গাঁথা হবে কি? সেই প্রশ্নটাই এখন সবার মনে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে জলপাইগুড়ি জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহের পরিদর্শক মানবেন্দ্র ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁর প্রতিক্রিয়া, ডোডালিয়াচর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের জায়গার জন্য আমরা অতিরিক্ত জেলা শাসকের দৃষ্টি আকর্ষণের পাশাপাশি ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের কাছে দরবার করব। জমি পেলেই স্কুলের ভবন তৈরি করা হবে।

- Advertisement -

রংধামালিতে তিস্তার চরের ছোটদের জন্য সাতের দশকে ডোডালিয়াচর প্রাথমিক বিদ্যালয়টি গড়ে ওঠে। জলপাইগুড়ি শহর রক্ষাকারী তিস্তার মূল বাঁধটির বেশিরভাগ এখানেই। চর এলাকা হওয়ায় স্কুলের জন্য জমি মেলা প্রথম থেকেই শক্ত ছিল। কিন্তু এলাকার নিম্নবিত্ত পরিবারগুলির পড়ুয়াদের সমস্যা তো আর থেমে থাকবে না। তাই শিক্ষা দপ্তর স্কুলটি চালু করে। ভবনের অভাব মেটাতে ছায়ারানিদেবী এগিয়ে আসেন। তখন তাঁর বয়স অনেকটাই কম। তারপর থেকে তাঁর বাড়িতেই চরের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা চলছে। ছায়ারানি সরকারের বাড়ির প্রশস্ত উঠোনে প্লাস্টিক পেতে ক্লাস চলে। সরকারি আর পাঁচটি স্কুলের মতো এই স্কুলেও মিড-ডে মিলের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু ঘর ছিল না। সমস্যা মেটাতে ছায়ারানিদেবী তাঁর বাড়িতেই মিড-ডে মিলের ঘর তৈরির অনুমতি দেন। জলপাইগুড়ি সদর পঞ্চায়েত সমিতির তরফে ঘরটি তৈরি করে দেওয়া হয়। উঠোনে ক্লাস চললেও বৃষ্টি পড়লে ভোগান্তি বাড়ে। সেই সময় মিড-ডে মিলের ঘরের বারান্দায় ক্লাস চলে। কিন্তু এভাবে আর কতদিন? তাই তড়িঘড়ি মূল সমস্যা মেটানোর দাবি জোরালো হয়েছে।

ছায়ারানি বলছেন, এলাকায় মূলত গরিব মানুষেরই বসবাস। তাঁদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার স্বার্থে আমার বাড়িতে স্কুলের পড়াশোনার কাজ চালানোর অনুমতি দিই। আমার বাড়িতেই স্কুলের মিড-ডে মিলের ঘর তৈরি করা হয়েছে। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক রঞ্জিত্ রায় বলেন, এভাবে এতদিন ধরে সবার স্বার্থে তাঁর বাড়িটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ায় আমরা ছায়ারানিদেবীর প্রতি কৃতজ্ঞ।

বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন অবশ্য মূল সমস্যা মেটানোর দাবিতে সরব। নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সম্পাদক বিপ্লব ঝা বলেন, ডোডালিয়াচর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খুবই ভালোভাবে পড়াশোনা হয়। উপযুক্ত পরিকাঠামো পেলে এই মান আরও ভালো হবে। তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি নির্মল সরকার বলেন, দীর্ঘদিনের পুরোনো এই সমস্যা মেটাতে প্রশাসন যত তাড়াতাড়ি এগিয়ে আসে ততই ভালো।